বৃহস্পতিবারে ভারতীয় জন গণনার প্রকাশিত ফল হয়েছে ১২০ কোটির বেশী মানুষ. জন সংখ্যা বিশাল – সামাজিক সমস্যার পরিমানও বিশাল, উল্লেখ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    ভারতীয় অর্থনীতির লক্ষ্যনীয় সাফল্য স্বত্ত্বেও, দেশের প্রায় একের তৃতীয়াংশ মানুষ সরকারি হিসাবে দারিদ্র সীমার নীচেই বাস করছেন. আর এই হত দরিদ্র মানুষকেই নিজেদের লক্ষ্য করেছে ভারতীয় অতি বাম পন্থী চরমপন্থীরা, তথাকথিত মাওবাদীরা. তারা নিজেদের এক মাও বাদের তত্ত্বকে রক্ষা করে চলেছে, নিজেদের বলে থাকে, চাষীদের রক্ষী জমিদার বা বর্গাদারের হাত থেকে. ১৯৭৬ সালে ভারতীয় মাওবাদীরা গণ প্রজাতন্ত্রী চিনের রাজনৈতিক পথ বদলের থেকে আলাদা করে নিয়েছিল আর আজকে চিনের সঙ্গে কোন রকমের সম্পর্ক রাখে না. আধুনিক চিনে তাদের স্বীকারও করা হয় না, সমর্থনও না. কিন্তু ভারতের এই অতি বামপন্থী চরম পন্থা বিশ্বাসী লোকেরা আজও জনগণের এক অংশের সমর্থন পেয়েই যাচ্ছে.

    আজকের ভারত – এটা বহু লক্ষ লোকের বিশাল শহরের, বড় ভারী শিল্পের কারখানার, আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগে কৃষি কার্যের ও সুন্দর সড়কে একে অপরের সঙ্গে বন্ধনে আবদ্ধ এক দেশ. কিন্তু শুধু তাই নয়. ভারত এখনও জঙ্গলের দেশে, যেখানে অনেক সময়েই হাতি পথ না করে দিলে চলা যায় না. এই সভ্যতার থেকে বহু দুর্গম ও অগম্য অঞ্চলেই ক্ষমতার প্রতিনিধি হন, হয় স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান অথবা স্থানীয় পুলিশ কর্মী. দেশের পূর্ব, উত্তর ও মধ্য অঞ্চলের জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা মাওবাদীরা তাদের সংগ্রামে সাহায্য করতে না চাইলে এসে হানা দেয় এই সব গ্রামের উপরে, আক্রমণ করে সরকারি অফিসার ও পুলিশের লোকেদের উপরে, ট্রেন লুঠ করে. এই সব ঘটনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংহকে কারণ জুগিয়েছে, দেশের সবচেয়ে বড় আভ্যন্তরীণ বিপদ বলে মাওবাদীদের কার্যকলাপকে উল্লেখ করতে.

    সরকার মাওবাদী উগ্রপন্থীদের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করছে না. তাদের সঙ্গে যুদ্ধ সরকার করছেন বিশেষ প্যারা মিলিটারি ও পুলিশ বাহিনী দিয়ে. সশস্ত্র সংঘর্ষ প্রায়ই হচ্ছে. আর এই হিংসার কোন শেষ এখনও দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না. ভারতে কিন্তু অনেকেই একমত হতে পারেন নি যে, শক্তি প্রয়োগেই খালি কাজ হবে বলে. এই কথা উল্লেখ করেছেন রুশ ভারত বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ফেলিক্স ইউরলভ, তিনি বলেছেন:

    "অনেকেই ও তার মধ্যে বিরোধী দলের লোকেরা মনে করেন যে, এই সমস্যা সামরিক উপায়ে সমাধান করা উচিত্ নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থা নিয়ে সমাধান করা দরকার. এই ধরনের লোকেদের সহায়তার প্রয়োজন আছে, তাদের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উন্নতি করার প্রয়োজন, আর তখনই সমাধানের সূত্র খুঁজে পাওয়া যেতে পারে, যখন তারা আর এত সক্রিয় ভাবে আন্দোলন করবে না. কিন্তু আপাততঃ তা করা সম্ভব হচ্ছে না".

    ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম যেমন জানিয়েছে যে, মাওবাদীদের সঙ্গে আবার একটি খুবই কঠিন লড়াই মার্চ মাসের শেষে ছত্রিশগড় রাজ্যের দক্ষিণে দান্তেওয়াদা নামের জায়গায় হয়েছে. মাওবাদীদের তৈরী ফাঁদে প্যারা মিলিটারি পুলিশ বাহিনীর ১৪৫ জনের একটি দল আটকে পড়েছিল. পুলিশের লোকেরা যুদ্ধ শুরু করেছিল. তাদের পক্ষে সম্ভব হয়েছে প্রায় তিরিশ জন মাওবাদীকে ধ্বংস করার. কিন্তু পুলিশের লোকেদেরও ক্ষতি স্বীকার করতে হয়েছে.

    গত বছরে মাওবাদীদের কাজকর্মের ফলে ভারতে প্রায় এক হাজার লোক নিহত হয়েছেন.