ইউরি গাগারীনের মৃত্যুর পরে ৪৩ বছর কেটে গিয়েছে. পৃথিবীর প্রথম মহাকাশচারী ২৭শে মার্চ ১৯৬৮ সালে এক অনুশীলন মূলক উড়ানের সময়ে দুর্ঘটনায় বিমান ধ্বংস হয়ে মারা গিয়েছিলেন. এই দুঃখের দিনে "রেডিও রাশিয়া" সেই সমস্ত তথ্য প্রকাশ করেছে, যার থেকে আধুনিক অনুসন্ধান কারীরা ইউরি গাগারীনের মৃত্যু সম্পর্কে যে রহস্য রয়েছে, তা উন্মোচিত করার সুযোগ পেতে পারেন.

    এই তথ্য গুলি "গাগারীনের শেষ উড়ান – অনুন্মোচিত রহস্য"  নামে টেলিভিশন কোম্পানী "পুল" নির্মিত ও "রেডিও রাশিয়ার" সাইটে প্রকাশিত এক তথ্য চিত্রের ভিত্তি হয়েছে. এখানে প্রসঙ্গ হয়েছে সোভিয়েত দেশে ১৯৬৮ সালে ৩০টি বৈজ্ঞানিক ও অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের বহু শত বিশেষজ্ঞের ও দেশের সেরা বিজ্ঞানীদের অংশ গ্রহণে পাওয়া তথ্য. তখন এই অনতিপূর্ব অনুসন্ধানের ফলে উটি মিগ – ১৫ যুদ্ধ বিমান, যেটি ইউরি গাগারীন ও তাঁর বিমান বাহিনীর কম্যাণ্ডার ভ্লাদিমির সেরেগীন চালনা করেছিলেন, সেটি ভেঙে পড়ার কোন কারণ খুঁজে পাওয়া যায় নি. কিন্তু সমস্যা শুধু এটাই নয়. তিনটি স্বয়ং সম্পূর্ণ ভাবে কার্যকরী পরিষদ – ইঞ্জিনিয়ার, উড়ান বিশারদ ও চিকিত্সকের দল – বিশাল পরিমানে বাস্তব তথ্য সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন. এই সমস্ত তথ্যকে দেশের সরকারের সিদ্ধান্তে গোপনীয় করে দেওয়া হয়েছিল. অর্থাত্ শুধু সমাজই নয়, এমনকি বিশেষজ্ঞরাও এই গুলির সম্বন্ধে কোন রকমের তথ্য কয়েক দশক ধরে পেতে পারেন নি.

    তৃতীয় সহস্রাব্দের শুরুতে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পেরেছে, যখন বিশেষ সামরিক বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে একদল বিশেষজ্ঞ ও উত্সুক লোকের দল জমা হয়ে ছিলেন, তাঁদের মধ্যে বেশীর ভাগই সেই ৬৮ সালের পরিষদ গুলির সদস্য. ভেটেরানেরা প্রথম অনুসন্ধানের গোপনীয় তথ্য গুলি দেখার অনুমতি পেয়েছিলেন ও সম্ভাবনা হয়েছিল এই ইনস্টিটিউটের ল্যাবরেটরী গুলিতে কাজ করার. বেশ কয়েক বছর সব খুঁটিয়ে দেখার পরে তাঁরা বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছিলেন, যা তাঁদের দলের নেতা ইগর কুজনেত্সভের মতে ষাটের দশকে যে গুলি ছিল না, সেই ধরনের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে করা সম্ভব হয়েছে, তাই তিনি বলেছেন:

    "এই যুদ্ধ বিমানটির উড়ানের বিষয়ে নতুন তথ্য আমরা পেয়েছিলাম সমস্ত বাস্তব তথ্য নিয়ে সম্পূর্ণ ভাবে বর্তমানের ব্যবস্থায় অনুসন্ধান করে. বহু বিরল নিয়ম ও জিনিস আমাদের সাহায্য করেছে সেই সমস্ত তথ্যের ভাণ্ডারকে লক্ষ্য করতে, যা সেই সময়ে ব্যবহার করা সম্ভব হয় নি".

    অংশতঃ এখানে সেই ধারণাকে খণ্ডন করা সম্ভব হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছিল যে, গাগারীন ও সেরেগীন নিহত হয়েছিলেন বিমানটিকে তার বিপজ্জনক ভাবে টাল খাওয়া অবস্থা থেকে বের করতে গিয়ে, তাঁদের এই জন্য কয়েক সেকেন্ড সময় কম পড়েছিল. অনুসন্ধান কারীরা সিদ্ধান্তে এসেছেন যে, যুদ্ধ বিমানটি পড়ছিল অনিয়ন্ত্রিত অবস্থায়, তাই লেফটেন্যান্ট কুজনেত্সভ জোর দিয়ে বলেছেন:

    "আমরা এই খান থেকেই আসলে শুরু করেছিলাম. ৬৮ সালের শেষ ফল ছিল এই রকমের – বিমানটি টাল খাওয়া অবস্থা থেকে বেরোতে গিয়ে ভেঙে পড়েছে. আর আমরা যখন ২০০০ থেকে ২০০৫ সালে নিজেদের অনুসন্ধানের কাজ করেছি, তখন প্রমাণ উদ্ধার করেতে পেরেছি যে, বিমানটি টাল খাওয়া অবস্থাতেই ভেঙে পড়েছে. আর মাটির কাছে জমির সঙ্গে সমান্তরাল করার জন্য কোন রকমের চেষ্টাই করা হয় নি".

    এই বিশেষ চাঞ্চল্যকর তথ্য পিছনে নিয়ে এসেছে আরও সব নতুন তথ্য. যদি পাইলটেরা বিমানটিকে নিয়ন্ত্রণ না করেই থাকেন ও যেমন আগে সিদ্ধান্ত করা হয়েছিল যে, তাঁরা জমির নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন নি, ভেঙে পড়া বিমান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন নি, এর ফলে একমাত্র সিদ্ধান্ত যা হতে পারে তা হল: পাইলটেরা এই সব কাজ করার অবস্থাতেই ছিলেন না. অর্থাত্ খুব সম্ভবতঃ, তাঁরা জ্ঞান হারিয়ে ছিলেন. আর তা সম্ভবতঃ হয়েছিল – দ্রুত পাইলটের কেবিনে বায়ুর চাপ কমে যাওয়ার ফলে, যা হতে পারত একমাত্র দীর্ঘ সময় ধরে বিমান টাল খাওয়া অবস্থায় ঘুরতে গিয়ে অতি দ্রুত পড়তে থাকলে. আর এখানে, এই কুজনেত্সভের দলের মত অনুযায়ী, সবচেয়ে খারাপ ভূমিকা নিয়ে থাকবে গাগারীনের কেবিনে হাওয়া চলাচলের জন্য কলের বায়ু হীণ অবস্থায় বন্ধ না করা.

    কিছু বিরোধী এই কুজনেত্সভের দলের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হতে পারেন নি. কিন্তু একটি বিষয়ে সকলেই নিঃসন্দেহ হতে পেরেছেন: এই তথ্য গুলি নিয়ে আরও গভীরে অনুসন্ধানের প্রয়োজন রয়েছে. আর প্রধান প্রশ্নেরও উত্তর দেওয়া দরকার: কি ঘটনায় গাগারীনের বিমান এই অবধারিত মৃত্যু হওয়ার মতো টাল খেয়েছিল?  সত্যকে প্রমাণ করতে হলে সমস্ত তথ্যকেই জনসমক্ষে নিয়ে আসতে হবে, যা ৬৮ সালে ও পরবর্তী বছর গুলিতে জমা করা সম্ভব হয়েছিল. এই লক্ষ্যই বর্তমানে পরস্পরের প্রতি সম্পূর্ণ ভাবে বিরোধী পক্ষকেও আজ শান্ত করেছে.

    "রেডিও রাশিয়া" এই মহত্ উদ্দেশ্যের লক্ষ্যে, নিজেদের সাইটে "গাগারীনের শেষ উড়ান – অনুন্মোচিত রহস্য" নামের তথ্য চিত্রের ছয়টি পর্যায় প্রকাশ করে, আরও টেলিভিশন কোম্পানী "পুল" থেকে পাওয়া ৬৮ সালের বিভিন্ন তথ্যের অনুলিপি প্রকাশ করে নিজেদের তরফ থেকে অবদান রেখেছে.