ভাগ্যের পরিহাসে, পশ্চিমের জোটের লিবিয়াতে সামরিক হানা শুরু হওয়ার দিন প্রায় একই সঙ্গে পশ্চিমের জোটের আরও একটি স্মরণীয় বর্ষপূর্তি দিবসের সাথে এক হয়েছে. ২০০৩ সালে ২০ শে মার্চ ইরাকে অনুপ্রবেশ শুরু হয়েছিল. জামাহিরি উদ্দেশ্যে প্রথম রকেট গুলি ছোঁড়া হয়েছিল ১৯ শে মার্চ. কিন্তু এটাই একমাত্র মিল নয়.

এই বিষয়ের দিকে বহু পর্যবেক্ষক লক্ষ্য করেছেন. তাদের মধ্যে – বাগদাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিজ্ঞানের ইতিহাসের অধ্যাপক ডঃ ঝাসেভ আল- মুসাভি বলেছেন:

"যা সব এই সময়ে লিবিয়াতে হচ্ছে, তা খুবই মনে পড়িয়ে দিচ্ছে ইরাকের পরিস্থিতি, তা যেমন সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে, তেমনই কূটনৈতিক দিক থেকে".

এই মূল্যায়ণের বিরোধী লোকেরাও আছেন. স্ট্র্যাটেজিক অনুসন্ধান কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ ডঃ আব্বাস কুন্দুফ বলেছেন:

"আমি মনে করি যে, আজকের দিনের লিবিয়ার ঘটনার সঙ্গে ২০০৩ সালের ইরাকের ঘটনার প্রায় কিছুই মেলে না, যদি না অবশ্যই দুটি সামরিক হানার সময় মেলানো হয়. রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত পদাতিক অনুপ্রবেশ নিষিদ্ধ বলেছে, আর আমি মনে করি না যে, এই দলিলের বিরুদ্ধে গিয়ে ইরাকের মতই এখানে পদাতিক অনুপ্রবেশ ঘটবে. তফাত রয়েছে আভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রেও. লিবিয়াতে আমরা সেই সব লোকের সঙ্গে রয়েছি, যারা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে, কিন্তু ইরাকে দেশের জনগন বিদেশী অনুপ্রবেশ কারীর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একসাথে যুদ্ধ করেছিল. তাছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেও এখন ঘোষণা করছে না যে, ২০০৩ সালের মত, তাদের লক্ষ্য বর্তমানের প্রশাসনকে ধ্বংস করা".

সাদ্দাম হুসেইনের সময়ে ইরাকের জনগনের ঐক্য সম্বন্ধে যে তত্ত্ব আছে, হতে পারে তার সঙ্গে কিছু লোক একমত হবেন না. কিন্তু বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ হল ১০টি তফাত খুঁজে বার করো মার্কা খেলা করা নয়, বরং এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা: পশ্চিমের সামরিক হানার ফলে কি হতে পারে? লিবিয়া কি দ্বিতীয় ইরাক হবে না? আর এখানেই অনেক বিশ্লেষকেরা একমত হয়েছেন. রাজনৈতিক তথ্য কেন্দ্রের ডিরেক্টর আলেক্সেই মুখিন বলেছেন:

"এই অঞ্চলের অনেক রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনই আমেরিকা বিরোধী ও পশ্চিমের বিরুদ্ধে তৈরী হয়েছে. আর এর ফলে শেষ অবধি ওই লিবিয়াতেই পশ্চিমের মূল্যবোধের চরম বিরোধী কোন দল ক্ষমতায় আসতে পারে. এটাই ঘটবে, যদি প্রথমতঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ফ্রান্স এই অঞ্চলে ইরাকের মতই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ না করে. এই কারণে লিবিয়া আরও বেশী করেই ইরাকের মতো হতে চলেছে. সামরিক হানা শুরু করে পশ্চিমের দেশগুলি খুব সম্ভবতঃ দেশে তাদের পছন্দ মত প্রশাসন নিযুক্ত করার চেষ্টা করবে, যারা ইউরোপ ও আমেরিকার দেশ গুলিকে খনিজ জ্বালানীর উত্স গুলি নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে দেবে".

যাই হোক না কেন, বিশ্বাস করতে ইচ্ছা হয় যে, লিবিয়া মানবিক ক্ষেত্রে অন্ততঃ ইরাকের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করবে না. সেখানে প্রতিদিনে এক ঘন্টা মাত্র বিদ্যুত শক্তি সরবরাহ করা হবে না, পরিকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হবে না, পানীয় জল সরবরাহ বিকল হয়ে যাবে না, বহু লক্ষ মানুষ উদ্বাস্তু ও দেশ ছেড়ে যেতে চাইবে না. মন চাইছে... কিন্তু তা বিশ্বাস হচ্ছে না.