পশ্চিমের দেশ গুলির লিবিয়াতে সামরিক শক্তি প্রয়োগ হঠাত্ করেই অনিয়ন্ত্রিত ভাবে করা হচ্ছে বলে দেখা যাচ্ছে. যদিও আজ এক সপ্তাহ হতে চলল নির্বিচারে বোমা ফেলার, তবুও কোন একক নিয়ন্ত্রণ অথবা লক্ষ্যের বিষয়ে স্ট্র্যাটেজিক বোধ বর্তমানের কাজের ক্ষেত্রে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না, শুধু রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে মুহম্মর গাদ্দাফি যাতে সরে যায়, তার ইচ্ছাই প্রকট. এমনকি উত্তর অতলান্তিক জোটও নিজের উপরে এই সামরিক শক্তি প্রয়োগের দায়িত্ব নিতে তাড়াহুড়ো করছে না.

ন্যাটোর হাতে "ওডেসী ডন" নামের এই সামরিক অপারেশনের দায়ভার তুলে দেওয়ার আরও একটি প্রচেষ্টা দেখতে পাওয়া গিয়েছে বুধবারে. সমঝোতাতে আসা সম্ভব হয় নি. এখানে অদ্ভূত রকমের বিপরীত বলে দেখাচ্ছে সেই বাস্তব, যে জোটের সদস্যরা লিবিয়াতে বোমা বর্ষণ করছে, সেই জোট উড়ান বন্ধ এলাকা তৈরী করা ও এই দেশের নাগরিকদের যুদ্ধের সময়ে নিরাপত্তা দেওয়ার কাজে অংশ নিচ্ছে না. জোট আপাততঃ শুধু সামুদ্রিক পথে লিবিয়াতে যুদ্ধাস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করার নিষেধ বাস্তবায়িত করার কাজে অংশ নেওয়ার বিষয়ে স্বীকৃতী দিয়েছে. এই ধরনের পরিস্থিতির কারণ সম্বন্ধে রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমির আফ্রিকা ইনস্টিটিউটের ভাইস ডিরেক্টর লিওনিদ ফিতুনি বলেছেন:

"ন্যাটো জোটের দেশ গুলি শুধু এক বিষয়েই একমত হতে পারছে না, তা হল, লিবিয়াতে যুদ্ধ করতে যাওয়া উচিত কি না ও গেলে তার ধরন কি করম হওয়া উচিত. বহু ক্ষেত্রেই এই পরিস্থিতি ইরাকের পরিস্থিতিকে মনে করিয়ে দিচ্ছে. অর্থাত্ সকলেই নিঃশর্তে বলে চেলেছে যে, গাদ্দাফি ভাল লোক নয় আর তার থেকে আলাদা হওয়া দরকার. এই ঘটনা ঠিক সাদ্দামের ক্ষেত্রেও হয়ে ছিল. এখানে পরে একটাই প্রশ্ন থেকে যায়, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা কতটা তৈরী আছেন নিজেদেরই মঞ্চ থেকে ঘোষণা করা নীতি থেকে দূরে সরতে".

ন্যাটো জোটের বহু সদস্য লিবিয়াতে পদাতিক অপারেশনের ভবিষ্যত নিয়ে সন্দিহান. এখানে বিশেষ অবস্থান তুরস্কের, যারা ঘোষণা করেছে যে, তাদের সেনারা কখনোই লিবিয়ার জনতার সঙ্গে যুদ্ধ করবে না. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও নেতৃত্ব নিতে চাইছে না. যদিও জার্মানীর মার্কিন সামরিক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে সামরিক অপারেশনের বিষয়ে বিশিষ্ট রকমের যোগাযোগ করার প্রচেষ্টা হচ্ছে. কিন্তু হোয়াইট হাউস ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে যে, তারা এই দায়িত্ব নিজেদের কাঁধ থেকে নামাতে চায়. এই ধরনের অবস্থানের নিজস্ব একটা কারণও রয়েছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান ও ইরাকে খুবই আটকে পড়েছে, আর সব দেখে শুনে মনে হচ্ছে যে, এটা বহু দিনের মামলা. মুসলিম দুনিয়াতে এই ধরনের কাজ বিরক্তির কারণ হয়েছে. আর নিজেদের উপরে আরও একটা যুদ্ধের দায়িত্ব নিতে আমেরিকা তাড়াহুড়ো করছে না. তাদের পক্ষে জোটের দায়িত্ব ব্যাপারটা লাভজনক হয়. তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র খুবই সক্রিয়ভাবে প্রভাব বিস্তার করছে, যাতে এই যুদ্ধের নেতৃত্ব উত্তর অতলান্তিক জোটের কাঁধে চাপানো যায়. কিন্তু এর মানে মোটেও নয় যে, ওয়াশিংটন এই হানা থেকে সরে যেতে চাইছে, এই কথা মনে করে লিওনিদ ফিতুনি বলেছেন:

"একেবারেই বাধ্যতা মূলক নয় যে, নিজেদের কোন একটা প্রক্রিয়ার সময়ে নেতৃত্ব স্থানীয় শক্তি বলে জাহির করা. আপেক্ষিক ভাবে দ্বিতীয় সারিতে থেকেও নেতৃত্ব করা যেতে পারে. রাজনীতিতে এই ধরনের পরিস্থিতি অনেক ঘটে থাকে".

এই কথার সমর্থন পাওয়া গিয়েছে, এক সংবাদে, যেখানে খবর আছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র লিবিয়ার তীরের কাছে কয়েক হাজার সামুদ্রিক সেনা নিয়ে আসা শুরু করেছে. তাদের কম্যাণ্ডার ক্যাপ্টেন স্টিভেন ইওডার বলেছেন, এটা অঞ্চলে উপস্থিত থাকার জন্য একটা পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই কাজ. মার্কিন রাষ্ট্রপতি দেশের কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই এমনিতে দেশের বাইরে সেনা বাহিনী পাঠাতে পারেন, কিন্তু তার মেয়াদ ৬০ দিন. আর এখন কেউই বলতে পারছে না এই বিষয়ে ক্যাপিটলি কি প্রতিক্রিয়া দেখাবে.

আর একই সময়ে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ঠিক করেছে বোমা বর্ষণের পরে লিবিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার. বিষয় বস্তু হতে চলেছে ১৯৭৩ নম্বর সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন বিষয়ে, যা গত সপ্তাহে নেওয়া হয়েছিল লিবিয়ার আকাশ কে উড়ান মুক্ত করার জন্য ও দেশের নিরীহ মানুষদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার জন্য. মস্কোতে মনে করা হয়েছে যে, বর্তমানে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে দলিলে উল্লিখিত দায়িত্ব সীমার বাইরে. রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের যে কোন ধরনের সিদ্ধান্তই শান্তিকে সুদৃঢ় করার জন্য নেওয়া উচিত, নাগরিকদের মধ্যে প্রজাতি গত দ্বন্দ্বের বিরুদ্ধে, বিবাদকে বাড়তে দেওয়া বন্ধ করার জন্য ও নিরীহ মানুষের মৃত্যু বন্ধ করার জন্য. একই মর্মে চিনের নেতৃত্ব ঘোষণা করেছেন. সুতরাং নিরাপত্তা পরিষদে বিতর্ক তীক্ষ্ণ হবে বলে মনে হচ্ছে.

লিবিয়াতে চলছে সত্যিকারের গৃহযুদ্ধ. আর এর মানে হল যে, দেশের খণ্ড হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে. আন্তর্জাতিক সমাজের সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করা উচিত্, যাতে এই ধরনের ব্যাপার না হতে পারে. তাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ হল রাশিয়ার পার্লামেন্টের সদস্যদের উদ্যোগ যে, এই পরিস্থিতিকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে আনা দরকার ও ত্রিপোলিতে মধ্যবর্তী হওয়ার মিশনের আয়োজন করা দরকার.