ইউরি গাগারীনের মহাকাশ ভ্রমণ বিংশ শতাব্দীর এক উজ্জ্বল ও ভাগ্য নির্দেশক ঘটনা হতে পেরেছিল ও তা মানবেতিহাসের এক নূতন অধ্যায়ের সূচনা করেছে. রাশিয়ার লোকেরা এই বিষয়ে গর্ব অনুভব করেন যে, প্রথম ও নির্দিষ্ট পদক্ষেপ মহাকাশ অভিযানের ক্ষেত্রে তাঁদের দেশের লোকই করেছিলেন. এই বার্তা নিয়ে ইউরি গাগারীনের মহাকাশ অভিযানের সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে রাষ্ট্রসংঘের ৬৫তম সাধারন অধিবেশনে বক্তব্য পেশ করেছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ.

    তাঁর বার্তায় বলা হয়েছে যে, গত পঞ্চাশ বছরে মহাকাশ গবেষণা প্রযুক্তিগত ভাবে সবচেয়ে অগ্রসর হতে পেরেছে. তার মধ্যে রয়েছে মানুষের খোলা মহাকাশে বিচরন, মহাকাশ স্টেশন তৈরী, অন্য গ্রহের উদ্দেশ্য পরিক্রমা, বহু বিরল বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও পরীক্ষা. তাছাড়া মহাকাশ বর্তমানে খুবই ঘনিষ্ঠ ভাবে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার জায়গা হতে পেরেছে, যা সমস্ত মানব সমাজেরই উন্নতিতে সাহায্য করেছে. এই ধরনের সহযোগিতার উদাহরণ হিসাবে "সইউজ – অ্যাপেলো", "ইন্টারকসমস", "মির – শাটল" ও বিগত কালের একটি বিশাল প্রকল্প আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন রয়েছে.

    ভ্লাদিমির পুতিনের সভাপতিত্বে এই ঘটনার ৫০বছর উপলক্ষে সমগ্র রকেট – মহাকাশ শিল্পের উন্নতি নিয়ে আগামী দুই দশক বা ২০২০ সাল পর্যন্ত পরিকল্পনা সংক্রান্ত এক অধিবেশন হয়েছে. দেখাই যাচ্ছে যে, রাশিয়া নিজেদের মহান মহাকাশ গবেষণার দেশ হিসাবে অবস্থান বজায় রাখতে উদ্যোগ নিয়েছে. এখানে যথেষ্ট হবে বললে যে, বিশ্বের প্রায় অর্ধেক রকেট পরিবহন আজ রাশিয়া থেকে করা হচ্ছে. কিন্তু এটাই শেষ নয়, দেশে আরও নতুন দ্রুত অগ্রগতির জন্য এখনও যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন:

    "আমরা নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছি, আমাদের শক্তিশালী কর্মীদল রয়েছেন, বিরল উত্পাদন ক্ষেত্র রয়েছে, ভূপৃষ্ঠে পরিকাঠামো রয়েছে. আমাদের উপগ্রহ সমন্বয় বর্তমানে প্রায় একশরও বেশী ও তা পরম্পরা অনুযায়ী বৃদ্ধি করা হচ্ছে. তাছাড়া শুধু রাশিয়াই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের সাথে একই সঙ্গে সমস্ত রকমের প্রযুক্তি রাখে, যা দিয়ে পাইলট নিয়ন্ত্রিত উড়ান সম্ভব করা যায়, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের পরিকল্পনা বাস্তব করা সম্ভব হয়. আমাদের সহকর্মীদের সাথে আমরা ঠিক করেছি এই স্টেশনের ব্যবহার করার সময় ২০২০ অবধি বাড়ানোর. ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের মধ্যে নতুন রুশ বহু রকমের কাজের উপযুক্ত ল্যাবরেটরী মডিউল যোগ করা হবে. আর ২০১৬ সালের মধ্যে আমাদের আরও তিনটি ব্লক পাঠাতে হবে, যাতে সম্পূর্ণ ভাবে রুশ অংশের নির্মাণ করা যায়".

    দেশের প্রশাসন রকেট – মহাকাশ গবেষণাকে একটি প্রাথমিক গুরুত্বপূর্ণ শিল্প বলে নির্দিষ্ট করেছেন. এই বছরে মহাকাশ গবেষণা ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে প্রায় শতকরা তিরিশ ভাগ ও তা ৪০ কোটি ডলারের কিছু কম. এর পরেই আসছে অনেক গুলি বড় প্রকল্প. এর মধ্যে রয়েছে খুবই আলাদা রকমের এক আণবিক শক্তি উত্পাদনের কেন্দ্র, যা গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে যাত্রার জন্য সময় সীমাকে খুবই কম করতে সাহায্য করবে. আর আমুর অঞ্চলে নতুন মহাকাশ উড়ান কেন্দ্র "ভস্তোচনি" তৈরী করা হচ্ছে. এক সম্পূর্ণ নতুন ধরনের রকেট – পরিবহনের পরীক্ষাও করা হবে, যেমন, "আঙ্গারা" বা "রুশ" ধরনের. এছাড়া প্রায় দশটি আধুনিক মহাকাশ কমপ্লেক্স ও ব্যবস্থাও তৈরী করা হচ্ছে. প্রসঙ্গতঃ মহাকাশ বিষয়ক যন্ত্র ও প্রযুক্তির ব্যবহারিক দিকও হতে চলেছে খুবই প্রসারিত, এই কথা উল্লেখ করে ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন:

    "মহাকাশ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সক্রিয়ভাবে কাজে লাগানোর প্রয়োজন রয়েছে, টেলি যোগাযোগ ব্যবস্থা, খনিজ দ্রব্যের দূর থেকে অনুসন্ধান, আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ. মহাকাশ সংক্রান্ত শিল্প ও তার বৈজ্ঞানিক ও উত্পাদনের ক্ষমতা – আমাদের একটি বাস্তবিক ভাবে প্রতিযোগিতার উপযুক্ত সম্ভাবনা. প্রসঙ্গতঃ তা এমনই, যা নিয়ে গর্ব করা যেতে পারে. আর সেই বিষয়ে নেতৃত্ব দিতে হলে, কিছুতেই একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকলে চলবে না. এটা একটা অক্ষ".

    এখানে যোগ করবো যে, বর্তমানে মহাকাশ গবেষণায় উন্নতি - এক দারুণ সুযোগ রাশিয়ার সমস্ত শিল্পকেই উন্নত করে বিশ্বের বাজারে হাজির করার, যার পরিমান বহু হাজার কোটি ডলার.