রাশিয়ার কোম্পানী গাজপ্রম দক্ষিণ এশিয়ার ১৫ কোটি লোক অধ্যুষিত বাংলাদেশে কাজ করতে তৈরী. বিশাল গাজপ্রম কোম্পানীর প্রধান আলেক্সেই মিলার ও এই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী দীপু মনি বাংলাদেশে সম্ভাব্য গ্যাস পরিবহন পরিকাঠামো ও খনিজ তেল ও গ্যাস উত্পাদন ক্ষেত্র অনুসন্ধান নিয়ে আলোচনা করেছেন.

    বৃহত্তম রুশ ও বিশ্বের গ্যাস উত্পাদক কনসার্ন বাংলাদেশে জ্বালানী ক্ষেত্রে একক ভাবে কাজ করার সুযোগ পেতে পারে. দুই পক্ষই বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, গাজপ্রম ও বাংলাদেশের গ্যাস ও খনিজ তেল উত্পাদক কোম্পানী পেট্রোবাংলা যথেষ্ট সম্ভাবনা দেখতে পেয়েছে দীর্ঘস্থায়ী লাভজনক পারস্পরিক সম্পর্ক নির্মাণের ক্ষেত্রে. বর্তমানে বাংলাদেশে খোঁজ পাওয়া গিয়েছে এমন খনিজ গ্যাসের ভান্ডারের পরিমান তিন হাজার ছয়-শ' কোটি কিউবিক মিটার ও তার থেকে মাত্র দুশো কোটি কিউবিক মিটার গ্যাস প্রতি বছরে উত্তোলন করা হয়ে থাকে. এই উত্তোলিত গ্যাসের সমস্তই দেশের ভিতরে বিদ্যুত ও কৃষির জন্য সার তৈরীর কাজেই ব্যয় করা হয়ে থাকে, আর দেশের জ্বালানী সংক্রান্ত তালিকায় নীল এই জ্বালানীর ভাগ, চার ভাগের তিন ভাগ. কিন্তু এই রকমের পরিস্থিতি হওয়া স্বত্ত্বেও দেশের অর্ধেকেরও কম মানুষের পক্ষে বিদ্যুত শক্তি ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে.

    বিশেষ কোন সুবিধার বিষয় না দেখলে, ব্যবসায়ে সমস্ত পক্ষেরই লাভ করা উচিত, এই কথা "রেডিও রাশিয়া" কে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে রাশিয়ার খনিজ তেল ও গ্যাস শিল্প সংঘের প্রেসিডেন্ট গেন্নাদি শ্মাল বলেছেন:

    "বাংলাদেশ নতুন ধরনের প্রযুক্তি পেতে চলেছে, যা আজ গাজপ্রমের কাছে রয়েছে, আর রয়েছে বিশাল ক্ষমতা সম্পন্ন খনিজ গ্যাস ও তেল উত্পাদনের কাজের অভিজ্ঞতা. আজ বিশ্বে গাজপ্রম এই বিষয়ে এক নেতৃত্ব স্থানীয় কনসার্ন হয়েছে, আর তার সঙ্গে কেউই পাল্লা দিয়ে খুবই বিরল ধরনের সরবরাহের পাইপ লাইন নির্মাণ করতে সক্ষম নয়. যে ধরনের ব্যবস্থা আমরা আমাদের দেশে বানাতে পেরেছি, বিশ্বে তা নেই. আমি এই ক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধ ভাবে তৈরী করা গ্যাস সরবরাহের পাইপ লাইনের কথা বলছি. এটি বিংশ শতাব্দীর এক অতি উন্নত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তির নিদর্শন. তাই বাংলাদেশ সহকর্মী হিসাবে এক অতি গুরুত্বপূর্ণ কোম্পানীকে পেতেই পারে, যাদের কাছে যেমন বিশেষজ্ঞ, তেমনই আর্থিক সম্পদের পরিমান আছে অনেক. আমাদের নিজেদের পক্ষ থেকে এখন শুধু পশ্চিমের দিকেই দেখা উচিত্ নয়, পূর্বের দিকেও তাকানো দরকার".

    রাশিয়ার সঙ্গে বিরাট আকারের জ্বালানী সংক্রান্ত সহযোগিতার ক্ষেত্রে কথা শুরু হয়েছিল গত বছরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মন্ত্রী সৈয়দ আবসুদ সামাদের সফরের সময়ে. আর গত দুমাস আগে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়েছে যে, তাদের দেশ গ্যাস পরিবহনের পাইপ লাইনের জন্য জ্বালানী সঙ্কটের মুখে, যা বর্তমানের প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম হচ্ছে না. তাছাড়া গত দশ বছরে বাংলাদেশে নতুন গ্যাস বা তৈল ক্ষেত্র অনুসন্ধানের জন্য কোন রকমের কাজ করা হয় নি, আর বর্তমানে যেগুলি কাজ করছে, তার ভান্ডার ক্রমশই শূণ্য হয়েছে. তার মধ্যে এই শিল্পের উপযুক্ত প্রযুক্তি ও পেশাদার লোকের অভাব, বাধ্য করছে সম্পূর্ণ ভাবে নতুন করে আবার সমস্ত কিছু শুরু করার. আর ঠিক এই ধরনের সম্ভাবনাই গাজপ্রম পারস্পরিক ভাবে লাভজনক হতে পারে এমন উপায়ে বাংলাদেশের সঙ্গে "ভাগ" করে নিতে তৈরী আছে.

    প্রসঙ্গতঃ, অল্প কিছু সময় আগে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ও তাঁর বাংলাদেশের সহকর্মীর সঙ্গে আলোচনার সময়ে জ্বালানী সংক্রান্ত ক্ষেত্রকে বেশী করে মনোযোগ দিয়েছেন. এখানে শুধু খনিজ তেল গ্যাস সংক্রান্ত বিষয়েই কথা হয় নি, বরং বাংলাদেশে প্রথম পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে উত্পাদন নিয়েও কথা হয়েছে. ফেব্রুয়ারী মাসে দুই দেশের মধ্যে চুক্তিটির পারস্পরিক ভাবে সম্পূর্ণ বয়ান তৈরী সমাপ্ত হয়েছে, এই চুক্তি অনুযায়ী রসঅ্যাটম সংস্থা ২০১৮ সালের আগে এই দেশে দুটি রিয়্যাক্টর স্থাপন করবে রূপপুরে. এই চুক্তির অর্থ মূল্য কুড়ি কোটি ডলার. বাংলাদেশের সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী - আগামী দশ বছরে দেশের বিদ্যুত শক্তি উত্পাদনের পরিমান চার গুণ বৃদ্ধি করা হবে. কুড়ি হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে দুই হাজার মেগাওয়াট দেবে এই রূপপুরের বিদ্যুত কেন্দ্র. বাকী পরিমান নতুন তাপ বিদ্যুত কেন্দ্র গুলি থেকে আসার কথা, যেখানে জ্বালানী হিসাবে গ্যাস ব্যবহারের কথা হয়েছে. সুতরাং রুশ কনসার্ন দেখতে পেয়েছে কাজের নতুন ক্ষেত্র.