মঙ্গলবারে রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয় স্ট্র্যাটেজিক আক্রমণাত্মক অস্ত্রসজ্জা নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত চুক্তির বাস্তবায়ন করার জন্য তথ্য বিনিময় করবে. এই বিষয়ে চুক্তির একটি বিশেষ বাধ্যতামূলক দলিলে আগে থেকেই উল্লেখ করা হয়েছে.

    তথ্য বিনিময় সম্বন্ধে নিয়ম দুই চুক্তিবদ্ধ দেশের কাছেই আগের চুক্তি অনুযায়ী খুব ভাল করেই করা রয়েছে, যার নাম ছিল প্রথম স্ট্র্যাটেজিক আক্রমণাত্মক অস্ত্রসজ্জা নিয়ন্ত্রণ চুক্তি. ২০০৯ সালের ডিসেম্বর মাসে এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছিল. তারই জায়গা নিয়েছে এই তৃতীয় চুক্তি. আর একই ধরনের নিয়ম প্রথম চুক্তি থেকে সরাসরি যোগ করা হয়েছে নতুন রুশ – মার্কিন তৃতীয় চুক্তিতে.

    স্ট্র্যাটেজিক পারমানবিক অস্ত্রসজ্জার দুই দেশের বর্তমানে কি পরিস্থিতি ও কি ধরনের অস্ত্র রয়েছে, তা লিখিত অবস্থায় একে অপরের কাছে পেশ করবে. পরস্পরকে এই চিঠি লেখার জন্য দুই দেশেই রয়েছে তথাকথিত পারমানবিক বিপদ কমানোর কেন্দ্র. রাশিয়াতে এই ধরনের দপ্তর রয়েছে দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় দপ্তরে, আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে পররাষ্ট্র দপ্তরে. পেশ করা তথ্য সম্বন্ধে বিশদ করে রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর অন্তর্গত আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কেন্দ্রের বিখ্যাত বিশেষজ্ঞ ভিক্তর ইয়েসিন:

    "পক্ষেরা একে অপরকে রকেটের ঘাঁটি, বিমান বন্দর, যেখানে ভারী বোমা বহন কারী বিমান ও স্ট্র্যাটেজিক বোমারু বিমানের ঘাঁটি রয়েছে, ডুবোজাহাজের বন্দর, যেগুলির উপরে বহু দূরে উড়ে যেতে পারে এমন ব্যালিস্টিক মিসাইল বসানো রয়েছে, সেগুলির সম্বন্ধে তথ্য দিয়ে থাকে. তাছাড়া প্রত্যেক পক্ষ নিজেদের গাঁটি গুলিতে কি ধরনের কত রকেট বসানো রয়েছে, কত গুলি পরিবহনের রকেট ও কতগুলি পারমানবিক বোমা রয়েছে, তার খবর দিয়ে থাকে. একই সঙ্গে খবর দেওয়া হয়, সেই সমস্ত জায়গা সম্বন্ধে, যেখানে মহাদেশ থেকে মহাদেশে যাওয়ার উপযুক্ত ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ডুবোজাহাজে বসানোর উপযুক্ত রকেট আপাততঃ উড়ানের জন্য তৈরী না করা অবস্থায় সঞ্চয় করা হয়েছে. এই গুলিকেও তৃতীয় স্ট্র্যাটেজিক আক্রমণাত্মক অস্ত্রসজ্জা নিয়ন্ত্রণ চুক্তির আওতায় আনা হয়েছে".

     এর পরে তথ্য পাওয়া শেষ হলে, দুই দেশে একে অপরে পর্যবেক্ষণ সফরে আসবে. তারা যা জানানো হয়েছে তার সঙ্গে বাস্তবে মিলিয়ে দেখে রিপোর্ট পেশ করবে. পর্যবেক্ষণ সমস্ত ঘাঁটিতেই করা হবে না, বরং বাছাই করে করা হবে, যার চুক্তি অনুযায়ী আলাদা করে বরাদ্দ করা হয়েছে. এই বরাদ্দ অনুযায়ী বছরে ১০টি পর্যবেক্ষণ সফর করা হবে. আর প্রত্যেক পক্ষ নিজেরা ঠিক করে কোথায় তারা পর্যবেক্ষণ করতে আসবে.

    তৃতীয় স্ট্র্যাটেজিক আক্রমণাত্মক অস্ত্রসজ্জা নিয়ন্ত্রণ চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১০ বছর পরে ১৫৫০ টি করে পারমানবিক বোমা ও ৭০০ টি পরিবাহক রকেট উড়ানের জন্য তৈরী অবস্থায় রাখতে পারবে. প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আনাতোলি সেরদ্যুকভ কিছুদিন আগে ঘোষণা করেছেন যে, রাশিয়া পুরনো পরিবহন রকেট ও বোমা কমিয়ে নতুন ধরনের অস্ত্র তৈরী করবে, কারণ তাহলে তৃতীয় চুক্তির বাস্তবায়ন সম্পন্ন হবে. বর্তমানে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে রয়েছে প্রায় ৪০০০ পারমানবিক বোমা ও ৮০০ টিরও বেশী উড়ানের উপযুক্ত পরিবহন রকেট, যা ডুবোজাহাজ, বোমারু বিমান ও ব্যালিস্টিক মিসাইল হিসাবে রয়েছে.