মস্কো লিবিয়া নিয়ে লন্ডনে আয়োজিত জোটের সম্মেলনের কাছ থেকে প্রস্তাবিত প্রশ্নগুলির উত্তর আশা করেছে. এই গুলি রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ স্বয়ং উচ্চারণ করেছেন. পশ্চিমের জোট বর্তমানে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত লঙ্ঘণ করছে বলে মন্ত্রী ঘোষণা করেছেন. লাভরভ ন্যাটো জোটকে সাবধান করে দিয়ে বলেছেন যে, লিবিয়াতে আফগানিস্তান বা ইরাকের মতো করে ঘটনার পট পরিবর্তন করা যেতে পারে না.

   বিশ্বের চল্লিশটির বেশী দেশের প্রতিনিধিরা, যারা লন্ডনের এই সম্মেলনে অংশ নিতে এসেছেন, তাঁরা প্রধান যে প্রশ্ন নিয়ে আলেচনা করবেন যে, কতটা সঠিক ভাবে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত লিবিয়ার আকাশকে উড়ান মুক্ত করার নির্দেশ বর্তমানে পালন করা হচ্ছে? সের্গেই লাভরভ মনে করেছেন যে, এই দেশের গৃহযুদ্ধের অগ্রগতিতে ন্যাটো জোটের অনুপ্রবেশ উপোরক্ত সিদ্ধান্তের সীমা পার করে করা হয়েছে.

   লন্ডন সম্মেলনের অংশগ্রহণকারীদের সামনে আরও একটি প্রশ্ন রয়েছে: ন্যাটো জোটের প্রসারিত বোমা বর্ষণের ফলে লিবিয়াতে নিহত জন সাধারনের সংখ্যা নিয়ে তথ্য সংগ্রহ রাষ্ট্রসংঘের পক্ষ থেকে কবে শুরু করা হবে? তাই লাভরভ বলেছেন:

   “আমরা সেই সমস্ত খবরে উদ্বিগ্ন, যা এখনও কোন ভাবেই প্রমাণ করা সম্ভব হচ্ছে না যে, জোটের আঘাত হানার ফলে শান্তিপ্রিয় মানুষের মধ্যে কত লোক হতাহত হয়েছেন, আমরা চাই এই সংবাদের তথ্যকে পরীক্ষা করে দেখা হোক. এর জন্য সমস্ত রকমের সুযোগ রয়েছে. অংশতঃ রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব লিবিয়ার প্রশ্নে তাঁর বিশেষ প্রতিনিধি নির্বাচন করেছেন ও যাঁর প্রধান কর্মসূচী হল প্রাথমিক ভাবে লিবিয়ার মানবিক প্রশ্ন গুলিকে মনোযোগ দেওয়া”.

   এরই মধ্যে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সোমবারের বিশেষ অধিবেশনে এই সম্বন্ধে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় নি. যেমন, বাকি প্রসঙ্গ গুলিতেও তা করা হয় নি, তার মধ্যে লিবিয়ার প্রতি নিযেধাজ্ঞা ও আমদানী রপ্তানী বন্ধ করা প্রসঙ্গেও. একই ভাবে আগের রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশন গুলিও কোন রকমের নির্দিষ্ট ফল ছাড়াই শেষ হয়েছিল. তাই মস্কো আহ্বান করেছে আরও একটি ব্যবস্থাকে সক্রিয়া করতে, যা লিবিয়াতে রক্তক্ষয় বন্ধ করার বিষয়ে বাস্তবে সাহায্য করতে পারে. আফ্রিকার দেশ গুলির জোটের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে লিবিয়াতে পাঁচটি আফ্রিকার দেশের রাষ্ট্রপতিকে পাঠানো হোক, এই কথা লন্ডনের সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলির প্রতিনিধিদের মনে করিয়ে দিয়ে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান সের্গেই লাভরভ বলেছেন:

   “আশা করব যে, এই মিশন সম্ভব হবে. অন্ততঃ লিবিয়াতে যে রক্তপাত চলছে, তা বোধহয় দীর্ঘকাল চলতে পারে না. লিবিয়ার জনগন ও এই অঞ্চলের সমস্ত দেশের ও বিশ্বের স্থিতিশীলতার স্বার্থে যত দ্রুত সম্ভব এ শেষ করা দরকার. আর তার পরে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের জন্য সহমতে আসা প্রয়োজন, যা অবশ্যই এই দেশে বহু কাল ধরে মানুষের ইচ্ছাতে পরিনত হয়ে দানা বেঁধেছে, আর তা এই অঞ্চলের আরও বহু দেশেও হয়েছে”.

   সম্মেলনের আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, গ্রেট ব্রিটেন ও জার্মানীর নেতারা একসাথে লিবিয়ার মানুষদের তাঁদের ভবিষ্যত নির্ণয়ের অধিকার নিজেরাই নিতে পারবেন, এই কথা স্বীকার করেছেন. এছাড়া নিজের দেশের জনগনের প্রতি এক বক্তৃতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা তাঁর পূর্ববর্তী ভাষণের আশ্বাসের কথাই আবার বলেছেন যে, তাঁর দেশের লিবিয়াতে এই অপারেশনের ক্ষেত্রে ভূমিকা থাকবে সীমাবদ্ধ ও লিবিয়াতে দেশ থেকে পদাতিক বাহিনী পাঠানো অসম্ভব.

   ন্যাটো জোটের প্রধান সম্পাদক আন্দ্রেস ফগ রাসমুস্সেন একই সঙ্গে ভরসা দিয়েছেন যে – জোট রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সমস্ত দিকই বাস্তবায়িত করবে, তার বেশীও নয়, কমও নয়. তারই মধ্যে দেখাই যাচ্ছে যে, লিবিয়াতে বিদ্রোহী যোদ্ধারা ভূমধ্য সাগরের তীর ধরে ত্রিপোলির দিকে পশ্চিমে এগিয়ে চলেছে শুধু ন্যাটো জোটের বোমা বর্ষণের কারণেই. গত রাতে জোটের শক্তি রাজধানীতে শক্তিশালী আঘাত হেনেছে, যেখানে কম করে হলেও দশটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ লক্ষ্য করা গিয়েছে. কিন্তু এটা কি ভাবে ঘোষিত লক্ষ্য, অর্থাত্ দেশের জনগনকে গাদ্দাফির সেনা বাহিনীর থেকে রক্ষা করার জন্য অথবা উড়ান শূণ্য এলাকা তৈরী করার জন্য প্রচেষ্টার সঙ্গে জড়িত – তা বোঝা গেল না.