এবার থেকে ১২ই এপ্রিল সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক প্রথম মহাকাশচারী দিবস পালিত হবে. আজ আনুষ্ঠানিক ভাবে রাষ্ট্রসংঘের সাধারন সভায় এই সম্বন্ধে ঘোষণা করা হবে. নিউইয়র্কের রাষ্ট্রসংঘের প্রধান দপ্তরে ইউরি গাগারীনের মহাকাশচারনার সুবর্ণ জয়ন্তী উত্সবের প্রাক্কালে এই অনুষ্ঠান হতে চলেছে.

    এখন অবধি ১২ই এপ্রিল – শুধু রাশিয়াতেই মহাকাশ গবেষণা দিবস পালিত হত. মানুষের মহাকাশচারনার ৫০ বছরের বর্ষে, যখন সারা বিশ্বেই এই নিয়ে অনুষ্ঠান হচ্ছে, তখন রাশিয়া প্রস্তাব করেছিল এই উত্সব আন্তর্জাতিক ভাবে পালন করার. রাষ্ট্রসংঘ এই উদ্যোগকে সমর্থন করেছে. এই সিদ্ধান্তের যৌথ লেখক হয়েছেন বিশ্বের চল্লিশ টিরও বেশী দেশ. "রেডিও রাশিয়া"কে রাশিয়ার রাষ্ট্রসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি ভিতালি চুরকিন ব্যাখ্যা করে বলেছেন:

    "আমি ১২ই এপ্রিল দিনটিকে খুবই ভাল করে মনে করতে পারি. আমার মনে হয়, আমাদের দেশের ইতিহাসে ৯ই মে ১৯৪৫ সালের পরে এই দিনটাই ছিল সবচেয়ে আনন্দের. এখনও মনে করতে পারি সকলের একসাথে উল্লাসের পরিবেশ, যা পরে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল, যেখানেই আমাদের বীর ইউরি গাগারীন পৌঁছেছিলেন. এই আলোচনা সভার প্রস্তুতির বিষয়ে কাজ দেখে মনে হয়েছে যে, সারা বিশ্বেই এখন আমাদের দেশ ও আমাদের জনগনকে তাঁদের মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে অবদানের জন্য সকলে প্রাপ্য সম্মান জানাতে তৈরী হয়েছে. এখন বহু সংবাদপত্র, জার্নাল ইত্যাদিতে মহাকাশ গবেষণা নিয়ে লেখা প্রকাশিত হয়েছে, সেখানে গাগারীনের বিজয়কে যোগ্য সম্মান দেওয়া হচ্ছে. সেখানে উল্লেখ করা হচ্ছে আমাদের আরও বহু মহাকাশ সংক্রান্ত উজ্জ্বল সাফল্যের. আমাদের সত্যিই গর্ব করার মতো কিছু রয়েছে প্রথম মহিলা মহাকাশচারী, মানুষের প্রথম উন্মুক্ত মহাকাশে বিচরন, তিনজন মহাকাশচারীকে নিয়ে মানুষের প্রথম মহাকাশ যাত্রা, প্রথম বিদেশী মহাকাশচারীকে নিয়ে যাত্রা, প্রথম মহাকাশ স্টেশন, প্রথম মহাকাশের পর্যটক, না উল্লেখ করলেও চলে যে, বর্তমানেও রাশিয়া প্রসারিত আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় মহাকাশ গবেষণাকে এগিয়ে চলার বিষয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছে. সুতরাং এটা একটা আলোকোদ্ভাসিত মিলনোত্সব, যা এর পর থেকে রাষ্ট্রসংঘের স্তরে পালন করা হবে".

    ইউরি গাগারীনের মহাকাশচারনার পৃথিবীর কাছের কক্ষপথে উড়ানের পরে মহাকাশে আজ অবধি প্রায় ৫০০ পুরুষ ও মহিলা গিয়েছেন, যাঁরা বিশ্বের তিরিশ টিরও বেশী দেশের প্রতিনিধি. তাঁরা প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিশাল উন্নতি করতে পেরেছেন, কিন্তু গাগারীনের উড়ান ছিল একেবারেই প্রথম, আর তিনিই প্রথম মানব সমাজের জন্য মহাকাশের দুয়ার খুলে ধরেছেন. এই ঘটনা সারা বিশ্বের সভ্যতার ইতিহাসেই লেখা হয়েছে. শুধুশুধুই তো আর বিশ্বের বহু দেশী তাঁদের প্রথম মহাকাশ যাত্রাকে বিশেষ করে ১২ই এপ্রিলের জন্য উত্সর্গ করা হয় নি, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার মহাকাশ একাডেমীর বিশেষজ্ঞ ইউরি কারাশ বলেছেন:

    "এই দিনটি সত্যই বিশ্বের মহাকাশ অনুসন্ধানের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল ও উল্লেখ যোগ্য দিন. এখানে ভুলে গেলে চলবে না যে, ১২ই এপ্রিল ১৯৮১ তারিখে প্রথম শাটল কলম্বিয়া পাড়ি দিয়েছিল মহাকাশে. আর এই দিন থেকে বহু বার মহাকাশে পাঠানোর উপযুক্ত মহাকাশযানের ইতিহাস শুরু হয়েছিল. খুবই লক্ষ্যনীয় বিষয় হল কলম্বিয়ার যাত্রা গাগারীনের প্রথম মহাকাশ অভিযানের বিংশ তম জয়ন্তী উত্সবের দিনেই শুরু হয়েছিল. বলা যেতে পারে ১২ই এপ্রিল ১৯৬১ তারিখ থেকেই বিশ্বে মানব ইতিহাসের একটি নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে বলা যেতে পারে".

    রাষ্ট্রসংঘের প্রধান দপ্তরে এই দিনগুলিতে এক গুচ্ছ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যা এই সুবর্ণ জয়ন্তীর উপলক্ষেই করা হচ্ছে. খুবই বিরল ফোটোর এক প্রদর্শনী খোলা হয়েছে, যেখানে গাগারীনের জীবন ও মহাকাশ গবেষণার ইতিহাস সংক্রান্ত ছবি ও দলিল রয়েছে. নিউইয়র্ক শহরে উত্সবে অংশ নিতে রাশিয়ার শততম মহাকাশচারী ওলেগ কোতভ আসছেন. তিনি রাষ্ট্রসংঘের মহাকাশ সংক্রান্ত সমস্যা পরিষদের প্রধান মাজলান ওটমানের সঙ্গে একসাথে এক সম্মেলনে যোগ দিতে চলেছেন, যা আন্তর্জাতিক স্তরে মহাকাশ গবেষণায় সহযোগিতা সম্বন্ধে উত্সর্গিত.