বসন্তের সঙ্গেই শুরু হয়েছে ভারত পাকিস্তান সম্পর্কের মধ্যে উষ্ণতার বৃদ্ধি. এটাকে নিয়ে এসেছে তথাকথিত বিখ্যাত ক্রিকেট কূটনীতি. ভারতে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সেমিফাইনালে ভারত ও পাকিস্তান দলের মধ্যে খেলা দেখতে হাজির হয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি. তিনি ভারতীয় সামরিক হেলিকপ্টার চড়ে এসেছেন, যা থেকে বলা যেতে পারে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক ভরসার উন্নতি হয়েছে. খেলা দেখা ও তারপর অনুষ্ঠান বিহীণ আলোচনা চক্রে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে কথাবার্তা বলতে, তাঁকে ভারতে ডেকে এনেছেন তাঁর ভারতীয় সহকর্মী ডঃ মনমোহন সিংহ. বিষয়টিকে নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    হতে পারে এর মধ্যে বসন্তের কোন ভূমিকাই নেই. ভারতের মধ্যের জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতি, যা খুবই উচ্চকিত দুর্নীতি সংক্রান্ত স্ক্যাণ্ডালের কারণে তৈরী হয়েছে, তা ভারতীয় নেতৃত্বকে পাকিস্তানের বিষয়ে কিছুটা অবস্থান নরম করতে বাধ্য করেছে. ইসলামাবাদেরও বোধহয় ভারতের সাথে শান্তি খোঁজাই ভাল, তার বিরুদ্ধে যাওয়ার চেয়ে. কিন্তু সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করা সবসময়েই কঠিন, তা খারাপ করার চেয়ে. ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দুই বছরেরও বেশী সময় লেগেছে শান্তি আলোচনায় ফিরে আসতে, বিশেষত ২০০৮ সালের নভেম্বরে একদল পাকিস্তান থেকে আসা সন্ত্রাসবাদীর ভারতের মুম্বাই শহরে বহু জায়গায় আক্রমণের পর যা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল. এই গুণ্ডা আক্রমণের ফলে ১৬৬ জন ভারতীয় ও এই বিশাল শহরে আসা বহু অতিথির মৃত্যু হয়েছিল.

    মোহালি শহরে এই অনুষ্ঠান বিহীণ সাক্ষাত্কারের ফলে অবশ্যই দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি হবে, এই কথা বলে ভারতীয় অনুসন্ধান কেন্দ্রের প্রধান তাতিয়ানা শাউমিয়ান মন্তব্য করেছেন:

    "পাকিস্তানের প্রধান মন্ত্রীর ভারতে এই পরিস্থিতিতে আসা, যখন দুই দেশের মধ্যে বহু প্রশ্ন এখনও অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছে, - তখন এটাকে খুবই ইতিবাচক বলা যেতে পারে. এত বছরের বিরোধের পরে সম্পর্ক ঠিক করার পথ খুঁজতে হবে, তা সভ্য রূপ দিতে হবে. পাকিস্তানেও রাজনৈতিক পরিস্থিতি জটিল, আর ভারতের সঙ্গে বিরোধ শুধু আরও বেশী করে তা জটিল করছে. ভারতেরও প্রয়োজন সীমান্তে সুপ্রতিবেশীকে পাওয়া, শত্রু দেশের চেয়ে. দুই দেশের সময় হয়েছে বিরোধ থেকে বেরিয়ে এসে আলোচনার টেবিলে বসার".

    প্রথম ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিচ্ছিন্ন সম্পর্কের পুনরুদ্ধারের কথা গত বছরের এপ্রিল মাসে ভুটানের থিম্পু শহরে সার্ক দেশগুলির সম্মেলনে ভারত ও পাকিস্তানের নেতারা প্রকাশ করেছিলেন. দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শুরু করার সিদ্ধান্ত এই বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে ভারত ও পাকিস্তান নিয়েছে. এই সপ্তাহের শুরুতে দিল্লী শহরে ভারতের উপ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী গোপাল কৃষ্ণ পিল্লাই তাঁর পাকিস্তানের সহকর্মী কামার জামানের সঙ্গে দুই দিন ধরে এক আলোচনা করেছেন, তা খুবই সফল হয়েছে. ইসলামাবাদ রাজী হয়েছে ভারতীয় স্বরাষ্ট্র দপ্তরের কর্মীদের লস্কর এ তৈবা দলের পাকিস্তানে ধরা পড়া লোকেদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে দিতে. দিল্লীর মতে তারা ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার সম্বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ খবর দিতে পারবে. নিজেদের পক্ষ থেকে ভারত রাজী হয়েছে ১৮ই ফেব্রুয়ারী দিল্লী থেকে লাহোরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়া সমঝোতা এক্সপ্রেস ট্রেনে বোমা বিস্ফোরণের বিষয়ে অনুসন্ধানের তথ্য তুলে দিতে. তখন এই ট্রেনে প্রায় ৭০ জন নিহত ও ১০০ জন আহত হয়েছিল.

    এই সাক্ষাতের গুরুত্বপূর্ণ ফল হয়েছে আরও অনেকগুলি বিষয়ে সহমতে আসতে পেরে. সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, দিল্লী ও ইসলামাবাদের ভিতরে ২৪ ঘন্টা হট লাইন চালু করা হবে সন্ত্রাসবাদী সম্পর্কে খবর আদান প্রদানের জন্য. এই আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা জুলাই মাসে ভারত ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীদের আলোচনার বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন. তাঁরা দুই পক্ষের থেকে সীমান্ত পার হওয়া সন্ত্রাস সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে কথা বলেছেন, কারণ এই সমস্যা দক্ষিণ এশিয়াতে এই অঞ্চলকে সবচেয়ে উত্তেজিত করে রেখেছে.

    বহু বিশ্লেষকেরা মন্তব্য করেছেন যে, পুনরারম্ভ করার পরে আলোচনা হয়ত সহজ হবে না. কারণ দুই দেশ এখনও কাশ্মীর ও সিয়াচেন হিম হ্রদ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে বিভক্ত, আফগানিস্তানে চলছে পারস্পরিক প্রতিযোগিতা প্রভাব বিস্তারের ও দুই দেশের সম্মিলিত নদী নিয়ে সমস্যা বৃদ্ধি. ভারতের নিরাপত্তা সম্পর্কেও পাকিস্তান ও ভারতে সক্রিয় বহু চরমপন্থী দলের সমস্যা এখনও সমাধানের থেকে অনেক দূরে. কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, বদ্ধ জলায় স্রোত থাকে না.