সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদ, যিনি আজ রয়েছেন, তাঁর পদে যোগ্য প্রার্থী নেই. দেশে সংগঠিত কোন বিরোধী পক্ষও নেই – সুতরাং সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন লিবিয়ার মত উত্তাল হবে না. প্রতিবেশী আরব দেশগুলি থেকে প্রতিবাদের ঢেউ এসে আছড়ে পড়া সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি সম্বন্ধে বেশীর ভাগ রাজনীতিবিদই এই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন.

    লিবিয়ার নেতা বাশার আসাদ বৃহস্পতিবারে দেশে বিশেষ আইন পরিষদ গঠনের কথা বলেছেন. এই পরিষদ দেশে ১৯৬৩ সাল থেকে বহাল জরুরী অবস্থা সংক্রান্ত আইন রদ করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখবে. জরুরী অবস্থা রদ করাই হল প্রতিবাদের একটি মূল দাবী, যা বিগত কিছু কাল ধরে সিরিয়ার শহরগুলিতে ছড়িয়ে পড়েছে. এখানেও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ছাড়া শেষ হয় নি, বিক্ষোভের উপরে পুলিশের আক্রমণে ৬০জন নিহত ও প্রায় ১০০ লোক আহত হয়েছেন. সরকার অবশ্য বলতে চাইছে যে, নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই পুলিশ কর্মী আর বিরোধী পক্ষের তথ্য নিশ্চয়ই বলছে উল্টো কথা.

    অনেকেই আশা করেছিলেন যে, এই বুধবারেই তাঁর পার্লামেন্টে বক্তৃতার সময়ে আসাদ ঘোষণা করবেন জরুরী অবস্থা প্রত্যাহারের নির্দেশ. কিন্তু রাষ্ট্রপতি শুধু এইটুকু বলেই ক্ষান্তি দিয়েছেন যে, তিনি সিরিয়ার নেতৃত্বের রাজনৈতিক সংশোধনের লক্ষ্যকে সমর্থন করেন. বাশার আসাদ বিশ্বাস করেন যে, সিরিয়াতে বিক্ষোভের কারণ সংখ্যালঘু দলের লোকেদের চক্রান্ত, যা বাইরে থেকে উস্কানি দেওয়া হয়েছে.

    পশ্চিমে এর মধ্যেই কেউ কেউ সিরিয়ার পরিস্থিতিকে লিবিয়ার ঘটনার সঙ্গে তুলনা করতে শুরু করেছে. আমেরিকার কংগ্রেসের সদস্যরা যেমন, ঘোষণা করে বসেছেন যে, রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামার উচিত্ সিরিয়ার বিরোধী পক্ষকে সমর্থন করা. তাঁর বিশেষ ধরনের "শান্তিপ্রিয়" রাজনৈতিক মতবাদ নিয়ে রিপাব্লিকান দলের সেনেট সদস্য জন ম্যাকেইন মনে করেন যে, "ওয়াশিংটনের উচিত্ জোর গলায় ও পরিস্কার ভাবে সিরিয়ার প্রশাসনের বিরুদ্ধে ঘোষণা করা". আর সংবাদ মাধ্যমে "দ্য উইকলি স্ট্যান্ডার্ড" জার্নাল এই সেনেট সদস্যের কথাকে এই ভাবে ব্যাখ্যা করে লিখেছে যে, "নিজের সন্দেহ বা অগ্র পশ্চাত্ বিবেচনার ক্ষেত্রে স্থিরতা না থাকা স্বত্ত্বেও রাষ্ট্রপতি ওবামা আমাদের আরও একটি মুসলিম দেশের সঙ্গে যুদ্ধের দিকে ঠেলছেন, এটা খুব ভাল কথা"! আর ধরে নিয়েছে যে, লিবিয়া হল সিরিয়া ও ইরানের আগে প্রধান মহড়া. এই কথা সত্য যে, বারাক ওবামা, যাঁকে এর মধ্যেই সমগ্র বিশ্বে আরব বিরোধী যুদ্ধের নেতা বলে আখ্যা দেওয়া হয়ে গিয়েছে, তিনি অবশ্য অন্য মতই প্রকাশ করেছেন. অন্ততঃ সোমবারে লিবিয়াতে অপারেশনের ভার ন্যাটো জোটের নেতৃত্বের হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলতে গিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে: বিশ্ব ওয়াশিংটনের কাছ থেকে সমস্ত রকমের "মানবিক সঙ্কটের" ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ আশা করতে পারে না. আর সিরিয়াতে কোন রকমের সামরিক শক্তি প্রয়োগের পরিকল্পনা আমেরিকা করছে না.

    রাশিয়াতে একই সঙ্গে মনে করা হয়েছে যে, লিবিয়ার ঘটনা পরম্পরার পুনরাবৃত্তি সিরিয়াতে হবে না. এই দুই দেশে আভ্যন্তরীণ পরিকাঠামো খুবই বেশী রকমের ভাবে আলাদা, এই কথা রেডিও রাশিয়াকে এক সাক্ষাত্কার দেওয়ার সময়ে বলেছেন প্রাচ্য বিশারদ ও রাজনীতিবিদ স্তানিস্লাভ তারাসভ, তিনি যোগ করেছেন:

    "সিরিয়ার সমাজ আরও বেশী করে জোট বদ্ধ. নিকট প্রাচ্যে সিরিয়া সব সময়েই বিশেষ জায়গা নিয়েছে, তারা নিকট প্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সব সময়েই বিশেষ ভূমিকা নিয়েছে. তারা এখনও লেবাননে মুখ্য প্রভাব বিস্তার কারী দেশ, তারা প্রতিবেশী তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা শুরু করেছে. আর প্রসঙ্গতঃ বলা যেতে পারে যে, তুরস্ক ও লিবিয়ার মধ্যে পারস্পরিক সীমান্ত একটি এমন বিষয়, যা সিরিয়ার পরিস্থিতিকে এত উত্তাল হতে দেবে না, যে রকম ভাবে লিবিয়াতে পরিস্থিতি বদলে যাচ্ছে".

    সিরিয়ার অবস্থানের অন্যতম ভূমিকার কথা পশ্চিমের রাজনীতিবিদেরাও উল্লেখ করেছেন. তাঁরা উল্লেখ করেছেন যে, আসাদ রাষ্ট্রপতি পদে বহাল থাকলে বহু পক্ষেরই লাভ হবে. লেবাননকে শান্ত রাখতে ইজরায়েলের প্রয়োজন আসাদ কে. বর্তমানের রূপে আমেরিকার লোকেদেরও সিরিয়াকে প্রয়োজন – যাতে ইরাক থেকে সেনা বাহিনী প্রত্যাহার করা সম্ভব হয়.

    উল্লেখ যোগ্য হল যে, বাশার আসাদ যে পদত্যাগ করুন, তা কিন্তু সিরিয়াতে বিরোধী পক্ষও চাইছে না. তাঁদের জরুরী অবস্থা প্রত্যাহারের দাবীর সঙ্গে অন্যান্য যে সমস্ত দাবী রয়েছে, তা হল "বাস" দলের রাজনৈতিক একনায়ক তন্ত্রের অবসান করা. আর সিরিয়ার সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষমতার বিষয়ে সংশোধনের ক্ষেত্রে সম্মতি বাস্তবে দেওয়া হয়ে গিয়েছে. সুতরাং, খুব সম্ভবতঃ, পশ্চিম তাদের আরও একটি "শান্তিরক্ষা" অপারেশনের বিষয়ে – এই বারে সিরিয়াতে – বোধহয় তাড়া হুড়ো করবে না.