রাষ্ট্রীয় সংস্থা রসঅ্যাটম রাশিয়ার পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র বন্ধ করার সম্ভাবনা বজায় রেখেছে, যদি সেগুলির কোন রকমের বিপজ্জনক জায়গা লক্ষ্য করা যায়, এই খবর দিয়েছেন এই সংস্থার কার্যকরী ডিরেক্টর সের্গেই বইয়ারকিন.

    জাপানের পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র ফুকুসিমা- ১ বিধ্বংসী ভূমিকম্প ও তার থেকে উত্পন্ন জলোচ্ছাসে দূর্ঘটনা গ্রস্থ হওয়ার পরে, সারা বিশ্বের সমস্ত পারমানবিক কেন্দ্রেই এক সারি পরীক্ষা নিরীক্ষা চালানো হচ্ছে. চিনে দেশের রাষ্ট্রীয় সভার সিদ্ধান্তে পারমানবিক কর্পোরেশন দেশের সমস্ত পরিকল্পিত ও নির্মাণ হতে চলা কেন্দ্রে পরীক্ষা করছে. ভারতের প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংহ দেশের পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র গুলিতে পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন. এই বছরের শেষের আগেই ইউরোপীয় সংঘের সমস্ত দেশের পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র গুলিতে পরীক্ষা করা দেখা হবে. এই পরীক্ষা গুলিকে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র গুলির নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কতটা নির্ভর যোগ্য ও তাদের তেজস্ক্রিয় বিকীরণের বিষয়ে নিরাপত্তা কতদূর এবং প্রাকৃতিক ও যান্ত্রিক বিপর্যয়ে সেই গুলি কতখানি স্থিতিশীল তা দেখা হবে, সঙ্গে যোগ করা হয়েছে সন্ত্রাসবাদী হানা ও শত্রু পক্ষের হানাতেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা. রাশিয়ার সম্পর্কে যা বলা যেতে পারে, তা হল রসঅ্যাটম সংস্থা দেশের পরিবেশ, প্রযুক্তি ও পারমানবিক নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ পরিষদের সঙ্গে একসাথে দেশের পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র গুলির সমস্ত ব্যবস্থা পরীক্ষা করে দেখছে, এই কথা রসঅ্যাটম সংস্থার সরকারি প্রতিনিধি সের্গেই নোভিকভ উল্লেখ করে বলেছেন:

    "আরও একবার বিশ্লেষণ করে দেখা হবে সমস্ত রকমের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সমস্ত বাধা দেওয়ার ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা বলয়, প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও সন্ত্রাসবাদী হানার বিষয়েও ব্যবস্থা পরখ করে দেখা হবে. এখানে প্রশ্ন এই বিষয়ে নয় যে, এই রিয়্যাক্টর কবে তৈরী করা হয়েছে, বরং   দেখা হচ্ছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বাধুনিক হয়েছে কি না. এই দৃষ্টিকোণ থেকেই বিশ্লেষণ করা হচ্ছে ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে".

    এর আগে দেশের প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন রাশিয়ার বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের সামনে আরও একবার সব কিছু খুঁটিয়ে দেখার জন্য কাজ দিয়েছেন ও সেই বিষয়ে উন্নতির পথের নির্দেশ দিতে বলেছেন. এই রিপোর্ট সরকারের সামনে পেশ করতে হবে এক মাসের মধ্যে. ১৬ই মার্চ রসটেখনাদজোর সংস্থা কোলস্ক ও মুরমানস্ক শহরের পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র পরীক্ষা করা শুরু করেছে ও তা শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে ২৫ শে মার্চ. একই সঙ্গে জানা আছে যে, রাশিয়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ কারী দেশ গুলির মধ্যে নেতৃত্ব স্থানীয় জায়গায় রয়েছে. আর এখন সকলের আগ্রহ হয়েছে যে, ফুকুসিমা – ১ পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে দূর্ঘটনা পারমানবিক শক্তি উত্পাদনের জায়গা নির্ণয়ের ক্ষেত্রে কোন রকমের পরিবর্তন করবে কি না. এই বিষয়ে সের্গেই নোভিকভ বলেছেন:

    "চেরনোবিল দূর্ঘটনার এক বছর পরে ১৯৮৭ সালে পারমানবিক শক্তি বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ ও পরিকল্পনার ক্ষেত্রে নিয়ম করা হয়েছিল যে, যেখানে ৮ অঙ্কের ভূমিকম্প হতে পারে, সেখানে পারমানবিক কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে না. আমরা আমাদের এই নিয়ম শুধু রাশিয়ার ক্ষেত্রেই মনে চলি নি, বরং বিশ্বের সমস্ত জায়গায়, যেখানেই আমরা কোন পারমানবিক কেন্দ্র গড়তে গিয়েছি, সেখানেই এই নিয়ম মেনে চলেছি. অনেক সময়েই আমাদের নিয়ম বিশ্বের অন্যান্য দেশের নিয়মের চেয়ে কড়া. তাই বর্তমানে বিদেশে কোথাও আমাদের নিয়মের চেয়ে কম নিরাপদ জায়গায় আমাদের কোন কাজ হয় নি বা হচ্ছে না. বরং এমন সমস্ত ঘটনা হয়েছে যে, আমাদের বিদেশী বিশেষজ্ঞদের জোর দিয়ে বোঝাতে হয়েছে যে, তারা যেন আমাদের বিশেষজ্ঞদের কথা শুনে পারমানবিক কেন্দ্র নির্মাণের জায়গা জলোচ্ছাস বা ভূমিকম্প প্রবণ এলাকা থেকে সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যান".

0     বোঝাই যাচ্ছে যে, বিশ্বের বহু পারমানবিক কেন্দ্রে পরীক্ষা করে দেখার পরে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে নতুন দূর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কম হবে. একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার মুখ্য সচিব ইউকিও আমানো ঘোষণা করেছেন যে, সময় এসেছে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ ও চালানোর ক্ষেত্রে নিয়ম গুলিকে আধুনিক করার সময় এসেছে ও নিরাপত্তা বাড়ানো দরকার.