মানব অধিকার উপলব্ধির ভিত্তিতে রয়েছে মর্যাদা, স্বাধীনতা ও দায়িত্বের মতো সর্বমানবিক মূল্যবোধ. এগুলির পালনই মানুষের বুনিয়াদী অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষায় সহায়তা করবে. এ সম্বন্ধেই বলা হয়েছে রাশিয়ার দ্বারা রাষ্ট্রসঙ্ঘের মানব অধিকার সংক্রান্ত পরিষদে উথ্থাপিত এবং সংখ্যাধিক্য ভোটে অনুমোদিত সিদ্ধান্তের বয়ানে.

   প্রধান ব্যাপার হল, আন্তর্জাতিক জনসমাজকে রাশিয়া এবং তার সঙ্গে এ দলিলের প্রণেতা ৭৫টি রাষ্ট্র কি প্রস্তাব করছে, - আর তা হল মানব অধিকার উপলব্ধির প্রতি দৃষ্টিভঙ্গী বদলানোর. এ কথা গোপন নয় যে, কিছু কিছু সংস্কৃতি একে গ্রহণ করে এক বোঝা হিসেবে, যা পশ্চিমী খৃস্টান সভ্যতা তাদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে. উপরন্তু পাশ্চাত্য নিজেই এই ভাল ধারণাটিকে গুরুত্বহীন করেছে, মানব অধিকার রক্ষার অজুহাতে প্রায়ই অন্য রাষ্ট্রের আভ্যন্তরীন ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করে অথবা সংযমের ধারণাকে হাস্যকর করে তুলে. যেমন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্ব সহকারে ভাবা হচ্ছে সরকারী দলিলপত্রে “মাতা” ও “পিতা” লেখার বদলে “এক নম্বর” ও “দুই নম্বর জন্মদাতা” লেখার প্রয়োজনীয়তার কথা. সহজেই বোঝা যায়, পৃথিবীর বেশির ভাগ দেশ এ ধরণের ধারণা অথবা তার ব্যাখ্যা গ্রহণ করবে না.

   পরম্পরাগত মূল্যবোধ – বেশি বোধগম্য ও সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য, স্থিরবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও মুদ্রণ বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর আলেক্সান্দর বোলদীরেভঃ

   মর্যাদা, স্বাধীনতা ও দায়িত্ববোধ হল পরম্পরাগত মূল্যবোধ, যা মানে গোটা মানবজাতি. পরম্পরাগত মূল্যবোধ ও মানব অধিকারের মাঝে সম্পর্কের উপর জোর দিলে মানব অধিকারের আরও পূর্ণ স্বীকৃতি সুনিশ্চিত হবে, সমাজের উপলব্ধিতে সাহায্য করবে, আর সাধারণভাবে আস্থা সুদৃঢ় করতে এবং আন্তর্জাতিক জনসমাজের পর্যায়ে সংলাপ গড়ে তুলতে সাহায্য করবে.

   অন্য কথায়, প্রস্তাবিত দৃষ্টিভঙ্গী – এ হল মানব অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা বাড়ানোর নতুন উপায়. বিশ্ব জনসমাজের সমস্ত সদস্য যদি স্বীকার করে যে, মানবতাবাদী অধিকার মানবজাতির পরম্পরাগত মূল্যবোধ প্রতিফলিত করে, যা সমস্ত সভ্যতার বিকাশে সহায়তা করেছে, তাহলে জাতিসমূহের মাঝে এবং বিভিন্ন ধর্মের মাঝে মুখ্য বিরোধ দূর হয়ে যাবে. আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের আন্তর্জাতিক বিধান বিভাগের প্রফেসার দমিত্রি ইভানোভ বলেনঃ

   এ দলিলের প্রধান লক্ষ্য হল মানব অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রসঙ্ঘের রাষ্ট্রগুলির মাঝে সহযোগিতা গভীর করতে সহায়তা করা. তবে, কোনো পৃথক পৃথক অঞ্চলে নয়, বরং সর্বাত্মক পর্যায়ে, যেমন সূত্রবদ্ধ করা হয়েছিল ১৯৪৫ সালে রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিধানে.

   এ প্রসঙ্গে আফশোস জাগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোসঙ্ঘের স্থিতিতে. তারা এ সিদ্ধান্ত সমর্থন করতে অস্বীকার করেছে এ যুক্তি দেখিয়ে যে, পরম্পরাগত মূল্যবোধের সাথে মানব অধিকারকে যুক্ত করাকে কোনো কোনো দেশ গ্রহণ করতে পারে নারীদের প্রতি বৈষম্য অথবা “গে” ব্যক্তিদের তাড়নার জন্য অজুহাত হিসেবে. তবে, এখানে সুনির্দিষ্টভাবে পার্থক্য দেখা উচিত “পরম্পরাগত মূল্যবোধ” ও “পরম্পরাগত প্রয়োগনীতির” মাঝে. আর সেই সঙ্গে এ বিতর্কের রাজনৈতিকরণ করা উচিত নয়, বলেন রাশিয়ার সামাজিক কক্ষের সদস্য দমিত্রি বাদোভস্কিঃ

    মানব অধিকারের সমস্যা পৃথিবীতে সবচেয়ে তীব্র একটি সমস্যা. প্রায়ই তার রাজনৈতিকরণ করা হয়. স্বভাবতই, তার সঠিক উপলব্ধি, সেই সঙ্গে পরম্পরাগত মূল্যবোধের সাথে সম্পর্ক, - এ হল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা সর্বপ্রথমে, আন্তর্জাতিক বিধানের বিকাশকে প্রভাবিত করবে. আর তা, অবশেষে, বিশ্ব রাজনীতিতে মানব অধিকারের বিষয়টির অপব্যবহারের সম্ভাবনা কমাবে.

   মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোসঙ্ঘের সন্দেহকে, অন্ততপক্ষে বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হয় না. সিদ্ধান্তের বয়ানে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে সর্বসাধারণ শ্রদ্ধাকে প্রেরণা দেওয়া, মানুষের সমস্ত প্রধান প্রধান অধিকার ও স্বাধীনতা পালন ও রক্ষা করায় সমস্ত রাষ্ট্রের বাধ্যবাধকতার উপর, যা আন্তর্জাতিক বিধানের মান, রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিধান এবং মানব অধিকার সংক্রান্ত অন্যান্য চুক্তির সাথে সুসঙ্গত. আর মনে হয় স্বাধীনতা, মর্যাদা ও দায়িত্ববোধের মতো নৈতিক গুণগুলি মানব অধিকারের জন্য বিপজ্জনক তা দেখার জন্য অনেকই চেষ্টা করতে হবে.