সিরিয়া মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল এলাকার প্রানকেন্দ্রে পরিনত হচ্ছে.দেশটির দক্ষিন প্রদেশর প্রশাসনিক শহর দেরায় বিক্ষোভকারীরা আন্দোলন করছে এবং যা ক্রমশই উত্তর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে.তবে শান্তিময় পরিবেশের মধ্যদিয়ে এই আন্দোলন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে.

শনিবার সিরিয়ার বন্দরনগরী লাতাকিয়ায় ব্যাপক সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়.আন্দোলনরত তরুনরা শহরের রাস্তা অবরোধ করে এবং ক্ষমতাশীল আরব সমাজতান্ত্রিক পূর্ণজাগরন দলের কয়েকটি অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়.এদিকে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল ‘সুরিয়া’ লাতাকিয়ায় গোলাগুলির হওয়ার সংবাদ প্রচার করেছে.বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে শহরে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে.

ঔদিকে দেরায় আন্দোলনকারীরা বর্তমান প্রেসিডেন্ট বশির আসাদের পিতা হাফেজ আসাদের ভাষ্কর্য গুড়িয়ে দেয়.বিক্ষোভকারীরা ‘জনগন বন্দিদশা থেকে মুক্তি চায়’ এই শিরোনামে স্লোগান দিতে থাকে.

সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের মূখপাত্র বুসেন আশাবান জানান যে,সিরিয়ায় জাতিগত বিভেদ সৃষ্টি করার লক্ষ্য নির্ধারন করা হয়েছে.তার ভাষায়,সিরিয়ার ভূমিতে কয়েক যুগের ঐতিহাসিক স্থাপনায় হামলা চালানো হচ্ছে.

সাম্প্রতিকালে দেশের পরিস্থিতি কোন দিকে এগিয়ে যেতে পারে,সেই বিষয়ে আমাদের জানিয়েছেন রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমির মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমীর আহমেদ.তিনি বলছিলেন’আমি এখনই স্বীকার করছি না যে,সিরিয়ায় সঙ্কটময় পরিস্থিতি বিরাজ করছে.অবশ্য,গত সপ্তাহে সিরিয়ায় ঘটে যাওয়া ঘটনাবলী প্রেসিডেন্ট বশির আসাদের জন্য খুবই উত্কন্ঠা ডেকে এনেছে.সিরিয়া আজ সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে.রাষ্ট্রের কার্যক্রমের উপরই নির্ভর করছে পরিস্থিতির আগামী দিনের উন্নয়ন.বিপ্লবী কর্মসূচিতে আন্দোলনকারীদের দ্বারা রাষ্ট্রপক্ষকে শংকিত করে তোলার গুরুত্ব অনেক.যদি এই শংকা কেটে যায় তাহলে চিত্র ভিন্ন পথে মোড় নিতে পারে.যা আমরা মিসরে,তিউনেশিয়ায় ও ইয়েমেনে দেখেছি’.

সিরিয়ার সরকারকে নাগরিকদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়া উচিত.তারা উপরন্তু বিরুদ্ধচারন করছে.শনিবার দামাস্কে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বশির আসাদের নেতৃত্বে  আরব সমাজতান্ত্রিক পূর্ণজাগরন দলের শীর্ষনেতাদের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়.সভায় বর্তমান পরিস্থিতি বিষয় জীবন যাপনের প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়.প্রেসিডেন্ট দেশে ১৯৬৩ সাল থেকে প্রচলিত জরুরি ব্যবস্থা বাতিল,রাজনৈতিক দল ও গনমাধ্যমের জন্য নতুন আইন তৈরি  ও আইনরক্ষী বাহিনীর পূর্ণগঠনের প্রস্তাব করেন.

বিশেষজ্ঞদের মতে,এই প্রস্তাবসমূহ গৃহিত হলে সিরিয়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে.তবে বলা বাহুল্য যে,অধিকাংশ সিরীয়রা বশির আসাদের প্রতি বিশ্বাষ হারিয়ে ফেলেছেন