লিবিয়ার বিদ্রোহী যোদ্ধারা আন্তর্জাতিক জোটের আগুনে সহায়তায় ভূ মধ্য সাগর উপকূলে পূর্বের পাঁচটি শহর জিতে নিয়েছে ও পশ্চিমে ত্রিপোলির দিকে এগিয়ে চলেছে. এই জয় বাস্তবে একটিও গুলি না করে করা সম্ভব হয়েছে. মুহম্মর গাদ্দাফির প্রতি অনুগত সেনারা পশ্চিমের বিমান বহরের ও সামুদ্রিক শক্তির সাঁজোয়া গাড়ী ও অস্ত্র ভাণ্ডারের উপর আঘাতের নীচে হঠে যাচ্ছে.

    লিবিয়াতে পশ্চিমের জোটের প্রবল বোমা বর্ষণ তিন সপ্তাহ ধরে চলছে. তার মধ্যে শুধু গত সপ্তাহের ছুটির দিন গুলিতেই প্রথম কোন গুরুত্বপূর্ণ ফল পাওয়া গিয়েছে. লিবিয়ার দ্বিতীয় রাজধানী পূর্বের বেনগাজি শহরে সুড়ঙ্গ পথে লুকিয়ে থাকা বিদ্রোহীরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র দখল করতে পেরেছে. এর ফলে তাদের অবস্থান আরও দ্রুত শক্ত হয়েছে, কারণ তারা এখনই তিনটি খনিজ তেল সরবরাহের বন্দর নিয়ন্ত্রণ করছে, তার মধ্যে রাস- লানুফ রয়েছে. সেখানে দেশের সবচেয়ে বড় খনিজ তেল পরিশোধন কেন্দ্র রয়েছে ও রপ্তানীর বন্দর, তার চারদিকে ঘিরে বাস্তবে লিবিয়ার প্রায় অর্ধেক খনিজ তেলের পরিকাঠামো রয়েছে.

    সুতরাং বর্তমানে বিরোধী পক্ষের খনিজ তেল বিক্রয়ের সম্ভাবনা হয়েছে. আর গত সপ্তাহের শেষ থেকে লিবিয়ার তেল ক্রয়ের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারী ঘোষণার পরে, ইউরোপীয় সংঘের পক্ষে আবার তা ক্রয়ের সম্ভাবনা হয়েছে. কারণ তা আর গাদ্দাফির থেকে কিনতে হবে না. বিদ্রোহী যোদ্ধারা ভরসা দিয়েছেন যে, এই সপ্তাহেই তারা বিশ্বের বাজারে তেল সরবরাহ শুরু করতে চলেছে. এই প্রসঙ্গে তাদের হয়ে মধ্যবর্তী ও বিক্রেতা দেশ বলে তারা কাতারকে বেছে নিয়েছে, আর এমনকি তাদের সঙ্গে সমস্ত প্রয়োজনীয় চুক্তিও করে ফেলেছে. সেগুলি কতটা আইন সঙ্গত, তা নিয়ে বর্তমান ক্ষেত্রে কারও মাথা ব্যাথা নেই.

রবিবারে ন্যাটো জোটের পরামর্শ পরিষদ ২৮টি সদস্য দেশের রাজদূত পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, সামরিক অপারেশনের দায়ভার এরপর থেকে নেবে জোটের নেতৃত্ব. তার সদর দপ্তরের কূটনৈতিক উত্স থেকে জানানো হয়েছে যে, ন্যাটো এই গৃহ যুদ্ধে কারও পক্ষ নেবে না. এই প্রসঙ্গে সেই সব উত্সই কোন সঠিক জবাব এই প্রশ্নের দিতে পারেন নি যে, কি করে এই আন্তর্জাতিক জোট ন্যাটোর নেতৃত্বের হাতে সামরিক অপারেশনের দায়ভার তুলে দেবে. এখনও এর বিরুদ্ধে ফ্রান্স ঘোষণা করে চলেছে. কিন্তু এখন প্যারিস না খেয়াল করে পারছে না যে, লিবিয়াতে সামরিক অপারেশন দীর্ঘায়িত হতে পারার ঝুঁকি রয়েছে. তাই ভাল হয় ন্যাটো জোটের সঙ্গে পরবর্তী সমস্ত কাজের দায়ভার ভাগ করে নিতে পারলে. জোটের জন্য লিবিয়া অবশ্যই প্রমাণ করার উপায় যে. এই জোট এখনও বেঁচে থাকার অধিকার রাখে. কিন্তু এই দেশে সামুদ্রিক ও আকাশ পথ বন্ধ করে দিলেই সম্পূর্ণ সাফল্যের কোন গ্যারান্টি পাওয়া যাচ্ছে না. তাই হঠাত্ করেই রাজনৈতিক নেতারা ও সামরিক লোকেরা দ্বিতীয় অধ্যায়ে পদাতিক বাহিনীর অপারেশনের কথা তোলেন নি. রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের আরব ও ঐস্লামিক অনুসন্ধান কেন্দ্রের প্রধান আলেকজান্ডার ফিলোনিক এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করে বলেছেন:

"পরবর্তী ঘটনা সম্বন্ধে যা বলা যেতে পারে, তা মনে হয়, তারা শুধুশুধুই নতুন বিমান বাহী যুদ্ধ জাহাজ ও নৌ সেনার জাহাজ প্রচুর নৌবহরের সেনা সহ এই অঞ্চলে নিয়ে আসছে না. যেমন, শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই চার হাজার অবধি নৌবহরের স্থায়ী ভাবে যুদ্ধে প্রস্তুত নৌসেনাকে এই অঞ্চলে নিয়ে এসেছে. অবশ্যই, এটা বিশাল খরচের ব্যাপার, আর তারা বিনা কারণে খরচ করে না. খুবই সম্ভব হতে পারে যে, তারা সেনা বাহিনীকে জমিতে নামাবে".

এই কথা সত্য, যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা উল্লেখ করেছেন যে, মার্কিন সেনা বাহিনীর এক জনেরও জুতো লিবিয়ার মাটিতে পড়বে না. কিন্তু পেন্টাগনের প্রধান রবার্ট গেইটস সি বি এস টেলিভিশন চ্যানেল কে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে ঘুরিয়ে বলেছেন যে, ওয়াশিংটন জোটের অন্যান্য সদস্য দেশের জন্য কাজ করার পরিস্থিতি তৈরী করে দিতে পারে. এখানে বাদ দেওয়া যায় না যে, যুদ্ধের পদাতিক অপারেশনের শুরুর বিষয় ঠিক করা হবে, বিদ্রোহীদের ত্রিপোলি ও দেশের রাজধানীর পশ্চিমে অন্যান্য বড় খনিজ তেল উত্পাদন কেন্দ্র যেমন এজ- জাউইয়া দখল করার বিষয়ে সাফল্যের উপরে নির্ভর করে.