উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি যা চলতি সপ্তাহে স্বয়ং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই ল্যাভরোভের কাছে বিশেষ গুরূত্ব পেয়েছে.সম্প্রতি মিসর ও আলজেরিয়া সফরে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের এই শীর্ষনেতা গাদ্দাফি’র স্বৈরাচারী শাসন দমনে পশ্চিমাবাহিনীর সামরিক অভিযানের বিষয়ে কথা বলেন.

যদিও সরকারিভাবে জানানো হয় যে, ল্যাভরোভের এই সফরের প্রধান আলোচ্য বিষয়বস্তু ছিল দ্বিপাক্ষীক সম্পর্ক উন্নয়ন;কিন্তু আলোচনা পর্বে ঘুরেফিরেই চলে এসেছে লিবিয়া পরিস্থিতি এবং তা কিভাবে অত্র অঞ্চলে সামগ্রিকভাবে  প্রভাবিত করবে.

মস্কো মনে করছে যে,গাদ্দাফি’র অনুগতরা নিরীহ জনসাধারনের বিরুদ্ধে যে সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে তার কোন অর্থ নেই.একই সাথে লিবিয়ার ভূখন্ডে বিমান হামলা যা আন্তর্জাতিক আইন কোনভাবেই অনুমোদন দিচ্ছে না.তদুপরি লিবিয়ার উপর পশ্চিমাবাহিনীর এই হামলা এমনকি তা পুরো বিশ্বের জন্যই অনাকাঙ্খিত ঘটনা বয়ে আনতে পারে.আলজেরিয়ায় ল্যাভরোভ উল্লেখ করেন যে,জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইনের সব শর্তাবলী মেনে নেয়া উচিত.তিনি বলছেন “বেসামরিক লোকজনকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য লিবিয়াকে নো ফ্লাই জোন হিসাবে ঘোষাণা দেওয়ার আরব লীগে’র নেওয়া সিদ্ধান্তকে রাশিয়া সমর্থন জানিয়েছে এবং তা সবারই জানা আছে.আরব লীদের অনুরোধে যে সব দেশ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে লিবিয়াকে নো ফ্লাই জোন হিসাবে ঘোষাণা দেওয়ার সম্মতি জানিয়েছে তাদের অবশ্যই নিরীহ জনগনকে হত্য করা উচিত হবে না.আমি মনে করি,সামগ্রিকভাবেই বর্তমান ঘটনার পেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্বে আন্তর্জাতিক আইনের শর্তাবলী অবশ্যই মেনে নেওয়া উচিত.তাছাড়া বর্তমানে ত্রই বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ যখন শুধুমাত্র লিবিয়াই নয় বরং এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশেও উত্তেজনাকর অবস্থা বিরাজ করছে.

এদিকে আরব লীদের উদ্দোগে লিবিয়ায় নো ফ্লাই জেন ঘোষণা বিষয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের গৃহিত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে ইতিমধ্যে পশ্চিমারা বিবৃতি দেওয়া শুরু করেছে.তারা বলছে যে,লিবিয়ায় বিমান হামলার উদ্দেশ্য হচ্ছে শুধুমাত্র বেসামরিক লোকজনকে রক্ষা করা.

ল্যাভরোভ কায়রোতে আরব লীগের জেনারেল সেক্রেটারী আমার মুসা’র সাথে লিবিয়ার সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন.ল্যাভরোভ জানান যে “আশা করছি যারা লিবিয়ায় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বন্ধে সহায়তা করবে মূলত তারাই রাজনৈতিক উপায়ে দেশটিতে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আনতে উদ্দোগী হবে এবং তা লিবীয়দের জন্যই সুফল বয়ে আনবে.

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ লিবিয়া বিষয়ে আলোচনা করেছে.জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন, “নিরীহ জনগনের নিরাপত্তা প্রদানের বিষয়টি আমাদেরকে অনেক বেশী ভাবিয়ে তুলছে এবং সেই সাথে মানুষের নিজস্ব অধিকার হরন করা হচ্ছে”.লিবিয়ায় পরিস্থিতি বেগতিক দেথে ইতিমধ্যে ৩ লাখ ৪০ হাজার মানুষ দেশটি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে.বান কি মুন বলছিলেন,আগামী কয়েক দিনে লিবিয়া থেকে অভিবাসীদের সংখ্যা ২ লাখ ৫০ হাজারে পৌঁছাবে.

লিবিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা বাহিনীর সামরিক অভিযান বন্ধের দাবী জানিয়ে উত্তর আফ্রিকার অনেক দেশই প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেছে.তার উদাহরন স্বয়ং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই কায়রোতে দেখেছেন.মিসরে আরব লীগের জেনারেল সেক্রেটারী আমার মুসার সাথে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন দেখা করতে রওনা হলে বিক্ষোভকারীরা বান কি মুনের গাড়িবহরে হামলার চেষ্টা চালায়.