রাশিয়ার রাজনৈতিক ব্যবস্থার বাইরে থাকা বিরোধী পক্ষের নেতাদের সারিতে নিজেদের মধ্য ভাগাভাগি বাড়ছে. তাঁরা আগের মতই কোন এক রকমের জনমত তৈরী করার পরিকল্পনার পথ নিতে পারছেন না, নেই তাঁদের কোন সম্মিলিত রাজনৈতিক মঞ্চ আর দেশের জন্য বোধগম্য কোনও সামাজিক – অর্থনৈতিক উন্নতির পরিকল্পনাও তাঁদের নেই.

    আজকের সমস্ত রাজনৈতিক ব্যবস্থার বাইরের বিরোধী পক্ষ বলা যেতে পারে ব্যবস্থা তৈরীর সবচেয়ে গুরুতর সঙ্কটের মধ্যেই রয়েছে. প্রতিবারেই সেই সমস্ত নেতারা প্রদর্শন করছেন, তাঁদের একে অপরের সঙ্গে সহমতে এসে কোন রকমের নীতি নেওয়ার সম্বন্ধে অক্ষমতা, আর সবচেয়ে প্রধান হল, দেশের উন্নতির জন্য কোন রকমের গঠনমূলক পরিকল্পনা প্রস্তাব করতে পারার বিষয়ে অভাব, যা বিচার করে তাঁদের সম্বন্ধে বলা যেতে পারে যে, তাঁরা কোন একটা ভারসাম্য বজায় রেখে দায়িত্বশীল কোন প্রস্তাব করছেন.

    তা স্বত্ত্বেও রাশিয়ার নেতৃত্ব এই ব্যবস্থার বাইরের বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি দেরও রাজনীতি চর্চা করার অধিকার স্বীকার করেছেন. প্রায় এক বছরেরও বেশী আগে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ দেশের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল গুলিকে এক সাক্ষাত্কারে এই ধরনের কথা বলেছেন.

    দেশের নেতার মন্তব্য অনুযায়ী তথাকথিত ব্যবস্থার বাইরের রাজনৈতিক বিরোধীরা সেই কারণেই ব্যবস্থার বাইরে, যে তারা নিজেদের বর্তমানের রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভিতরে দেখতে পায় না. তাঁরা নিজেরাই এই জায়গা নিয়েছে. এটা তাঁদের অধিকার. আমি এটা সসম্মানে গ্রহণ করেছি, যদি এটা করতে গিয়ে তাঁরা দেশের কোন আইন ভঙ্গ না করেন, তা সে আইন – নির্বাচন, সামাজিক সংগঠন সম্বন্ধে আইন অথবা জমায়েত হওয়া সংক্রান্ত আইন ইত্যাদি যদি ভঙ্গ যদি না করে, তাহলেই হয়. অর্থাত্, যদি তথাকথিত ব্যবস্থার বাইরের বিরোধীরা আইনের কাঠামোর মধ্যেই কাজ করে, তবে করুক, তাদের যেন ইচ্ছা তেমন করেই. তারাও নিশ্চয়ই কারও একটা পছন্দ, সত্য ইত্যাদির প্রতিফলন, যদিও আমি অনেক সময়েই উত্তর দিতে পারি না সেটা কাদের. কিন্তু এটা আভ্যন্তরীণ মূল্যায়ণের প্রশ্ন, কাউকেই আমি এখানে রাগাতে চাই না.

    লক্ষ্যনীয় গণতন্ত্রের তাত্ত্বিক কাঠামোতে, যেমন, ব্যবস্থার মধ্যে থাকা বিরোধী পক্ষ (যেমন পার্লামেন্টের বিরোধী পক্ষ), তেমনই ব্যবস্থার বাইরে থাকা বিরোধী পক্ষ থাকতে পারে. এই প্রসঙ্গে পশ্চিমের ব্যবস্থার বাইরে থাকা বিরোধী পক্ষ কিন্তু দেশের ভিত্তি মূলক রাজনৈতিক, সামাজিক- অর্থনৈতিক মূল কাঠামোকে স্বীকার করে, তাদের প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধ শুধু দেশের পরিকল্পিত লক্ষ্যের প্রতি অগ্রসর হওয়ার পথের নির্বাচন নিয়ে. রাশিয়ার এই ক্ষেত্রে বিশেষত্ব হল যে, ব্যবস্থা রহিত বিরোধী পক্ষ খুবই নানা ধরনের আর তাদের মধ্যে কোন রকমের ঐক্য মতের কথা এখানে হতেই পারে না. অনেক সময়েই তাদের প্রতিনিধিদের জন্য দেশের ভিত্তি মূলক মূল কাঠামো হল ফাঁকা আওয়াজ.

    এই সমস্ত দলের মধ্যে রয়েছে এডুয়ার্ড লিমোনভের চরমপন্থী দল, যাদের সমস্ত উচ্চকিত আচরণ প্রমাণ করতে চায় যে, তারা দেশের বর্তমানে রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে ভাঙতে চায় ও তার জন্য সবাইকে জড় করতে চায়. লিবারেল পক্ষে রয়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং উপ প্রধানমন্ত্রী মিখাইল কাসিয়ানভ ও বরিস নেমত্সভ, দাবাড়ু গারি কাসপারভ, বিখ্যাত সব দেশ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হওয়া লোক, যেমন, ল্যুদমিলা আলেক্সেয়েভা, লেভ পনোমারিয়ভ ও অন্যান্যরা. কিন্তু তাঁদের মধ্যে সবসময়েই তর্ক হচ্ছে যে, "রাশিয়াকে কি করে তৈরী" করা হবে. বোঝাই যাচ্ছে যে, কাসিয়ানভ ও নেমত্সভ নিজেদের জন্য কাজ হিসাবে দেখছেন ক্ষমতায় ফিরে আসা, তাঁরা তাঁদের দুঃখ – রাগ ভুলতে পারছেন না, যে তাঁরা কিছু যথেষ্ট বাস্তব কার্য কারণের জন্যই এক সময়ে দেশ চালনার কাজের থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন. তাই তাঁদের সমালোচনার সমস্ত শক্তি তাঁরা প্রয়োগ করছেন রাশিয়ার রাজনৈতিক ব্যবস্থার উপরে ও নিজেদের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর কাজে.

    কয়েক দিন আগের এক অনুসন্ধানে জানা গিয়েছে যে, রাশিয়ার বেশীর ভাগ লোকই জানেন না দেশে যে ব্যবস্থা বিরোধী কেন বিরোধী পক্ষ রয়েছে অথবা তাদের নেতা কারা. তার সঙ্গে অহরহ সৃষ্টি হয়ে চলা বিভিন্ন জোরালো নাম সর্বস্ব দলের কথা, যা এই সব লোকেরাই ঘুরে ফিরে বানিয়ে চলেছেন. মানুষের আগ্রহ রয়েছে নির্দিষ্ট সব বিষয়ে প্রতি: জীবনের মানোন্নয়নের প্রচেষ্টা, সামাজিক নিরাপত্তা, দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীল উন্নতি. আর ঠিক এই খানেই বিরোধী পক্ষের নেতাদের প্রস্তাব করার মতো কিছু নেই, আর যদি তাঁরা ক্ষমতায় আসতে পারেন, তবে তাঁরা প্রাথমিক ভাবে কি করতে পারেন এই লক্ষ্য পূরণের জন্য.

    তাও সরকার বিরোধী পার্লামেন্টের দল হতে পারার জন্য সম্ভাবনা বৃদ্ধি করছেন, তার সঙ্গে পার্লামেন্টের বাইরেও যেন দল করার সম্ভাবনা থাকে তাও দেখছেন. খুবই গুরুত্বপূর্ণ রকমের পরিবর্তন হতে চলেছে তথাকথিত সংখ্যা লঘু দল গুলির জন্য. তাদের জন্য নথীভুক্তিকরণের পদ্ধতি হবে সহজ, নির্বাচনে অংশ গ্রহণের জন্য কোন রকমের বন্ধক রাখতে হবে না, আর তাদের প্রতিনিধিরা দেশের আইন প্রণেতাদের কাজ কর্মের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অধিকার রাখবেন, এমনকি তেমন পরিস্থিতিতেও, যদি তাদের দল নির্বাচনের ফলাফলে শতকরা সাত শতাংশ ভোটের কম পেয়ে পার্লামেন্টে ঢুকতে নাও পারে. এটা বিশ্বের কোথাও কি করা হয়েছে?