মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা লিবিয়াতে গুপ্তচর সংস্থা সি আই এ র গোপন কাজ কারবার করার অনুমতি দিয়েছেন, যাতে মুহম্মর গাদ্দাফির প্রশাসনের সঙ্গে যুদ্ধে রত বিদ্রোহী যোদ্ধাদের সমর্থন করা যায়. এই দলিল দুই তিন সপ্তাহ আগে স্বাক্ষরিত হলেও এই বিষয়ে সদ্য জানা গিয়েছে. আমেরিকার সংবাদ মাধ্যমে এই খবর জানাজানি হয়েছে সময় বুঝে, যখন জানা গিয়েছে যে, স্বৈরতন্ত্রী শাসকের সেনা বাহিনী বিদ্রোহী যোদ্ধাদের অবস্থান গুলির উপরে আক্রমণ শুরু করেছে.

    বাস্তবে এখানে কথা হচ্ছে গাদ্দাফির বিরোধী দের অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করার. যদিও কোথাও লেখা নেই যে, এটা এখনই হতে পারে. তবুও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির নির্দেশে বলা হয়েছে যে, "বিভিন্ন রকমের উপায়ের সন্ধান করা হচ্ছে বিদ্রোহীদের সাহায্য করার", "যারা আকাশ পথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগী দেশ গুলির প্রবল সহায়তা স্বত্ত্বেও যুদ্ধ ক্ষেত্রে সব দিক থেকেই হঠে যাচ্ছে". প্রসঙ্গতঃ সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, এই ধরনের বিস্তৃত বোমা বর্ষণ মাটির থেকে দিক নির্দেশ করে না দিলে সম্ভব নয়. আর এর মানে হল, সি আই এ সংস্থার গুপ্তচরেরা, ব্রিটিশ গুপ্তচর সংস্থা মি – ৬ এর গুপ্তচর সংস্থার প্রতিনিধিদের মতই বহুদিন ধরেই লিবিয়ার মধ্যেই রয়েছে. আর সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, তারা শুধুই বিমান বহরের কাজকর্ম নিয়ন্ত্রণ করছে না, বরং বিদ্রোহীদের নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে. এই সম্বন্ধে অংশতঃ খবর দিয়েছে আমেরিকার সংবাদপত্র "নিউইয়র্ক টাইমস".

    লিবিয়াতে পশ্চিমের বিশেষ বাহিনীর সক্রিয়তা বৃদ্ধির অর্থ একটিই – এই দেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ. আর এটা রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৯৭৩ নম্বর সিদ্ধান্তের পরিস্কার লঙ্ঘণ. এর লক্ষ্য ছিল: শান্তিপ্রিয় জনসাধারনকে শুধু রক্ষা করা. কিন্তু এই দলিলের বিষয়ে বহু বাক্যের অনির্দিষ্ট গঠনের কারণে, এক্ষেত্রে শক্তি প্রয়োগের সীমানা বৃদ্ধি করা যেতেও পারে. এই খান থেকেই এই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সেই সমস্ত দেশেরা, যারা এটাকে বাস্তবে সম্ভব করতে চেয়েছে, তাদের কাজ কারবারে দ্বিমুখী নীতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে. আরও বেশী হল, পশ্চিমের জোটের পক্ষ থেকে অস্ত্র দিয়ে বিরোধী পক্ষকে সাহায্য করার বিষয়ে তৈরী থাকার কথাবার্তা বিপজ্জনক এই কারণে যে, সেখানে দেখা হচ্ছে না এই বিরোধীদের মধ্যে নানা ধরনের দলাদলি থাকার বিষয় ও সম্ভবতঃ চরমপন্থী ঐস্লামিক দলের উপস্থিতিও. এই বিষয়ে মনোযোগ দিয়ে রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ বলেছেন:

    "খুবই উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো খবর আসছে যে, বিরোধী পক্ষের শক্তির মধ্যে খুবই সম্ভবতঃ আল- কায়দা দলের লোকেরা রয়েছে. অবশ্যই এটা উদ্বেগের কারণ না হয়ে পারে না. আমরা সকলেই বুঝতে পারছি যে, কি করে এই দুরারোগ্য ব্যাধি সমস্ত এলাকাতেই ছড়িয়ে যেতে পারে, আর তা শুধু এই অঞ্চলেই নয়. বরং আরও বোঝা যাচ্ছে যে, কি এখন করা উচিত্. আমি বিশ্বাস করি যে, গোলাগুলি বন্ধ করা ও অবিলম্বে আলোচনা শুরু করা হওয়া উচিত প্রধান ও প্রাথমিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ কাজ. লিবিয়ার জনগনকে পরে কি রকমের রাষ্ট্রে থাকা উচিত্, তা নির্ণয় করার দায়িত্ব লিবিয়ার পক্ষ দেরই. বোঝাই যাচ্ছে যে, এটা হবে অন্য রকমের প্রশাসন. এটা পরিস্কার যে, তা গণতান্ত্রিক হতে বাধ্য. কিন্তু তা নিয়ে সিদ্ধান্ত করার দায়িত্ব লিবিয়ার লোকেদেরই, বাইরের থেকে কোন রকমের প্রভাব ছাড়াই. আর বাইরের প্রভাব শালীরা সব রকম ভাবে এই প্রক্রিয়াকে সাহায্য করতেই বাধ্য".

    বহু বিশারদেরা মনে করেছেন যে, রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তের এক তরফা ব্যাখ্যা লিবিয়ার লোকেদের স্বার্থের সঙ্গে খুব কমই খাপ খেতে পারে. এর পিছনে রয়েছে সম্পূর্ণ অন্য ধরনের লক্ষ্য, এই কথা মনে করেছেন রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের তুলনামূলক রাজনৈতিক অনুসন্ধান কেন্দ্রের প্রধান বরিস শ্মেলেভ, তিনি প্রসঙ্গতঃ বাদ দেন নি যে, গুপ্তচর সংস্থা গুলির সক্রিয়তার পিছনে রয়েছে পদাতিক অনুপ্রবেশের জন্য তৈরী হওয়ার চেষ্টা, তাই তিনি বলেছেন:

    "যদিও বিগত কিছু বছর ধরে পশ্চিমের দেশ গুলির সঙ্গে গাদ্দাফির সম্পর্কের ক্ষেত্রে যথেষ্ট ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল, তাও বোঝা গিয়েছিল যে, এই ব্যক্তি নিয়ন্ত্রণের বাইরে. বোধহয়, এই খানেই বর্তমানের লিবিয়া নিয়ে পরিস্থিতিকে বুঝতে পারার চাবি কাঠি রয়েছে. সঠিক ভাবে বলতে হলে, যা এখন লিবিয়ার চারপাশ ঘিরে হচ্ছে. আর ১৯৭৩ নম্বর সিদ্ধান্ত ব্যবহার করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার সমস্ত জোটের দেশকে এক করে গাদ্দাফিকে সরিয়ে, তার জায়গায় সেই সমস্ত লোকেদের নিয়ে আসতে চায়, যাদের নিয়ন্ত্রণ করা হবে সোজা".

    আর এই একই সময়ে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা, যাঁরা লন্ডনে লিবিয়া সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ২৯ শে মার্চ গিয়েছিলেন, তাঁরা ঠিক করেছেন লিবিয়ার সঙ্কটের  রাজনৈতিক দিক নিয়ে আলোচনার জন্য এক যোগাযোগের দল গড়বেন. প্রথমে এই সম্মেলন ভাবা হয়েছিল যে, যারা রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৯৭৩ সিদ্ধান্ত পালন করছে, তাদের সাক্ষাত্কার. পরে এই সম্বন্ধে কেমন করে যেন ভুলে যাওয়া হয়েছিল. এই সম্মেলনে সিদ্ধান্ত "ছিল", বলা যেতে পারে একটা বর্ণহীন চালচিত্র হয়ে.