রাশিয়া ও চিনের আর্থ – রাজনৈতিক সমীকরণ, উত্তর আফ্রিকায় সংঘর্ষের সমাধান, প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সম্পর্ক ও দেশের ভবিষ্যত. এই গুলি ও আরও নানা বিষয়ে চিনের কেন্দ্রীয় টেলিভিশনের সাংবাদিকদের কাছে তাঁর চিনের হাইনান শহরে ব্রিকস (ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন ও দক্ষিণ আফ্রিকা) সংস্থার শীর্ষবৈঠক উপলক্ষে সফরের প্রাক্কালে রুশ রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ কথা বলেছেন.

    অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ই হবে এই বৈঠকের সময়ে দ্বিপাক্ষিক ও সমস্ত পাঁচ পক্ষের একসাথে আলোচনার মূল বিষয়. বিশ্বের বিনিয়োগ বাজারে সম্মিলিত ভাবে স্ট্র্যাটেজি তৈরী করা ও বিশ্বের রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজেদের ভূমিকা নিয়েও কথা হবে, এই বিষয়ে দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন:

    "আজকের ব্রিকস এক সম্পূর্ণ ভাবে তৈরী হয়ে যাওয়া ব্যবস্থা, যেখানে বিশ্বের দ্রুত উন্নতি শীল দেশগুলি, যাদের মধ্য চিন, ভারত, ব্রাজিল, রাশিয়া ও এখন এমনকি দক্ষিণ আফ্রিকা প্রজাতন্ত্র পড়ে, তাদের একসাথে অবস্থান নির্ণয় করার কাজ হয়ে থাকে. আমি স্বাভাবিক ভাবেই আশা করবো যে, ব্রিকস দেশ গুলির সমস্ত নেতাদের সঙ্গেই আলাদা করে কথা হওয়ার, তার মধ্যে চিন গণ প্রজাতন্ত্রের সভাপতি হু জিনটাও রয়েছেন. আমরা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রশ্ন ও অবশ্যই আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমাদের পারস্পরিক রাজনৈতিক অবস্থান স্থির করা নিয়েও কথা বলবো".

    রাশিয়া শুধু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেই সক্রিয় দেশ নয়. এর আগে বহুবার এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিবাদের ক্ষেত্রে রাশিয়া মধ্যস্থতা কারী দেশের ভূমিকা নিয়েছে, অংশতঃ দুই কোরিয়ার মধ্যে বিবাদের সময়েও. আজ রাশিয়া সক্রিয় ভাবে বিশ্বের আরও একটি অংশে বিরোধের সমাধান খুঁজছে – তা হল উত্তর আফ্রিকাতে. এ কথা সত্য যে, শান্তিপূর্ণ ভাবে তার সমাধান করা সম্ভব হয় নি, আর লিবিয়ার পরিস্থিতি বর্তমানে পরস্পরের সঙ্গে যুদ্ধে রত শক্তি দের নাগালের বাইরে চলে গিয়েছে, দিমিত্রি মেদভেদেভ তাই বলেছেন:

    "এই পরিস্থিতিকে গাদ্দাফি আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না, কারণ দেশে চারদিকে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে, আর তিনি প্রচুর এমন সব কাণ্ড করে বসেছেন, যা দেখা হতে পারে অন্যভাবে, তার মধ্যে অপরাধ বলেও উল্লেখ করা যেতে পারে. এই পরিস্থিতি বর্তমানে ন্যাটো জোটও নিয়ন্ত্রণ করছে না, তাদের কাছে প্রসারিত ভাবে অপারেশন করার মতো দায়িত্ব দেওয়া হয় নি. আর আকাশ পথকে উড়ান মুক্ত করার কাজ বাস্তবে শক্তি প্রয়োগেই পরিনত হয়েছে. কিন্তু তাতেও কোন ফল পাওয়া যায় নি. দেশের নিয়ম শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হলে আন্তর্জাতিক দায়ভার নিয়েই কাজ করতে হবে. প্রত্যেক পক্ষকেই নিজেদের কাঁধে নির্দিষ্ট দায়িত্ব তুলে নিতে হবে. আর বুঝতে হবে যে, এখন এই কাজের উপরে নির্ভর করছে লিবিয়ার একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসাবে বেঁচে থাকার ক্ষমতা".

    এই সাক্ষাত্কারে দিমিত্রি মেদভেদেভের সঙ্গে ভ্লাদিমির পুতিনের সম্পর্ক নিয়েও কথা হয়েছে. দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন – "আমাদের উষ্ণ ও বন্ধুত্ব মূলক সম্পর্ক, যা গত বিশ বছরে তৈরী হয়েছে, কিন্তু আজ আমাদের দুজনের দুটি আলাদা ভূমিকা আমি দেশের রাষ্ট্রপতি, সংবিধানের পালন ও সংরক্ষণের মূল দায়িত্বে. প্রশাসন নিজের কাজ করছে অর্থনীতি ও সামাজিক ক্ষেত্রে".

    "আমার পথের দিক চিহ্ন হল – দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক জীবনের আধুনিকীকরণ. আমরা বিগত কুড়ি বছরে যা কিছু ভাল করতে পেরেছি, তার থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চাই না, কিন্তু আমরা ভবিষ্যতের দিকে দেখতে বাধ্য. আমাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থা কি সম্পূর্ণ ভাবে ঠিক? না তা নয়, কিন্তু তারও অগ্রগতি হচ্ছে. আমাদের দেশে সংবিধান রয়েছে, যা সব মিলিয়ে দেশের বর্তমানে সামাজিক গঠনের প্রতিবিম্ব. আমাদের উচিত আমাদের সম্বন্ধে সেই সমস্ত সমালোচনার ক্ষেত্রে উন্মুক্ত থাকা, যা বিভিন্ন জায়গা থেকে করা হচ্ছে. কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, আমাদের যত ধরনের পথ বাতলে দেওয়া হচ্ছে, আমরা তার সবকটাতেই চলতে বাধ্য, কিন্তু মনোযোগ দিয়ে খুঁটিয়ে শোনা আমাদের কর্তব্য".

    রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি বলেছেন, "আমরা অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা বুঝে দেখতে চাই, সেই সমস্ত উপায় দেখতে চাই, কি করে অন্য অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উন্নতি হচ্ছে, যা দেখিয়ে দিয়েছে তাদের জীবনের সঙ্গে উপযুক্ত হওয়ার ক্ষমতা". দিমিত্রি মেদভেদেভ আরও একবার রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনাকে বাতিল করে দেন নি. প্রসঙ্গতঃ এই সিদ্ধান্ত খুবই তাড়াতাড়ি নেওয়া হতে পারে, কারণ পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে সময় রয়েছে এক বছরেরও কম.