নতুন অস্ত্র সংযোজনে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক লক্ষ্য পূরণের সেনা বাহিনীর যুদ্ধ করার ক্ষমতা অনেক বেড়ে যাবে. ২০১০ সালে যুদ্ধের জন্য তৈরী অবস্থায় সরবরাহ করা হয়েছিল প্রথম নতুন চলমান মাটির উপর থেকে নিক্ষেপের উপযুক্ত রকেট ব্যবস্থা, যা “আর এস – ২৪” নামের রকেট দিয়ে তৈরী করা ও সেই সব রকেটের আঘাত করার মতো বোমা কয়েকটি ভাগে আলাদা হয়ে ভাগ হয়ে যাওয়ার মতো. সময়ের সঙ্গে এই ধরনের রকেট রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক পারমানবিক লক্ষ্য পূরণ সামরিক বাহিনীর “তোপল – এম” নামের রকেট ব্যবস্থার পরিবর্তে সম্পূর্ণভাবে নিযুক্ত হবে.

“ইয়ারস” নাম দেওয়া রকেট ব্যবস্থা “তোপল- এম” রকেটের আরও আধুনিক সংস্করণ, যা পরবর্তী কালে চলমান রকেট নিরাপত্তা ব্যবস্থা থেকে সরিয়ে নেওয়ার কথা হয়েছে. আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক রকেট “আর এস – ২৪” (“ইয়ারস”) তাপ প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের তৈরী, যেখানে “তোপল – এম” ব্যবস্থায় ব্যবহার করা প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে. এর ফলে নতুন রকেট তৈরীর সময়ে অনেক সময় ও খরচ কমবে. কিন্তু এই রকেট ব্যবস্থার প্রধান গুণ শুধু এটাতেই নয়, এই কথা উল্লেখ করে সামরিক ভবিষ্যত অনুসন্ধান কেন্দ্রের প্রধান আনাতোলি ত্সীগানক বলেছেন:

““ইয়ারস” – নতুন প্রজন্মের রকেট ব্যবস্থা. বাস্তবে এই রকেটের জন্য বর্তমানের রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থার কোন মানে নেই. আমেরিকার সেনা বাহিনী বর্তমানে যে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরী করছে, তা এই ধরনের রকেট অনায়াসে পার হয়ে যেতে পারে. এটাই এর মূল কথা”.

“ইয়ারস” রকেট ব্যবস্থা দুটি স্তরের ও কঠিন জ্বালানী ব্যবস্থা সম্পন্ন এবং তা ভারী শ্রেনীর আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক রকেট. কঠিন জ্বালানী সমেত রকেটের সুবিধা হল তা সহজে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে অতিক্রম করতে পারে. “ইয়ারস” রকেট একই সঙ্গে অনেক গুলি লক্ষ্যকে ধ্বংস করতে সক্ষম. এই রকেট একই সঙ্গে তরল জ্বালানী সমেত “আর এস – ২০” “ভয়েভোদা” নামের রকেটের পরিবর্তে আসছে. “আর এস – ২৪” তৈরী করার বিষয়ে দুই ধরনের দৃষ্টিকোণ রয়েছে. প্রথমটি অনুসারে, এই রকেট আগে জানা আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক রকেট “আর এস – ২২” এর অত্যন্ত গভীর আধুনিকীকরণের ফলে সৃষ্ট ও এখানে সেই সমস্ত প্রযুক্তিগত সমাধান ব্যবহার করা হয়েছে, যা করা হত “তোপল – এম” ব্যবস্থায়. অর্থাত্ এটা যেন “তোপল – এম” রকেট, শুধু এর অনেক গুলি ধ্বংস করার মতো বোমা রয়েছে. দ্বিতীয় মত অনুসারে, “ইয়ারস” তৈরী করা হয়েছে “তোপল – এম” রকেট ব্যবস্থার ভিত্তিতে ও তার সঙ্গে যোগ করা হয়েছে বাড়তি গতি বৃদ্ধি করার জন্য স্তর ও আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক রকেট “বুলাভা” তে যে রকমের একসাথে অনেক বোমা বিভিন্ন লক্ষ্যে নিক্ষেপ করা সম্ভব হয়, এখানেও সেই রকমের ব্যবস্থা রয়েছে. তা সে যেভাবেই হোক না কেন, “ইয়ারস” রকেটের দূরত্ব অতিক্রম করার ক্ষমতা প্রায় ১২ হাজার কিলোমিটার. “আর এস – ২৪” লক্ষ্যে একই সঙ্গে অনেকগুলি আলাদা জায়গায় ফেলার মতো ১৫০ থেকে ৩০০ কিলোটনের বোমা পৌঁছে দিতে পারে. ঠিক কতগুলি বোমা, তা অবশ্য জানা নেই. “ইয়ারস”, “আর এস – ২০” রকেটের থেকে কম ওজন নিয়ে গিয়ে ফেলতে পারে, কিন্তু ব্যবহার করার গুণাবলী অনুযায়ী ও মাটি থেকে সোজা উপরে ওঠার সময়ে গতি অর্জনের ক্ষমতা অনুযায়ী অনেক উন্নত. এই রকেটের আকৃতি এটাকে ভূগর্ভ থেকে বা চলমান প্ল্যাটফর্ম থেকে নিক্ষেপে করার বিভিন্ন সংস্করণের বিষয়ে সহজ করেছে. এই ব্যবস্থার ধ্বংস করার ক্ষমতা বিষয়ে যা বলা যেতে পারে, তা হল এই রকেট ১৯৪৫ সালে জাপানে আমেরিকার সেনা বাহিনী যে বোমা ফেলেছিল. তার থেকে ৪০ – ৫০ গুণ. এই রকেটের শুধু একটি বোমাই সাধারন বিমান থেকে বোমার সঙ্গে তুলনা করলে বলা যেতে পারে যে, তা যুদ্ধের সময়ে অগ্রবর্তী বোমারু বিমান বাহিনীর বেশ কয়েক হাজার বার উড়ে গিয়ে বোমা ফেলে আসলে, যতটা হতে পারে, তার সমান.

0 একটি বোমা সমেত “তোপল – এম” রকেটের সঙ্গে এই অনেক বোমা একসাথে বয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো, “ইয়ারস” ব্যবস্থা রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক সামরিক পারমানবিক শক্তি বাহিনীর প্রধান শক্তি হতে চলেছে আগামী ২০২০ সাল পর্যন্ত.