আক্রমণাত্মক অস্ত্রসজ্জা কমানোর জন্য নতুন চুক্তি পরমাণু বিপদ শূণ্য বিশ্বের দিকে যাওয়ার শুরুর পথে প্রথম দিক চিহ্ন হতে পারে. এই রকম করেই রুশ ও আমেরিকার বিশেষজ্ঞেরা ঐতিহাসিক তৃতীয় স্ট্র্যাটেজিক আক্রমণাত্মক অস্ত্রসজ্জা চুক্তির প্রথম বার্ষিকীর প্রাক্কালে এই দলিলের অস্তিত্বকে স্বাগত জানিয়েছেন. রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতিরা দিমিত্রি মেদভেদেভ ও বারাক ওবামা ২০১০ সালের ৮ই এপ্রিল প্রাগে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন.

    নতুন চুক্তি দুই পক্ষকেই নিয়মিত নিজেদের স্ট্র্যাটেজিক শক্তি ও তার সঙ্গে সেই শক্তির কাঠামোতে, অবস্থান ও অনুপাতে কোন রকমের পরিবর্তন হলে তা জানাতে বাধ্য. সরকারি ভাবে তথ্য বিনিময় ছাড়া তৃতীয় চুক্তি প্রত্যেক পক্ষকেই অন্যের দেশে গিয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করার ক্ষমতা দিয়েছে, তবে প্রথম স্ট্র্যাটেজিক আক্রমণাত্মক অস্ত্রসজ্জা সংক্রান্ত চুক্তির তুলনায় নতুন চুক্তিতে এই ধরনের পর্যবেক্ষণের সংখ্যা অনেক কমে গিয়েছে.

    প্রথম বার দুই পক্ষই তাদের নিজেদের দেশে এই চুক্তি গ্রহণের বিষয়ে দলিল বিনিময়, যা হয়েছে ২০১১ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারী, তার ৪৫ দিন পরে তথ্য বিনিময় করতে বাধ্য ছিল. কিন্তু আমেরিকার পারমানবিক বিপদ হ্রাস কেন্দ্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক পারমানবিক শক্তি সম্বন্ধে তথ্য রাশিয়ার পক্ষকে ২০ শে মার্চ দিয়ে দিয়েছে, আর রাশিয়ার পারমানবিক বিপদ হ্রাস কেন্দ্র থেকে রাশিয়া সম্বন্ধে তথ্য তারা পেয়েছে ২২শে মার্চ.

    তা ছাড়া নির্দিষ্ট জায়গায় পারমানবিক অস্ত্রের প্রথম পারস্পরিক পরীক্ষা এর মধ্যেই হয়ে গিয়েছে. ১৮ই মার্চ আমেরিকার সামরিক বাহিনী সামরিক ঘাঁটি ডেভিস মনটান নামের জায়গায় বি – ১ বি ভারী বোমারু বিমান রুশ বিশেষজ্ঞদের দেখিয়েছে. এই বিমান গুলিকে আর স্ট্র্যাটেজিক পারমানবিক অস্ত্র বাহক বলে বিচার করা হয় না, সুতরাং রুশ পক্ষ সরকারি ভাবে এই ধরনের বিমানের পরমাণু শক্তি বিহীণ অবস্থায় নতুন করে অস্ত্রসজ্জার বিষয়ে অবহিত হয়েছে, যাতে তৃতীয় চুক্তি থেকে এই ধরনের বিমানকে বাদ দেওয়া যেতে পারে. নিজেদের পক্ষ থেকে রাশিয়া আমেরিকার প্রতিনিধি দলকে দেখিয়েছে একই বিভিন্ন লক্ষ্যে আক্রমণ করতে পারে এমন বিভক্ত হতে পারে বোমা সহ চলমান আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক রকেট আর এস – ২৪ (ইয়ারস).

    মস্কো ও ওয়াশিংটনের কাজ বিচার করে মনে হয়েছে যে, এই চুক্তি দুই পক্ষের কাছেই লাভজনক. অংশতঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সামরিক রাজনীতি বিষয়ের প্রাক্তন ডিরেক্টর স্টিভেন অ্যান্ডারসন উল্লেখ করেছেন যে, "তৃতীয় স্টার্ট চুক্তি থেকে পরমাণু বিপদ শূণ্য পৃথিবীর দিকে পথচলা বোধগম্য হতে পেরেছে. এর পর থেকে তা হবে সম্পূর্ণ ভাবে বাস্তব ও সম্ভাব্য বিষয়". রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির দ্ভোরকিন তাঁর সঙ্গে একমত হয়েছেন. বিশ্লেষক মনে করেছেন যে, পারমাণবিক বোমা শূণ্য বিশ্বের দিকে প্রথম পদক্ষেপ এর মধ্যেই করা হয়েছে – নতুন চুক্তি ছাড়া অস্ত্রসজ্জা হ্রাসের বিষয়ে বাস্তবে কিছুই বলা যেতে পারতো না.

    মূল্যায়ণের বিষয়ে বেশী সাবধান হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা নিয়ে গবেষণা ইনস্টিটিউটের ডেপুটি ডিরেক্টর মন্তব্য করেছেন. তাঁর মতে নতুন চুক্তি স্বত্ত্বেও দুই পক্ষই খুবই সন্তর্পণে পারমানবিক অস্ত্রসজ্জা হ্রাসের চুক্তির বিষয়ে বড় মাপের কিছু করার বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছে, তাই পাভেল জোলোতারিয়েভ বিশেষ করে উল্লেখ করে বলেছেন:

"পারমানবিক অস্ত্রকে সম্পূর্ণ ভাবে পরবর্তী কালে বিলোপ করা সম্বন্ধে বলা যেতে পারে যে, এই লক্ষ্য বহু দূরের জন্য. এখন সম্ভব হয়েছে শুধু আসন্ন ভবিষ্যতের জন্য কাজ ঠিক করা: যাতে এই চুক্তি রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শেষ চুক্তিতে পরিনত না হয়. অনেক ক্ষেত্রেই এটা নির্ভর করছে কি করে রকেট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে একটা সহমতে আসা সম্ভব হতে পারে. যদি রকেট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় কোন একটি পক্ষের জন্য বেশী করে সুবিধা লক্ষ্য না হয়, তবে পরবর্তী স্তরে পৌঁছনো সম্ভব. যদি এই সম্বন্ধে সহমতে আসা সম্ভব না হয় সেই ক্ষেত্রে এই চুক্তিই শেষ চুক্তি হতে পারে".

যাই হোক না কেন শুরু করা সম্ভব হয়েছে. চুক্তি গ্রহণ সংক্রান্ত দলিল বিনিময়ের ৬০ দিন পরেই সম্পূর্ণ রকমের পর্যবেক্ষণ সফর পারস্পরিক ভাবে শুরু করা যেতে পারে. সুতরাং এপ্রিল মাসেই সামরিক বিশেষজ্ঞরা সফরে যাতায়াত করবেন. এর অর্থ হবে তৃতীয় স্টার্ট চুক্তি সম্পূর্ণ ভাবেই কার্যকরী হয়েছে. বিশ্লেষকেরা একটি বিষয়ে একমত হয়েছেন: এই চুক্তি সন্দেহ নেই যে, স্ট্র্যাটেজিক ভারসাম্য ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার কাজে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে ও রুশ – মার্কিন সম্পর্কের সামগ্রিক পরিবেশের ক্ষেত্রেও ভাল হবে.