পশ্চিমের জোটের লিবিয়ায় সামরিক অপারেশনের দ্বিতীয় সারিতে গৌণ ভূমিকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বেচ্ছা অবসর ও লিবিয়ার সমস্যা সমাধানে সমস্ত পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগের সক্রিয়তা বৃদ্ধি দিয়ে হোয়াইট হাউসের দেশকে আবার করে একটি ঝুঁকি সমেত খুবই অস্পষ্ট ভবিষ্যতের অপারেশনে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে অনিচ্ছা স্পষ্টই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে.

    ১৯ শে মার্চ লিবিয়াতে বোমা বর্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তখন অনেকেরই পশ্চিমে মনে হয়েছিল যে, লেফটেন্যান্ট গাদ্দাফি আর ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন না. টিউনিশিয়া ও মিশরের উদাহরণ, খুবই দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করিয়েছিল. তার ওপরে সেখানে এমনকি কোন রকমের সামরিক শক্তি প্রয়োগের দরকারই পড়ে নি. কিন্তু লিবিয়াতে ঘটনা একেবারেই অন্য ভাবে পাল্টাচ্ছে. বিরোধী পক্ষ নিজের হাতে উদ্যোগ তুলে নিতে সক্ষম হয় নি, আর গাদ্দাফির সেনা বাহিনী আকাশ পথে আঘাতের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে, আর পেরেছে নিজেদের সামর্থ্যের শতকরা পঞ্চাশ ভাগের বেশী বজায় রাখতে. ফলে গত সপ্তাহ থেকে খোঁজ শুরু হয়েছে কোন একটা লিবিয়া সংক্রান্ত সহমত পাওয়ার. এই প্রসঙ্গে জোটের প্রধান কাজ কিন্তু এখনও একই রয়েছে – গাদ্দাফিকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে, এর জন্য তাঁকে এমনকি আফ্রিকা জোটের প্রেসিডেন্টের পদও প্রস্তাব করা হয়েছিল.

    পর্যবেক্ষকেরা এর মধ্যে খালি জোটের সামরিক অপারেশনের ফলের প্রতি নিরাশাকেই দেখতে পান নি, বরং দেখতে পেয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটা অনিচ্ছা, অথবা সঠিক বলতে হলে, বারাক ওবামার প্রশাসনের আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে লিবিয়াতে আরও একটি আফগানিস্তান অথবা ইরাক না পেতে চাওয়াকেই দেখতে পাচ্ছেন. আমেরিকাতে অনেকেই মনে রেখেছেন যে, ২০০৮ সালে বারাক ওবামা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়লাভ করেছিলেন অনেকটাই জর্জ বুশের প্রশাসনের সমালোচনা করে, যাঁরা একেবারেই জনমতের বিরুদ্ধে সামরিক হঠকারিতা করতে গিয়েছিলেন. তাই বর্তমানে ওবামাকে অবশ্যই শান্তি আনার প্রচেষ্টা কারী রূপে নিজেকে দেখাতে হবে. প্রসঙ্গতঃ, নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়াও তাঁকে কিছুটা বাধ্য-বাধকতার মধ্যে আটকেছে. এই কথা উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মূল্যায়ণ ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ইভগেনি মিনচেঙ্কো বলেছেন:

    "ওবামার এখন সবচেয়ে বেশী নীতিগত ভাবে প্রয়োজন হল যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেন আরও একটি আরব দেশে সামরিক হঠকারিতার কাজে জড়িয়ে না পড়ে, সেটা জনতার সামনে দেখানো. কারণ তিনি এর মধ্যেই দ্বিতীয় দফায় রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন. আর এটা খুবই স্বাভাবিক যে, তাঁর আর কোন আলাদা অভিযোগের প্রয়োজন নেই, কারণ এমনিতেই তাঁর প্রতি অনেক অভিযোগ জমা হয়েছে".  

0রাজনীতিবিদদের কাছে স্পষ্ট হয়েছে: লিবিয়া থেকে আসা মার্কিন সেনার প্রথম কফিন ওবামার দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি পদে বহাল হওয়ার কালের উপরে খুবই মোটা দাগের ইতি টানবে. আর লিবিয়ার সমস্যাকে রাজনৈতিক স্তরে ফিরিয়ে আনার জন্য ত্রিপোলি যাচ্ছেন প্রাক্তন কংগ্রেস সদস্য কুর্ট ওয়েলডন. আর যদিও রাজনীতিবিদ নিজেই ঘোষণা করেছেন যে, তাঁর এই সফর একান্তই ব্যক্তিগত, তবুও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে, হোয়াইট হাউস এই সফরের সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল. শুধু বারাক ওবামার কাছের লোকেরা দেখাতে চাইছে না যে, তাঁরা কেন ভাবে আলোচনার সঙ্গে জড়িত. তার ওপরে এর ফল কি হবে তা এখনও অস্পষ্ট. যদি গাদ্দাফি সরে যেতে রাজী হয়, তবে শান্তি প্রস্তাবে সফল হওয়ার সমস্ত পুষ্প মাল্য পাবেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাষ্ট্রপতি. আর তা যদি না হয় – তবে সবসময়েই এই অবসর প্রাপ্ত সেনেট সদস্যের ব্যক্তিগত উদ্যোগের থেকে তফাতে থাকা যাবে. যেভাবেই হোক, প্রাক্ – নির্বাচনী মিটিংয়ে ওবামা তাঁর ভোটার দের দিকে তাকিয়ে বলতে পারবেন যে, তিনি সমস্ত রকমের সম্ভাব্য প্রচেষ্টাই করেছেন. আর লিবিয়ার লোকেদের স্রেফ ভাগ্য ভাল যে, তাদের রাজনৈতিক সমস্যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দৌড়ের শুরুর সময়ের সঙ্গে একসাথে হয়েছে.