ভারতে বিখ্যাত সমাজ কর্মী আন্না হাজারে অনশন চালু রেখেছেন, তিনি দাবী করেছেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রামকে আরও কঠোর করার. বর্ষীয়ান স্বাধীনতা সংগ্রামী ও গান্ধী বাদী এই কর্মীর আত্ম নিগ্রহের কাজ দেশে বিপুল প্রতিধ্বনি তুলেছে. বিশয়ের সম্বন্ধে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    অনশনের কারণ হয়েছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রভাবশালী সামাজিক এক বিল না পাশ করা. ১৯৬৯ সালে এই লোকপাল বিল প্রথম ভারতের পার্লামেন্টের নিম্ন কক্ষে পাশ করা হয়েছিল ও তারপর বহুবার এই বিল লোকসভাতে উপস্থিত করা হয়েছে, কিন্তু পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষ বা রাজ্য সভা কখনোই এই বিলকে আইনে পরিনত হতে দেয় নি. এই আইনের রচনা করেছিলেন দেশের সর্ব্বোচ্চ আদালতের বহু বিখ্যাত প্রাক্তন বিচারপতি, নামী অ্যাডভোকেট, সমাজ কর্মীরা. গত ডিসেম্বরে এই বিলকে আবার লোকসভাতে পেশ করা হয়েছিল এবং প্রধানমন্ত্রী সমেত সমস্ত মন্ত্রীসভাও এই দলিলের পরিবর্তন নজর করতে পেরেছিলেন. লোকসভা ও রাজ্য সভা এই বিল নিয়ে আবারও কোন রকমের উদ্যোগ নিতে চায় না দেখে আন্না হাজারে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, তিনি আমরণ অনশন করবেন, দিল্লী শহরের যন্তর মন্তরে বসে. হতে পারে তাঁর এই কাজ দেখে অনেকেই অবাক হতে পারেন, তবে ভারত বর্ষের মানুষ সত্যাগ্রহের আদর্শে অনুপ্রাণিত এই মানুষের কাজ দেখে সবাই তাঁকে সমর্থন করেছেন অকুণ্ঠ ভাবে. কারণ এক সময়ে লবণ আন্দোলন বা সত্যাগ্রহের সময়ে জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীও বেছে নিয়েছিলেন স্বেচ্ছায় আত্ম নিগ্রহের পথ.

    রাশিয়ার ভারত বিশেষজ্ঞ লিওনিদ আলায়েভ এই বিষয়ে তাঁর সমর্থন জানিয়ে বলেছেন যে, এর জন্য প্রয়োজন বিশেষ সামাজিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা, যার ক্ষমতা হবে প্রচুর, যেমন দাবী করা হচ্ছে আজ সারা ভারত জুড়ে, তাই তিনি মন্তব্য করে বলেছেন:

    "অবশ্যই এই ধরনের কাজ সমাজের সক্রিয় সহযোগ ছাড়া সম্ভব নয়. সরকারের ভিতরেই প্রচুর দুর্নীতি. তাই সমাজের পক্ষ থেকে নিয়ন্ত্রণ খুবই প্রয়োজন. কি রকমের তার কাঠামো হতে হবে, তা অবশ্যই দেশ কাল পাত্রের উপর নির্ভর. হতে পারে নানা রকমের পরীক্ষার ফল সমাজের সামনে প্রকাশ করা উচিত. কিন্তু সরাসরি সামাজিক সংস্থার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ সবচেয়ে ভাল".

    এই বিষয়ে ভারতের পি টি আই সংবাদ সংস্থার রুশ দেশে প্রতিনিধি শ্রী বিনয় শুক্লা সদ্য ভারত থেকে ফিরে এসে মন্তব্য করেছেন:

    "সামাজিক সত্যাগ্রহ, যা আজ হাজারে করছেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে, তা ভারতের মানুষ বুঝতে পেরেছেন. ভারতে এখন দুর্নীতি চরমে উঠেছে. তা জনগনের চিন্তার কারণ হয়েছে. হাজারের সঙ্গে দেশের মন্ত্রী কপিল সিবাল দেখা করেছেন, প্রধানমন্ত্রীও কিছু বিষয়ে আন্না হাজারের সঙ্গে একমত".

    কিছু লোক অবশ্যই আছেন, যারা হাজারের সঙ্গে একমত নন. যেমন, ভারতের কৃষি মন্ত্রী শারদ পাওয়ার এর প্রতিবাদে দুর্নীতির বিরুদ্ধে গঠিত মন্ত্রী পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেছেন. আন্না হাজারে তাকেই সবচেয়ে দুর্নীতি গ্রস্থ বলে উল্লেখ করেছেন.

0     রাজনীতিতেও দুর্নীতি ভারতের উন্নতির পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে. ২০০৮ সালের মোবাইল ব্যবস্থা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ, কমনওয়েলথ গেমস আয়োজনে দুর্নীতি, সামরিক বাহিনীর অবসর প্রাপ্ত দের জন্য তৈরী ফ্ল্যাট দেশের সমগ্র পশ্চিমাঞ্চলে আত্মসাত্ করার অভিযোগ ও আরও বহু ধরনের দুর্নীতির খবরে আজ বিশ্বে ভারতের অর্থনৈতিক উন্নতি স্বত্ত্বেও সামগ্রিক চালচিত্র খুবই বিষণ্ণ প্রকৃতির. এই রকমের এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে আমাদের অভিনন্দন রইল আন্না হাজারের জন্য, তাঁর কাজে যেন দেশে ও তার সঙ্গে সমস্ত বিশ্বব্যাপী দুর্নীতির অবসান শুরু হয়, আমরা তাঁর স্বাস্থ্য কামনা করি ও তাঁর কাজের সাফল্য প্রার্থনা করি.