লিবিয়ার প্রশাসন এখন আলোচনা করতে প্রস্তুত. গাদ্দাফি প্রশাসনের সরকারি প্রতিনিধি মুসা ইব্রাহিম ঘোষণা করেছেন যে, ত্রিপোলি রাজনৈতিক কাঠামোর সংশোধন করতে রাজী. কিন্তু এই খবরে গাদ্দাফির বিরোধী পক্ষের মানসিকতা পরিবর্তনে কোন উত্সাহের জোয়ার আনতে পারে নি.

এই বিরোধের সমাধানের জন্য মুহম্মর গাদ্দাফির পক্ষের লোকেদের প্রস্তাব "বিশ্বাস উত্পাদন করে না". এই রকমের একটি সিদ্ধান্ত ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রী ফ্রাঙ্কো ফ্রাত্তিনি তাঁর মন্তব্য হিসাবে করেছেন ও জানিয়েছেন যে, এখন থেকে রোম লিবিয়ার একমাত্র আইন সঙ্গত প্রতিনিধি বলে বিরোধী জাতীয় পরিষদকেই মনে করে. এর আগে একই রকমের ঘোষণা করেছিল ফ্রান্স.

বিরোধী পক্ষ পশ্চিমের সমর্থনে ভরসা পেয়ে একই সঙ্গে ঘোষণা করেছে যে, তারাও গাদ্দাফির সঙ্গে কোন রকমের কর্মে নিরত হতে চায় না. এরই মধ্যে জামাহিরি নেতা কিন্তু বিরোধের শান্তি পূর্ণ সমাধানের বিষয়ে আশা ছাড়েন নি. গাদ্দাফির প্রতিনিধি চলেছেন গ্রীস – তুরস্ক ও মাল্টা সফরে. তাঁর কাজ হবে নিরপেক্ষ দের পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য মধ্যস্থতা করার দায়িত্ব নিতে উত্সাহিত করা. নিজেদের পক্ষ থেকে লিবিয়ার প্রশাসন যে কোন রকমের রাজনৈতিক কাঠামো তৈরী করতে দিতেই তৈরী. গাদ্দাফির এক পুত্র সৈফ আল – ইসলাম নিজের হাতে ক্ষমতা তুলে নিতে চাইছে ও দেশকে সংবিধান সম্মত গণতন্ত্রে পরিবর্তিত করার আশ্বাস দিচ্ছে. কিন্তু এই পট পরিবর্তন হবে যা চাওয়া হয়েছিল, তার থেকে অনেক দূরের বিষয়, এই কথা উল্লেখ করে আরব ও ইসলাম গবেষণা কেন্দ্রের ডিরেক্টর আলেকজান্ডার ত্কাচেঙ্কো বলেছেন:

"এই ধরনের সংশোধন, যদি একেবারে সব থেকে তাত্ত্বিক দিক থেকেও দেখা হয়, তবে তা হবে কাজ শুরু করার একটা উপায় মাত্র, খুব সম্ভবতঃ, সেটা একটা উপরে মেরামত করে দেওয়ার মত ব্যাপার হবে. কারণ আরও গভীর ও মানুষের অন্তর্নিহিত চাহিদা অবশ্যম্ভাবী ভাবেই এই প্রশাসনের পরিবর্তন আনতে বাধ্য হবে আর তা বোঝাই যাচ্ছে যে, গাদ্দাফি ও তাঁর পরম্পরার উত্তরাধিকারী লোকেদের পক্ষে বোধহয় পছন্দসই হবে না".

ততটাই কম সম্ভাবনা রয়েছে যে, গাদ্দাফির প্রতিনিধির এই কূটনৈতিক মিশন আলোচনা ব্যবস্থা চালু করার কোন পথ বের করার বিষয়ে কোন একটা উপায় হতে পারে, যা এই গৃহযুদ্ধের ফলে সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে. কারণ এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হল মুহম্মর গাদ্দাফির উপস্থিতি. আর এমনকি সম্মিলিত ব্যবসাও জামাহিরি নেতার পক্ষে তাঁর পশ্চিমের ব্যবসার বন্ধুদের কাছ থেকে কোন ভরসা পাওয়ার যোগ্য বিষয় হতে পারে নি, তাই আলেকজান্ডার ত্কাচেঙ্কো বলেছেন:

"সহকর্মীদের মধ্যে স্থিতিশীল ও যথেষ্ট বহুমুখী আর্থ – বাণিজ্য সম্পর্ক ইতিবাচক ভাবে প্রভাব বিস্তার করে থাকে. কিন্তু লিবিয়া বিষয়টি একে বারেই অন্য ধরনের. গাদ্দাফি প্রশাসনের সঙ্গে পশ্চিমের গণতন্ত্রের রাজনৈতিক সম্পর্কের অংশ খুব স্পষ্ট ভাবেই তার গুরুত্ব অনুযায়ী আর্থ – বাণিজ্য সম্পর্কের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে".

    আর্থ – বাণিজ্য সম্পর্ককে সক্রিয় ভাবে চালু করার কাজ পশ্চিমে শুরু হয়েছিল ২০০৩ সালে. ত্রিপোলি সরকারি ভাবে ১৯৮৮ সালে স্কটল্যান্ডের শহর লকার্বির আকাশে বিমান বিস্ফোরণে নিজেদের অংশ গ্রহণ স্বীকার করেছে. গাদ্দাফি তিন বিলিয়ন ডলার নিহতদের পরিবার বর্গের কাছে ক্ষতি পূরণ হিসাবে দিয়েছেন আর রাষ্ট্রসংঘ লিবিয়ার উপরে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিল, তখন পশ্চিমের কোম্পানী গুলি এই দেশের শক্তি ভান্ডারের উপরে সরাসরি পথ দেখতে পেয়েছিল. নিজেদের দিক থেকে লিবিয়াও দ্রুত পশ্চিমের ব্যবসার সঙ্গে এক হতে পেরেছিল. অংশতঃ ত্রিপোলি ইতালির ইউনি ক্রেডিট ব্যাঙ্ক কে ৫ বিলিয়ন ডলার দিয়েছিল, এই ব্যাঙ্কের শতকরা সাড়ে সাত ভাগ শেয়ার কিনেছিল, এক বিলিয়ন ডলার  - এনি নামের বিশাল খনিজ তেল গ্যাস কোম্পানীতে বিনিয়োগ করেছিল. আর লিবিয়ার ব্যবসায়ীরা অস্ট্রিয়ার ওয়েইনারবার্গার গৃহ নির্মাণ কর্পোরেশনের ভাগ কিনেছিল, ব্রিটেনের মিডিয়া কর্পোরেশন পিয়রসন ও আরও অনেক বিষয়েই বিনিয়োগ করেছিল.

    গাদ্দাফির পশ্চিমের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক লক্ষ্যনীয় রকমের উন্নতি করেছিল. এক সময়ে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতিরা জাক শিরাক ও নিকোল্যা সারকোজি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র সচিব কন্ডোলিজা রাইস, ইতালির প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বেরলুসকোনি ও অন্যান্য নেতারা খুশীর সঙ্গে গাদ্দাফির সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন, তাঁর সঙ্গে বিভিন্ন মঞ্চে দেখা করেছেন, তাঁর করমর্দন করেছেন ও সব রকম ভাবে সম্মান প্রদর্শন করেছিলেন. অন্যভাবে বলতে হলে, ১০ বছরেরও কম সময়ে এই লেফটেন্যান্ট সবচেয়ে উঁচু আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন আদায় করতে পেরেছিলেন. এই সমর্থন তিনি ধরে রাখতে পারবেন কি না ও তা আর ব্যবহার করতে পারবেন কি না – এই প্রশ্নের এখন উত্তর পাওয়া যায় নি.