উত্তর আফ্রিকা ও নিকট প্রাচ্যের দেশগুলির উত্তাল পরিস্থিতি বিশ্বের অন্যান্য দেশেও ঐস্লামিক চরমপন্থীদের লক্ষ্যনীয় ভাবে সক্রিয় করেছে. পরিস্থিতির টালমাটাল অবস্থা বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়াতেও পৌঁছেছে. সোমবারে বাংলাদেশে ঐস্লামিক দল গুলির সম্মিলিত বন্ধ হয়েছে. এই বন্ধের অংশীদারেরা সরকারের কাছ থেকে দেশে শারীয়াতের আইন চালু করে দেশের মহিলাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পুরুষের সমানাধিকার দেওয়ার সরকারি প্রচেষ্টাকে নিষিদ্ধ করতে চেয়েছে. এই বিষয়ে বিশদ ভাবে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    সমস্যা খুব একটা নতুন নয়. কিন্তু তা এর আগে কখনও এত তীক্ষ্ণ হয়ে দেখা দেয় নি. বাংলাদেশ – একটি মুসলমান দেশ – এখানে শতকরা ৯০ ভাগই মুসলমান. এছাড়া দেশে হিন্দু, খ্রীস্টান ইত্যাদি ধর্মাবলম্বী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাস. দেশে আইন ব্যবস্থা চালু হয়েছে ধর্ম নিরপেক্ষ ভাবে, কিন্তু উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আইনে শারীয়াতের আইন চালু রয়েছে. বাংলাদেশের মহিলা সংগঠন গুলি এই ধরনের অন্যায় আইনকে সংশোধন করে বাংলাদেশের মহিলা ও পুরুষদের সমানাধিকার চেয়েছে. দেশের বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদের নেতৃত্বে দেশে জাতীয় নারী উন্নয়নের খসড়া নীতি পাশ করেছে. এই দলিল অনুযায়ী মহিলাদের অধিকার ও স্বাধীনতাকে স্বীকৃতী দেওয়া হয়েছে ও তার মধ্যে উত্তরাধিকার প্রশ্নে পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে সমানভাবে বাগ পাওয়ার কথা বলা হয়েছে.

    কিন্তু তা ঐস্লামিকদের ক্রোধের সঞ্চার করেছে. তারা ঘোষণা করেছে যে, আইন ইসলামের ধর্ম ও নিয়ম নাতির বিরুদ্ধে ও তা প্রত্যাহার করার দাবী করেছে. প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে হামলার হুমকি করা হয়েছে. আর সোমবারে ঐস্লামিক দল গুলি সারা দেশ জুড়ে হরতাল করেছে. ঢাকা শহরের বহু এলাকায় ও ঢাকা ও চট্টগ্রাম বন্দরের মধ্যের দেশের প্রধান সড়ক পথে গাড়ী চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে. সরকার রাজধানীতে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করেছে ও নিরাপত্তা রক্ষী বাড়িয়েছে. এই বন্ধে অংশ নেওয়া লোকেদের তাড়ানোর জন্য রবারের গুলি ও টিয়ার গ্যাস চালনা করতে হয়েছে. বন্ধের বহু গোলমাল কারী লোককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, প্রায় ১০০ জন আহত. বাংলাদেশের জন্য এই পরিস্থিতি খুব স্বাভাবিক নয়, এই কথা মনে করে রাশিয়ার প্রাচ্য বিশারদ বিজ্ঞানী ভিয়াচেস্লাভ বেলোক্রিনিতস্কি বলেছেন:

    "বিগত কিছু কাল পর্যন্ত বাংলাদেশের পরিস্থিতি খুবই স্থিতিশীল হয়ে একে বারেই অন্য রকমের ছিল. ২০০৮ সালে পার্লামেন্ট নির্বাচনের ফলে দেশে ক্ষমতায় এসেছে স্বাধীন বাংলাদেশের স্রষ্টা শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনা ওয়াজেদের প্রধানমন্ত্রীত্বে বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ দল. এই দলের পার্লামেন্টে বেশী সংখ্যক সদস্য ও এই অর্থে দেশের স্থিতিশীলতাকে কিছুই আশঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়ায় নি. আর এই গণ মিছিলের সম্বন্ধে বলা যেতে পারে যে, তা আওয়ামী লীগ দলের রাজনীতির কারণে হয়েছে. তারা যদিও বেশীর ভাগ মুসলমানের দল, তবুও তারা চরমপন্থী নয়. আর তাদের রাজনীতিতে তারা কোন ধর্মীয় স্লোগান ব্যবহার করে না. তার চেয়েও বেশী হল, বাংলাদেশে গত বছরের গরম কালে আইন প্রবর্তন করা হয়েছে যে, রাজনীতিতে ধর্মকে ব্যবহার করা যাবে না".

0     বিরোধী পক্ষ পার্লামেন্টে নিজেদের দাবী প্রকাশ করতে না পেরে রাস্তায় নেমেছে. বাংলাদেশে বিগত কিছু সময়ের ঘটনা প্রমাণ করে দিয়েছে যে, বাংলাদেশের ঐস্লামিক চরমপন্থীদের মতলব হল দেশের মধ্য পন্থী মনোভাবকে ব্যবহার করে তাকে চরমপন্থী করার প্রচেষ্টা. তাদের এটা করার মতো সম্ভাবনা রয়েছে, এই দেশ বিশ্বের দরিদ্র তম দেশ ও এখানে হত দরিদ্র লোকেরা সহজেই বিভিন্ন চরমপন্থী দলের লোকেদের প্রভাবে পড়ে. পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে কারণ বাংলাদেশের বিরোধী দল বি এন পি এই চরমপন্থী মনোভাবকে সমর্থন করেছে রাজনৈতিক ফায়দা ওঠানোর আশায়. আরব দেশ গুলিতে বিগত সময়ে যে ধরনের পরিস্থিতি হয়েছে তা বর্তমানে বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে...