রাশিয়াতে জলদস্যূ প্রতিরোধ করার জন্য বিশেষ বাহিনী তৈরী করা হচ্ছে. ভারত মহাসাগরে দূরের এলাকায় বাণিজ্য জাহাজ প্রতিরক্ষার জন্য ২০১৩ সালে এই বাহিনী তৈরী হয়ে যাবে. দেশের সামরিক নৌবহরের দপ্তর থেকে যেমন বলা হয়েছে যে, এই নতুন জোটের জন্য কৃষ্ণ সাগরের বাহিনীর জাহাজ গুলি অংশ নেবে.

    বর্তমানে জলদস্যূ সমস্যা – এক খুব ভালভাবে তৈরী করা আন্তর্জাতিক ধান্ধা বলে বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেছেন. এই ধরনের কথা ভাবার পক্ষে বলা যেতে পারে যে, দস্যুরা জাহাজ গুলির চলার পথের তথ্য পাচ্ছে খুবই নিখুঁত ভাবে, সেগুলিকে তাড়া করে যেতে পারছে – যা উপগ্রহ যোগাযোগ ব্যবস্থার সাহায্য ছাড়া সম্ভব নয়, একেবারে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও তা ব্যবহার করার উপযুক্ত অভ্যাসও তাকা চাই. সোভকমফ্লোট কোম্পানী মনে করেছে যে, জলদস্যূ সমস্যাকে খুবই কম করে দেখা হচ্ছে. রাশিয়ার এই জাহাজ মালিক কোম্পানীর তথ্য অনুযায়ী আফ্রিকার শৃঙ্গ ও আডেন উপসাগরে দস্যুদের কাজকর্ম বিশ্ব অর্থনীতিতে বর্তমানে বছরে ১২ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির কারণ হচ্ছে. শুধু ২০১১ সালের প্রথম দুই মাসে সোমালির তীরের কাছে ৮৭ টি হানাতে ১৩টি জাহাজ ও ২০০ নাবিক ধরা পড়েছে, তাদের জন্য মুক্তি পণ দেওয়া ছাড়া পথ নেই. সব মিলিয়ে বর্তমানে ৭০০ জনেরও বেশী নাবিক অপেক্ষা করছেন, কবে তাদের জন্য মুক্তি পণ দেওয়া হবে.

    এখন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের নির্দেশে রাশিয়া ও বিদেশী জাহাজ গুলিকে আডেন উপসাগরে রক্ষার জন্য রাশিয়ার চারটি নৌবাহিনীর সব কটির জাহাজ পালা করে পাহারা দিতে যাচ্ছে. তারা কিছু সময় এই বিপজ্জনক সামুদ্রিক এলাকায় কাজ করে নিজেদের বন্দরে ফিরে আসছে. বর্তমানে এলাকায় কাজ করছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবাহিনীর বিশাল জাহাজ বিরোধী যুদ্ধ জাহাজ "অ্যাডমিরাল ভিনোগ্রাদভ".

    নতুন বাহিনীর রূপ হতে চলেছে অষ্টম ভারতীয় ও পঞ্চম ভূ মধ্য সাগরীয় নৌবাহিনী, যা সোভিয়েত দেশের সময়ে ছিল. অর্থাত্ যুদ্ধ জাহাজ, যে গুলি এই অঞ্চলে নিয়মিত ভাবে ঘাঁটি গেড়ে থাকবে. তাদের জন্য এক ঘাঁটিও দেখা হয়েছে – সিরিয়ার বন্দর তার্তুস, যা সোভিয়েত সময়ে ভূ মধ্য সাগরীয় নৌবাহিনীর ঘাঁটি ছিল. সিরিয়ার প্রশাসনের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা ইতিমধ্যেই চলছে. নতুন বাহিনীতে থাকছে তিনটি যুদ্ধ জাহাজ, একটি জ্বালানী সরবরাহের জাহাজ ও সামুদ্রিক উদ্ধার করার জন্য গাধা বোট.

    বর্তমানের জলদস্যূদের কাজের এলাকা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে. আর একক দেশের পক্ষে এত বড় সামুদ্রিক এলাকায় নিরাপত্তা দেওয়ার কাজ করা খুবই কঠিন. তা স্বত্ত্বেও মস্কোতে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা জলদস্যূদের সঙ্গে লড়াই করার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করেছেন রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর রাষ্ট্র ও আইন ইনস্টিটিউটের সামুদ্রিক আইন বিশেষজ্ঞ ভাসিলি গুত্সুলিয়াক, তিনি বলেছেন:

    "জলদস্যূরা ও এক জায়গায় থেমে নেই, তারা কৌশল পাল্টাচ্ছে. বিশ্বের মহাসাগরীয় এলাকা, যেখানে জলদস্যূ আক্রমণ থেকে প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা করা উচিত, তা বিরাট বড়. তাই বোঝাই যাচ্ছে যে, একটি বিরাট দেশের নৌবাহিনী ও এই ধরনের নিয়ন্ত্রণ একা করতে সক্ষম নয়. তা স্বত্ত্বেও, আমার মতে, রাশিয়ার নৌবাহিনীর সিদ্ধান্ত – এটা প্রয়োজনীয় দিকে প্রথম পদক্ষেপ. কিন্তু এখানে প্রয়োজন হল সমস্ত সামুদ্রিক বাহিনী সম্পন্ন দেশের মধ্যে যোগ সাজশে কাজ করা. আর সবচেয়ে ফলপ্রসূ হল যৌথ নৌবাহিনী".

    বিশেষজ্ঞদের মতে নতুন রুশ নৌবাহিনীর কাজ জলদস্যূদের থেকে জাহাজ প্রতিরক্ষার চেয়ে বেশী কিছু হবে. রাশিয়া ঠিক করেছে, অন্য সব কিছু ছাড়াও, এই বিস্ফোরণ উপযুক্ত অঞ্চলে নিজেদের অস্তিত্ব প্রমাণ করার. নিকট প্রাচ্যের দেশ গুলি ও উত্তর আফ্রিকাতে আজ বিপ্লব চলছে. লিবিয়াতে ন্যাটো জোটের বোমা বর্ষণের ফল কি হতে চলেছে কেউ জানে না – সম্ভবতঃ এই অঞ্চলের সমস্ত দেশের নাগরিকদের ভবিষ্যতে জলদস্যূদের সারিতে যোগ দেওয়া ছাড়া আর কিছু করার থাকবে না. আর যে জায়গায় প্রভাবের সীমান্ত রেখা রয়েছে, সেখানে রাশিয়ার উপস্থিতি, অনেক মাথা গরম লোককে শান্ত করতে পারে.