লিবিয়ার সরকার আফ্রিকা সংঘের প্রতিনিধি দলের প্রস্তাবিত দেশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে পরিকল্পনার সঙ্গে একমত হয়েছে. এই সম্বন্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতি মধ্যস্থতা সংক্রান্ত প্রতিনিধি দলের একজন হিসাবে ঘোষণা করেছেন. রবিবারে জুমা ও তাঁর সঙ্গে একসাথে মাউরিটাস, মালী ও কঙ্গোর রাষ্ট্রপতিরা ত্রিপোলি শহরে লিবিয়ার নেতা মুহম্মর গাদ্দাফির সঙ্গে দেখা করেছেন.

    এই পরিকল্পনা অনুযায়ী অবিলম্বে যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা, দেশে মানবিক সাহায্য পৌঁছনোর উপযুক্ত পরিস্থিতি তৈরী করা ও বিভিন্ন বংশ ও সামাজিক সংগঠনের লোকেদের মধ্যে আলোচনা শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে. এই সম্পর্কে আফ্রিকা সংঘের মধ্যস্থতা কারী নেতারা মনে করেছেন যে, ন্যাটো জোটের তরফ থেকে মুহম্মর গাদ্দাফির সেনা বাহিনীর উপরে যে অবিরল বোমা বর্ষণ হয়ে চলেছে, তা বন্ধ করা হলে আলোচনা ও শান্তি আনার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরী হতে পারে. ত্রিপোলির পরে চার দেশের রাষ্ট্রপতি বেনগাজি গিয়েছেন, যেখানে লিবিয়ার বিরোধী পক্ষ শিবির তৈরী করে আছে ও তাঁরা আশা করেছেন বিরোধী পক্ষের কাছ থেকে সহমত আদায়ের.

    আফ্রিকা সংঘের প্রস্তাবিত লিবিয়ার বিরোধ মেটার পরিকল্পনার কোন সম্ভাবনা বাস্তবে রয়েছে কিনা তা সম্বন্ধে মন্তব্য করে লিবিয়াতে প্রাক্তন রুশ রাজদূত আলেক্সেই পদশেরব বলেছেন:

    "আমার দৃষ্টিকোণ থেকে, গাদ্দাফি ও লিবিয়ার নেতৃত্ব সমস্ত কিছুই করতে চায়, যাতে এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়. তাঁরা এর আগেও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের কথা বলেছেন. কিন্তু অন্য কথা হল, বিদ্রোহীরা কি রকমের প্রতিক্রিয়া দেখাবে. তারা এখনও সহমত হতে পারে নি. বর্তমানে মনে হচ্ছে, মনে হয়েছে যে, তারা সহমত হতে পারে এমন সম্ভাবনা বেড়েছে. কেন কারণ, ন্যাটোর তরফ থেকে বোমা বাজী করা স্বত্ত্বেও সরকারি ফৌজের অগ্রসর হওয়া অব্যাহত রয়েছে. সুতরাং, বিদ্রোহীরা এখন যে পরিস্থিতিতে রয়েছে, তা খালি খারাপই হচ্ছে. কিন্তু পশ্চিমের দেশ গুলি কি ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাবে তা বলা কঠিন. কারণ, একদিকে লিবিয়াতে বোধহয় শেষ অবধি শান্তি ফিরে আসছে আর রাজনৈতিক ভাবে পরিস্থিতির মোড় ফেরানোর একটা রাস্তা পাওয়া গিয়েছে. আবার অন্য দিকে যে সমস্ত লক্ষ্য নিয়ে পশ্চিম লড়াই করতে নেমেছিল, সেগুলির কোন রকম পূরণ হয় নি".

    আর এই বিষয়ে অন্যতম হল মুহম্মর গাদ্দাফিকে রাজনীতির অঙ্গন থেকে সরিয়ে দেওয়া. সমস্ত রকমের হিসাব স্বত্ত্বেও তিনি শুধু তাঁর অনিবার্য পতনোন্মুখ আসন থেকে শুধু ছিটকে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন, তাই নয়, এমনকি শেষ অবধি লড়াই করার প্রস্তুতি প্রদর্শন করতে পেরেছেন. ন্যাটো জোটের বোমা বর্ষণ এই অর্থে কোন ফল দিতে পারে নি. তারা যে রকমের বিদ্যুত্গতি জয়ের আশা করেছিলেন, তা হয় নি. তাছাড়া উত্তর অতলান্তিক জোটের মধ্যেই লিবিয়া সংক্রান্ত বিষয়ে নিজেদের মধ্যে বিরোধ বেড়েই চলেছে. একদল দেশ প্রথম থেকেই খোলাখুলি ভাবে এই অপারেশনে যোগ দিতে চায় নি. অন্যেরা বুঝতে দিয়েছে যে, তারা মানবিক সাহায্য করেই ক্ষান্তি দেবে. ন্যাটো জোটের সামনে এখন খুবই জটিল সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়. তাদের জন্য আফ্রিকা সংঘের মিশনকে সমর্থন করার অর্থ হল লিবিয়ার অপারেশন যে ব্যর্থ হয়েছে তা স্বীকার করা.

    এখন যখন কূটনীতিবিদেরা লিবিয়ার সমস্যাকে শান্তি পূর্ণ ভাবে সমাধান করতে চাইছে, গাদ্দাফি ও তার বিরোধী পক্ষের সেনা বাহিনীর মধ্যে সশস্ত্র যুদ্ধ কিন্তু অব্যাহত রয়েছে.