আজ ১০ এপ্রিল,সমোলেনস্কীর অদূরে পোলিশ বিমান টিউ-১৫৪ বিধ্বস্ত হওয়ার ঠিক ১ বছর পূর্ণ হল.বিমানে অবস্থানরত পোলিশ প্রেসিডেন্ট লেখ কাচিন্সকী ও তার স্ত্রী এবং পোল্যান্ডের উচ্চপদস্থ রাজনীতিবীদসহ মোট ৯৬ জন যাত্রীর সবাই ঐ দূর্ঘটনায় নিহত হয়.এই প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ১৯৪০ সালে নিহত পোলিশ সামরিক কর্মকর্তাদের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে কাতিনে যাচ্ছিলেন.সমোলেনস্কীতে আজ শোক দিবস ও বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে.

সকাল ১০টা ৪১ মিনিট.সরকারি বিবৃতিতে এই সময় পোলিশ বিমানে দূর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে.দূর্ঘটনা স্থলে নিহতদের স্মরণে আজ  ১ মিনিট নিরবতা পালন এবং আকাশে সাদা পায়রা অবমুক্ত করা হয়.সমোলেনস্কীর অধিবাসীরা খুব ভোর থেকে স্মৃতিস্তম্ভের কাছে পোল্যান্ডের জাতীয় পতাকার সাদা-লাল রয়ের ফিতা নিয়ে আসছে.তারা নিহতদের স্মরণ করে মোমবাতি প্রজ্জলন ও প্রার্থনা করছে.

ভয়াবহ ঐ বিমান দূর্ঘটনা অতিবাহিত হওয়ার ১ বছর পর স্তানিসলাভা আফানাসেভা সেই দিনটি স্মরণ করে চোখের জল ধরে রাখতে পারেন নি.২০১০ সালের ১০ এপ্রিল তিনি অন্যান্য প্রবাসী পোলিশদের সাথে সমোলিনস্কীর কাতিনে ওয়ারশ থেকে রওনা হওয়া শীর্ষ প্রতিনিধি দলের জন্য অপেক্ষা করছিলেন.গ্রীষ্মের মত আবহাওয়া ছিল না,তাছাড়া অনেক ঘন কুঁয়াশা ছিল.অনুমান করা যাচ্ছিল যে,অনুষ্ঠান স্থগিত করা হবে.কিন্তু এরই মধ্যে পোল্যান্ড দুতাবাসের প্রতিনিধি ভয়ানক সংবাদ জানায়-‘আমাদের প্রেসিডেন্ট আমাদের মাঝে আর নেই’.সবাই কাঁদতে থাকে এবং অনেকে প্রার্থনা করে.বলছিলেন স্তানিসলাভা আফানাসেভা.

‘আমরাই হয়ত সবার প্রথম জানতে পারি,কারণ আমাদের সংস্থায় একজন লোক ছিলেন যাকে প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যে থেকে একজন টেলিফোন করেছিল.কেউই কোন কিছু বলে নি কিন্তু আমরা ইতিমধ্যে বিষয়টি জেনে গেছি.কিন্তু চিন্তা করতে পারি নি যে,তা এত ভয়ানক হবে.বিমান মাটিতে মুচঁড়ে পরেছে,এমনকি বিধ্বস্থ হয়েছে.হয়ত কেউ নিহত হয়েছে কিন্তু আমাদের প্রেসিডেন্ট নয় বা আমাদের পরিচিত জনের কেউ নয়.মনে হয়েছিল যে,দূর্ঘটনা এত ট্রাজিডীপূর্ণ হবে না.এরপর সবাইকে টেলিফোন করা হচ্ছিল এবং পরে টেলিভিশনের খবরে প্রচারিত হয়.সাহায্যের প্রস্তাব জানিয়ে অনেক অজানা ব্যাক্তির টেলিফোন আসে’.

বিমান বিধ্বস্তের স্থানটি সমোলেনস্কী বিমানঘাটিঁ(উত্তর) থেকে যা কয়েক মিটার দূরে অবস্থিত সেখানে পোলিশ ধর্মপ্রান লোকজন মিলিত হয়েছে.নিহতদের স্মরণে তারা পুষ্পস্তবক অর্পন এবং মোমবাতি প্রজ্জলন করছে.পোলিশ ছাত্র আনদজেই শুধুমাত্র কাতিনের সমাধি-চত্বর ও বিমানঘাঁটি পরিদর্শন করতে পোল্যান্ড থেকে সমোলেন্সকীতে এসেছেন.ট্রাজিডীর ১ বছর পর এই যুবক স্মরণ করছেন যে,তার ও তার পরিবারের জন্য এই সংবাদটি কতটুকো অপ্রত্যাশিত ছিল যা তারা ১০ এপ্রিল সকালে শুনেছিল.পোল্যান্ডের সব নাগরিকের জন্য তা ছিল শুধুই শোকের.বলছিলেন,আনদজেউ. ‘প্রথমে আমি বিশ্বাষ করতে পারি নি.ঘটনাটি অনেক বেশি কষ্টের.আমি বাবা-মা,বোন ও ভাইদের সাথে টেলিভিশনের সামনে বসেছিলাম এবং দূর্ঘটনার খবর দেখতেছিলাম.পুরো দিনই এইভাবেই বসেছিলাম.টেলিভিশনের খবরে আমরা দেখতে পেয়েছি যে,কিভাবে রুশিরা পোল্যান্ড দুতাবাসে ছুটো এসেছেন ,নিহতদের স্মরণ করছেন এবং সহমর্মিতা জানিয়েছেন.এই জন্য আমি রুশিদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি কারণ ঐ সময় আমরা অনুভব করতে পেরেছি যে,আপনারা আমাদের ভাই.আমার মনে হচ্ছে,ভবিষ্যতে তাই হওয়া উচিত’.

যখন বিমান দূর্ঘটনাটি ঘটে তখন স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসে.সমোলেনস্কবাসী মোমবাতি প্রজ্জলন করে এবং তা এমনকি পথেই রেখে দেয়.অনেক মানুষ প্রার্থনার জন্য সমোলেন্সকীর গির্জায় আসে.লোকজন নিজের কবিতা ও চিঠি নিয়ে আসে.এক বানীতে জনানো হয় ‘মানুষ নিহত হয়েছে এবং আমাদের ভূমিতে নিহতদের জন্য আমরা সোমোলেন্সকবাসী শোক প্রকাশ করছি’.