বিদ্রোহীদের বাহিনীর প্রতি সামরিক সমর্থন সুনিশ্চিত করার জন্য ন্যাটো জোটের কাছে লিবিয়ার বিদ্রোহীদের আহ্বান এ দেশে গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপের অনুরোধেরই সমতুল্য. এ সম্বন্ধে আজ মস্কোয় বলেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরোভ. এ ধরণের ব্যাপারের জন্য রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ সম্মতি দেয় নি, জোর দিয়ে বলেন কূটনীতিজ্ঞ.

   দেরি করার জন্য উত্তর অ্যাটলান্টিক জোটের প্রতি অভিযোগ এর প্রাক্কালে শোনা গেছে লিবিয়ার বিরোধী জাতীয় মুক্তি বাহিনীর সদর দপ্তরের নেতা আব্দেল ফাতাহ ইউনিসের কাছ থেকে. তাঁর কথায়, প্রতিপক্ষের বাহিনীর অবস্থানস্থল সম্বন্ধে জানার সঙ্গে সঙ্গেই বিদ্রোহীরা তা ন্যাটোর লোকেদের জানায়, গাদ্দাফির বাহিনীর সঠিক স্থান এবং তার দ্বারা ব্যবহৃত সামরিক প্রযুক্তির উল্লেখ করে. কিন্তু এ সব তথ্য, পালনকারীদের কাছে পৌঁছোয় খুব দেরিতে, আর সময় মতো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় না. ইউনিস ভয় দেখান যে, ন্যাটো জোট যদি ভবিষ্যতেও অ-তত্পর থাকে, তাহলে অন্তর্বর্তী জাতীয় পরিষদ রাষ্ট্রসঙ্ঘের কাছে এ অভিযান বন্ধ করার জন্য আবেদন করবে.

   একই সময়ে রাশিয়া লিবিয়ায় বিরোধী পক্ষকে ন্যাটো বাহিনীর সম্ভাব্য সামরিক সাহায্য দান সম্পর্কে ব্যাখ্যা পেতে চায়, জানিয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরোভঃ

   বেনগাজি ও ত্রিপোলি থেকে আমরা যে আহ্বানই শুনি না কেন, তা নির্বিশেষে, রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের নিয়মিত ভিত্তিতে লিবিয়ার বিষয়টি আলোচনা করা উচিত এবং করবে. প্রথমত, রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ, ১৯৭৩ নম্বর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তত্সংক্রান্ত ম্যান্ডেট অনুমোদন করেছে, যা এখন ব্যবহার করছে ন্যাটো জোট এবং অন্য একসারি দেশ. আর এ সিদ্ধান্ত কিভাবে পালিত হচ্ছে সে সম্পর্কে এ সব দেশ নিরাপত্তা পরিষদের কাছে রিপোর্ট দিতে বাধ্য. দ্বিতীয়ত, লিবিয়ায় রয়েছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সম্পাদকের বিশেষ দূত, জর্ডানের প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দেল ইলাহ আল-হাতীব, যিনি বর্তমান সঙ্কটের সময় মানবতাবাদী ও রাজনৈতিক প্রশ্নাবলি নিয়ে কাজ করছেন. তিনি ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে নিজের লিবিয়া সফর সম্পর্কে প্রথম অনুভূতি জানিয়েছেন. তাছাড়া আমাদের জানার ইচ্ছে আছে এ ব্যাপারে আরব রাষ্ট্রসমূহের লীগ এবং আফ্রিকান সঙ্ঘের স্থিতি, বলেন সের্গেই লাভরোভ.

   এর প্রাক্কালে লিবিয়ায় ষথেষ্ট নিরাশাবাদী ঘটনা বিকাশের সম্ভাবনার বর্ণনা করেন রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী সের্গেই ইভানোভ. তাঁর মতে, গৃহযুদ্ধের প্রলম্বন লিবিয়ার “সোমালিকরণে” পরিণত হতে পারে. তার অর্থ, এ দেশ দুর্বল সরকার সম্বলিত কয়েকটি ছোট ছোট রাষ্ট্রে বিভাজিত হতে পারে, অপরাধপ্রবণতার, সেই সঙ্গে সামুদ্রিক জলদস্যুতা বৃদ্ধির পটভূমিতে. এমন চিত্রনাট্য বাস্তব হয়ে উঠতে পারে, যদি লিবিয়াবাসীরা রাজনৈতিক-কূটনৈতিক উপায়ে তা মীমাংসা করতে না চায়.

   এদিকে, পশ্চিমী কোয়ালিশনের একসারি সদস্য ইতিমধ্যে লিবিয়া সম্পর্কে নিজেদের স্থিতি সংশোধন করতে শুরু করেছে. এ সম্বন্ধে বিচার করা যেতে পারে কংগ্রেসের শুনানীতে মার্কিনী সশস্ত্র বাহিনীর আফ্রিকান অধিনায়কমন্ডলীর নেতা জেনারেল কার্টার হ্যামের বিবৃতি থেকে, যিনি সম্প্রতিকাল পর্যন্ত জামাহিরির আকাশে উড্ডয়ন-নিষিদ্ধ এলাকা গঠনের কাজের সঙ্গতি সাধন করেন. তাঁর কথায়, ওয়াশিংটন লিবিয়ায় স্বতন্ত্র সামরিক অভিযান চালানোর অধিকার বজায় রাখছে, ন্যাটো জোটের হাতে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব হস্তান্তরের পরেও. আগে ওবামার প্রশাসন অভিযান থেকে মার্কিনী সামরিক বিমান ও জাহাজ সরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল, যারা লিবিয়ার সরকারী বাহিনীর অবস্থানস্থলের উপর ক্রুইজ মিসাইলের আঘাত হানছিল.