ত্রিপোলি শহরের দিকে লিবিয়ার বিদ্রোহীদের বিজয়ের রথ কাদায় আটকেছে. বুধবারে মুহম্মর গাদ্দাফির সামরিক শক্তির আঘাতে বিদ্রোহীরা দ্রুত রাস- লানুফ ও মার্স- এল- ব্রেগা ছেড়ে পালাচ্ছে. এর আগে তারা পালিয়েছে ভূমধ্যসাগরের আরও একটি বন্দর শহর বেন- ঝাওয়াদা থেকে.

    প্রতিঘাত করার সময়ে সরকারি ফৌজ ট্যাঙ্ক ও কামান ব্যবহার করেছে, যার ফলে সশস্ত্র বিদ্রোহী পক্ষের যোদ্ধারা ভীত হয়ে উঠেছে. তারা আগে গত রবিবারে প্রায় বিনা যুদ্ধে আন্তর্জাতিক জোটের দারুণ শক্তিশালী বোমা ও রকেটের জোরে দখল করা সব শহর ছেড়ে পালাচ্ছে. মঙ্গলবারে বিদ্রোহীরা পশ্চিমের সাহায্য পাওয়া থেকে বিচ্যুত হয়েছে আর তাই এখন পূর্বে বেনগাজির দিকে পালাতে বাধ্য হচ্ছে. এই জায়গা বিদ্রোহীরা সেই ১৯শে মার্চ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, গ্রেট ব্রিটেন ও ফ্রান্স সহ আন্তর্জাতিক জোটের মুহম্মর গাদ্দাফির অনুগত সেনা বাহিনীর উপরে সামরিক আঘাত হানার জন্য বোমা বর্ষণের আগে থেকেই দখল করে রেখেছিল.

    গত দুই দিনে বিদ্রোহীরা পশ্চিমের জোটকে খুবই নিরাশ করেছে. কারণ তারা তিনটি খনিজ তেল রপ্তানী করার উপযুক্ত বন্দর শহরের উপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে. আর ইউরোপীয় সংঘ আশা করেছিল এই সপ্তাহ থেকেই কাতারের মধ্যস্থতায় লিবিয়ার থেকে খনিজ তেল আমদানী শুরু করতে পারবে.

    গত রাত্রে ফ্রান্সের বিমান বাহিনী লিবিয়ার ত্রিপোলির কাছে বেশ কিছু আকাশ প্রতিরক্ষা ঘাঁটি ও অস্ত্র ভাণ্ডারের উপরে  বোমা ফেলেছে. রাজধানীতে গাদ্দাফির বাস ভবনের পাশেও বোমা ফেলা হয়েছে. তার মধ্যে বিদ্রোহী যোদ্ধাদের পক্ষে এখন দ্রুত ত্রিপোলি বা গাদ্দাফির নিজের শহর সির্ত দখলের কথা তো উঠতেই পারে না. আরও বেশী করে এই দুই কেন্দ্রের মাঝখানের শহর মিসুরাত গাদ্দাফির অনুগত সেনারা এক বলয়ের মধ্যে আটক করেছে, সেখানের বিদ্রোহীরা বন্দী, তাদের এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সাহায্যও কাজ দেয় নি, যারা কিনা লিবিয়ার তিনটি উপকূল রক্ষী জাহাজ ধ্বংস করে দিয়েছিল.

    দেখাই যাচ্ছে যে, বিদ্রোহীদের সামান্য প্রযুক্তিগত সম্ভাবনা গাদ্দাফির সেনা বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে পেরে ওঠার বিষয়ে কোন ফল দিচ্ছে না. তারা পশ্চিমের কাছ থেকে শুধু রাজনৈতিক সাহায্যই নয়, এমনকি অস্ত্রও চাইছে. কিন্তু সেই রকমের সরবরাহ হলে, তা হবে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তের খুবই কর্কশ অমান্য করা. এরই মধ্যে ফ্রান্স বিদ্রোহী যোদ্ধাদের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা করতে তৈরী হয়েছে. এই রকমের একটা সম্ভাবনার কথা ইতালিও বাদ দিচ্ছে না.

    অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অর্থ হবে তা আল- কায়দা দলের পক্ষের লোকেদের হাতেও পড়তে পারে. লিবিয়ার বিদ্রোহীদের মাঝে তারাও যে রয়েছে তার সম্ভাবনা ন্যাটো জোটের গুপ্তচরেরা  নাকচ করতে পারে নি. ব্রিটেনের সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সাহায্য পাওয়া বিশ্লেষণের কেন্দ্র কুইলিয়াম সোজাই সাবধান করে দিয়ে বলেছে যে, লিবিয়ার ঘটনা এর আগের চেয়ে অনেক বেশী সম্ভাবনা করে দিয়েছে ঐস্লামিক চরমপন্থীদের সক্রিয় হওয়ার. এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হয়ে রাশিয়ার রাজনীতি বিশেষজ্ঞ গিওর্গি মিরস্কি বলেছেন:

    "ঐস্লামিক চরমপন্থীদের লিবিয়াতে অবস্থান অবশ্যই শক্তিশালী হবে. এখন কোন রকমের ভরসা নেই যে, এমনকি বিদ্রোহীরাও যদি জেতে, তবে তাদের মধ্যে ঐস্লামিকেরা থাকবে না. আর আল – কায়দা, যারা গাদ্দাফির শাসনে ছিল না, তারা এখন সন্দেহ নেই যে আসবে. যেমন ইরাকে হয়েছে. সাদ্দামের সময়ে এটা ছিল না, আর তারপরে তারা সেখানের সমস্ত অঞ্চলেই প্রায় নিজেদের মূল ঘাঁটি বানিয়ে ফেলেছে. আর লিবিয়াতেও ইরাকের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে পুরো".

    এটাই ন্যাটো জোটের শক্তির জন্য আরও একটি সাবধান বাণী হতেই পারে, যারা এখন নাকি যুদ্ধ করতে ছুটছে, তাদের জন্য, আজ বিদ্রোহীদের রাজনৈতিক ও সামরিক সাহায্য যেন না করা হয়, যাতে কাল বাধ্য হয়ে আল কায়দার বিরুদ্ধে লিবিয়ার ভূমিতেই যুদ্ধ শুর করতে না হয়.