মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকার করেছে যে, স্বৈর তন্ত্রী দেশ গুলিতে প্রতিবাদী আন্দোলনের সক্রিয় কর্মীদের তথ্য – প্রযুক্তি দিয়ে সশস্ত্র করার কাজ করছে. এখানে কথা হচ্ছে যে, ওই দেশের পররাষ্ট্র দপ্তর বিশেষ ধরনের প্রোগ্রাম তৈরী করার জন্য চেষ্টা করছে, যা বিরোধীদের মধ্যে লেখালেখি সাঙ্কেতিক করতে সাহায্য করে অথবা, কোন রকমের বিপদের আশঙ্কা থাকলে সমস্ত তথ্য মোবাইল ফোন থেকে উদ্ধার অযোগ্য করে দেয় ও সমস্ত গোপন কর্মীদের কাছে সাবধান বাণী প্রেরণ করে. আর এই বিষয়ে খরচের জন্য বাজেট খুব কম নয়.

    গোপন আর গোপন থাকে নি. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর হিলারি ক্লিন্টনের সহকারীর মুখ দিয়ে স্বীকার করেছে যে: ওয়াশিংটনের মতে যে সমস্ত দেশের গণতন্ত্র তাদের জন্য পছন্দসই নয়, সেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার বিরোধী পক্ষের আন্দোলনকে সহায়তা করছে. এখানে শুধু অর্থনৈতিক সহায়তার কথাই উঠছে না, প্রযুক্তি দিয়ে সাহায্যও করা হচ্ছে. রাষ্ট্রীয় সচিবালয়ের কর্মী মাইকেল পোজনারের কথামতো বিশেষ ভাবে ভাড়া করা কোম্পানীরা মোবাইল ফোনের জন্য প্রোগ্রাম লিখছেন. তারা সরকার বিরোধীদের জন্য তাদের মোবাইল ফোন থেকে পাঠানো বৈদ্যুতিন চিঠি ও সংক্ষিপ্ত খবর সাঙ্কেতিক করতে সাহায্য করছে এবং ইন্টারনেটে বিরোধীদের সাইটে প্রবেশের বিষয়ে যে সমস্ত বাধা আছে, তা পার হওয়ার ব্যবস্থা করে দিচ্ছে. কম্পিউটার প্রযুক্তির বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ভাদিম বাসিন উল্লেখ করেছেন যে, মোবাইল ফোনের জন্য এই ধরনের প্রোগ্রাম তৈরী করা বর্তমানের বিভিন্ন ধরনের অপারেটিং সিস্টেমের জন্য যথেষ্ট কঠিন ও দামী, তাই তিনি বলেছেন:

    "প্রতিটি অপারেটিং সিস্টেমের জন্য ও প্রতি ধরনের মোবাইল ফোনের জন্য বিশেষ করে প্রোগ্রাম লিখতে হয় যেমন অ্যাপেল, অ্যানড্রয়েড, উইন্ডোস মোবাইল, নোকিয়া কোম্পানীর সিমবিয়ান প্ল্যাটফর্মের জন্য সব আলাদা, আবার তা প্রতিটি ফোনে বসাতেও হয়".

    আমেরিকার বিশেষজ্ঞদের শেষ কাজের নাম দেওয়া হয়েছে "আতঙ্ক সুইচ". এই প্রোগ্রাম তার অধিকারির কোন রকমের বিপদের সম্ভাবনা দেখলেই একটি সুইচ এক আঙ্গুলে টিপলেই তার সমস্ত সাঙ্গোপাঙ্গ দের কাছে বিপদ সঙ্কেত পাঠিয়ে দেয়, তার পরে টেলিফোন থেকে সমস্ত তথ্য মুছে যাবে, যাতে দেশের বিশেষ বাহিনীও বিরোধী পক্ষের গোপন তথ্য প্রমাণ না পেতে পারে. নিকট প্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার কত বিপ্লবী গত কয়েক মাসে এই ধরনের প্রোগ্রাম ব্যবহার করেছে, সেই খবর অবশ্যই মার্কিন সরকারের পররাষ্ট্র দপ্তর দেয় নি. কিন্তু সাংবাদিকেরা বিশ্লেষণ করতে পেরেছেন যে, ২০০৮ সাল থেকে মার্কিন সচিবালয় এই ধরনের বিশেষ প্রোগ্রাম রচনার কাজে কম করে হলেও পাঁচ কোটি ডলার খরচ করেছে. প্রসঙ্গতঃ, আমেরিকার লোকেদের জন্য এটা অনেক দিনের জন্য করা বিনিয়োগ, যা সেই সমস্ত দেশে বিপ্লব হয়ে নতুন সরকারে তাদের পছন্দসই গণতান্ত্রিক দল ক্ষমতায় এলে সুদ সহ ফেরত হয়ে যায়, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের প্রফেসর ভ্লাদিমির সাঝিন বলেছেন:

    "যেমন, একাধিকবার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বহু লক্ষ ডলার ইরানের বিরোধী পক্ষকে সহায়তা করার জন্য আলাদা করে দিয়েছে. আর অবশ্যই, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ও অন্য কয়েকটি পশ্চিমের দেশের সংবাদ মাধ্যম রয়েছে, যারা সরাসরি সেই সমস্ত দেশের মানুষের মধ্যে তথ্য সম্প্রচারের কাজ করছে, যেখানে ওয়াশিংটনের ধারণা অনুযায়ী গণতন্ত্র অনুপস্থিত. সেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই খোঁজা হচ্ছে পথ, কি করে অন্য দেশের সরকারের প্রণীত ইন্টারনেট প্রচারের বাধা পার হওয়া যায়".

0     মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই বর্তমানে আশ্বাস দিচ্ছে যে, তারা শুধু বিরোধীদের "নিজেদের অধিকারের বিষয়ে সফল ভাবে সংগ্রাম করতে সাহায্য করছে". বিশেষজ্ঞরা প্রসঙ্গতঃ বিশ্বাস করেন যে: এটা শুধু আরব দেশ গুলিতে বিপ্লবের প্রসঙ্গে আমেরিকার ভূমিকা বিষয়ে, মহা সমুদ্রে ডুবে থাকা বিশাল আইসবার্গের শুধু দেখতে পাওয়া যাচ্ছে এমন জায়গা টুকু. আর সবচেয়ে বেশী করে যে বিষয় সামনে এসেছে, তা হল এই সমস্ত ঘটনার সময়ে মুখ্য ভূমিকা যে ফেসবুক ও টুইটার সামাজিক সাইট গুলি নিয়েছে, তা একেবারেই হটাত্ করে নয়. কথা হল, এই গুলিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনেক দিন আগে থেকেই প্রায় স্ট্র্যাটেজিক সম্পদ হিসাবে দেখা হয়ে থাকে.