৩১শে মার্চ বৃহস্পতিবার ৪৫ বছর হল, যবে থেকে সোভিয়েত দেশে কক্ষপথে প্রথম পৃথিবীর কৃত্রিম উপগ্রহ ও প্রথম মানুষকে পাঠিয়ে মহাকাশ বিজ্ঞানে একটি প্রতীকী উন্নতি প্রদর্শন করেছিল. ১৯৬৬ সালের ৩১শে মার্চ পৃথিবী থেকে প্রথম চাঁদের কৃত্রিম উপগ্রহ "লুনা – ১০" ছাড়া হয়েছিল, যা ছিল মানব ইতিহাসে প্রথম.

    বিশ্ব তখনও আগের বৈজ্ঞানিক চাঞ্চল্যকর ঘটনা থেকে শান্ত হতে পারে নি. সেই বছরেরই ফেব্রুয়ারী মাসে সোভিয়েত মহাকাশ স্টেশন "লুনা – ৯" প্রথমবার চাঁদের পিঠে আস্তে করে নেমেছিল ও বিশ্বে পাঠিয়েছিল টেলিভিশনের ছবি. আর আবার সমস্ত বিশ্বে নানা ভাষার সংবাদপত্রে উজ্জ্বল অক্ষরে লেখা হয়েছিল মহাকাশে সোভিয়েত বিজ্ঞানের সাফল্যের কথা. চাঁদের উপগ্রহ – তখন বিশ্বের বিজ্ঞান এই রকমের কিছুর কথা জানত না. যাতে এই স্টেশন সঠিক ভাবে চন্দ্র পৃষ্ঠের মৃদু আকর্ষণকে ধরতে পারে, তার জন্য খুবই নিখুঁত ভাবে তার গতিবেগ কমাতে হয়েছিল, তা না হলে স্টেশন হয় চাঁদে আছড়ে পড়ত অথবা পাশ দিয়ে বেরিয়ে যেত. সোভিয়েত ব্যালিস্টিক গতি বিজ্ঞানীরা এই প্রশ্নে দারুণ কাজ করেছেন. আর যদি "লুনা – ১০" এর বৈজ্ঞানিক অবদানের কথা বলতে হয়, তবে এই স্টেশন প্রাথমিক ভাবে বিখ্যাত হয়েছিল চন্দ্র পৃষ্ঠের আকর্ষণের বহু রকম ফের সম্বন্ধে তথ্য দিয়ে, এই বিষয়ে রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর ভূ রাসায়নিক ইনস্টিটিউটের দপ্তর প্রধান মিখাইল মারভ বলেছেন

    এই স্টেশনের কক্ষপথ যথেষ্ট সঠিক ভাবে নির্ণয় করা সম্ভব হয়েছিল, এর ফলে সম্ভব হয়েছিল কিছু রকম ফের ধরতে পারার, চাঁদের অনিয়মিত আকর্ষণের ক্ষেত্র. অংশতঃ ভারের শক্তি চাঁদের কিছু অংশের সঙ্গে জড়িত, যেখানে মহাকাশের অন্যান্য পদার্থের প্রচণ্ড বড় মাপের উল্কা পাতের চিহ্ন রয়েছে, যার ফলে পদার্থ আরও ঘনীভূত হয়েছিল ও মাধ্যাকর্ষণ শক্তির অনিয়মিত পরিবর্তন করেছিল. যদি এই আকর্ষণ হত শুধু চাঁদের ভর কেন্দ্র নির্ভর ও নিয়মিত, তবে কক্ষপথে কোন ভাবেই পরিবর্তিত হত না. আর তা লক্ষ্য করা গিয়েছিল যেমন চাঁদের কেন্দ্র থেকে দূরত্বের উপরে নির্ভর করে, তেমনই তার গতি বেগের উপরে গবেষণা করে.

    এই আকর্ষণের অনিয়মিত বিষয়ে আবিষ্কার আমেরিকার লোকেদের খুবই উদ্বিগ্ন করেছিল তাদের অ্যাপেলো প্রকল্প তৈরী হচ্ছিল, আর এখন টের পাওয়া গেল যে, তাদের চাঁদের মাটিতে নামার যান একেবারেই নির্দিষ্ট জায়গায় না নেমে অন্য কোথাও নামতে পারে. আমেরিকার তাহলে চাঁদে বেশ কিছু উপগ্রহ পাঠিয়ে হিসাব শেষ করতে হবে. যদিও "লুনা – ১০" এর প্রস্তুতি করা হয়েছিল বেশ তাড়াহুড়ো করেই. এই স্টেশনে এমনকি ফোটো তোলার ক্যামেরা পাঠানো যায় নি, যদিও এই পরিকল্পনায় চাঁদের পিঠের থেকে ছবি তুলে পৃথিবীতে পাঠানোর কথা ছিল ও তা আলাদা রকমের চাঞ্চল্য সৃষ্টি করতে পারত.

    তিন মাস ধরে বিশ্বে পাওয়া গিয়েছিল এই স্টেশনের মধ্যে পাঠানো যন্ত্র থেকে তথ্য তার মধ্যে ছিল চৌম্বক ক্ষেত্র পরিমাপের যন্ত্র, মহাকাশের রশ্মি তরঙ্গ নির্ণয়ের যন্ত্র, উল্কা থেকে পড়া অংশের সম্বন্ধে তথ্য পাওয়ার যন্ত্র আর গামা – স্পেকট্রোমিটার. তারপর এই স্টেশন নীরব হয়ে গিয়েছিল, গ্যালভানিক ব্যাটারী ফুরিয়ে যাওয়ার ফলে থেমে গিয়েছিল যন্ত্রের তথ্য পাঠানো. সৌর ব্যাটারী "লুনা – ১০" এ ছিল না – সেটা বহুদিন ধরে ব্যবহার করার কথাও ছিল না.

    চাঁদের কক্ষ পথের প্রথম অভিযাত্রী হয়ে "লুনা – ১০" মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে তার উপযুক্ত জায়গাতেই রয়েছে. আর "লুনা – ১২" থেকে চাঁদের পিঠের বহু প্রতীক্ষিত ছবি সেই বছরেরই হেমন্তে পাওয়া গিয়েছিল.

    রাশিয়ার বিজ্ঞানীদের পৃথিবীর এই অন্যতম উপগ্রহের প্রতি কখনই কমে যায় নি. রাশিয়ার মহাকাশ সংস্থা ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর সঙ্গে একসাথে চাঁদ নিয়ে এক দারুণ প্রতিশ্রুতিময় মহাকাশ অভিযান প্রকল্প হাতে নিয়েছে, নাম "চন্দ্রযান – ২" (চাঁদের জাহাজ). বর্তমানে এই প্রকল্পের জন্য যন্ত্রপাতি ও যানের কাঠামো নিয়ে কাজ চলছে, এতে দুটি অধ্যায় – একটি চাঁদের কক্ষ পথে থাকবে, অন্যটি চাঁদের পিঠে নেমে তথ্য সংগ্রহ করে ফিরে আসবে. যেটি চাঁদের পিঠে নামবে তার ওজন ৩০ থেকে ১০০ কিলোর মধ্যে হবে, চাঁদে তার কাজ করার কথা দুই তিন সপ্তাহ. এই স্টেশন কোথায় নামাতে হবে, তা ঠিক করা হবে "চন্দ্রযান – ১" পাঠিয়ে. পৃথিবীর এই কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠানোর কথা ২০১৩ সালে.