জাপানের ইঞ্জিনিয়ারেরা সমস্ত কিছুই করছেন যাতে ফুকুসিমা -১ পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়. সোমবার তাঁরা ছয়টি রিয়্যাক্টরের সব কটি তেই বিদ্যুত পরিবাহী তার নিয়ে যেতে পেরেছেন. বিশেষজ্ঞরা আশা করেছেন এর ফলে রিয়্যাক্টর ও ব্যবহৃত পারমানবিক জ্বালানী সংরক্ষণের জন্য তৈরী জলাধারে স্বয়ংক্রিয় ভাবে জল সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে.

    কিন্তু বিদ্যুত সরবরাহ শীঘ্রই শুরু করা হয়তো যাবে না, এই কথা ঘোষণা করেছেন রসঅ্যাটম সংস্থার যোগাযোগ দপ্তরের ডিরেক্টর সের্গেই নোভিকভ:

    "এই রিয়্যাক্টরের ব্যবস্থাগুলিতে বিদ্যুত সরবরাহ করা যেতে পারে প্রয়োজনীয় যান্ত্রিক পরীক্ষা করার পরেই, কারণ ভূমিকম্পে বা সুনামির ফলে জল ঢুকে পড়ে ব্যবস্থায় ত্রুটি থাকতে পারে. যদি যান্ত্রিক গোলযোগের পরীক্ষা আগে না করা হয়, তবে কোন যন্ত্রে শর্ট সার্কিট হয়ে যেতে পারে, অথবা অন্য কোন বিপদও ঘটতে পারে, আল তখন সব কিছু আবার শুরু থেকে করতে হবে. এই যান্ত্রিক পরীক্ষা করতে দুই তিন লাগতে পারে. তারপরে সমস্ত রিয়্যাক্টরে স্থিতিশীল ভাবে বিদ্যুত সরবরাহ চালু করা হবে".

    এই কাজ আরও কঠিন হয়েছে দুটি রিয়্যাক্টরে তেজস্ক্রিয় বিকীরণের মাত্রা খুব বেশী হওয়াতে, যদিও ধীরে হলেও তা কমে আসছে. যেমন, সোমবারে দুপুরের পরে একটি রিয়্যাক্টরের উপরে ধোঁয়ার মেঘ দেখতে পাওয়া গিয়েছে. সমস্ত কর্মীকে আবার ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে.

    যাই ঘটুক না কেন, দেশে মনে হচ্ছে ভূমিকম্প ও সুনামির পরে আতঙ্ক কেটে যাচ্ছে, যদিও নিহত ও নিখোঁজ লোকের সংখ্যা বেড়েই চলেছে. পুলিশের তথ্য অনুযায়ী তা ২২ হাজার লোক হয়েছে. ধ্বংস স্তূপের নীচে জীবিত লোক খুঁজে পাওয়ার আশা প্রতি ঘন্টার সঙ্গেই কমে আসছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিন এই কারণে নিজেদের ত্রাণ কর্মীদের এর মধ্যেই ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে. রাশিয়ার ১৫০ জন ত্রাণ কর্মী ৭টি বিশেষ যন্ত্র নিয়ে এখনও নির্দিষ্ট জায়গায় চেষ্টা চালাচ্ছে ধ্বংস স্তূপ সরিয়ে দেখতে. এই সময়ের মধ্যে তাদের পক্ষে সম্ভব হয়েছে ১০০ জনেরও বেশী স্থানীয় লোকের মৃতদেহ উদ্ধার করার. দুঃখের কথা যে, একজনকেও জীবিত অবস্থায় পাওয়া যায় নি.

    পাশাপাশি রাশিয়া জাপানকে মানবিক সাহায্য পাঠানোও অব্যাহত রেখেছে. সোমবারে আরও একটি বিমানে খাবারভস্ক থেকে নিইগাতা শহরে কম্বল ও জল পাঠানো হয়েছে. এই সাহায্য গৃহহীণ মানুষদের কাছে দেওয়া হচ্ছে, যারা বর্তমানে বিভিন্ন ত্রাণ কেন্দ্রে রয়েছেন. দেশে এই রকমের কেন্দ্র রয়েছে ২০০০. যাদের বাড়ী ঘর এখনও অক্ষত আছে, তাঁরা চেষ্টা করছেন ধ্বংস স্তূপের পাশে বেঁচে থাকার, যদিও প্রতি দিনের সঙ্গে কষ্ট আরও বাড়ছে. এর মধ্যেই খবর আসতে শুরু করেছে খাবার, জল ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সংরক্ষণের জিনিস ধ্বংস হওয়া দোকানের ও লোকের ছেড়ে যাওয়া ঘর বাড়ী থেকে চুরির. তার সঙ্গে সুনামির পরে ফেলে যাওয়া ও ভাঙ্গা গাড়ী থেকে চুরি হচ্ছে জ্বালানী তেল. কিন্তু এগুলি সব আলাদা ঘটনা, লুঠপাট হওয়ার ঘটনা কিন্তু শোনা যায় নি.

    আজ ১১ই মার্চের পরে প্রথম দেশের সরকার দেশের লোককে বাধ্য হয়েছেন সতর্ক থাকতে বলতে. কারণ নানা ধরনের জালিয়াত লোক উদয় হয়েছ, যারা সস্তায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়ী সারিয়ে দেওয়ার নামে ও বিধ্বস্ত লোকেদের সাহায্যের নামে অর্থ জমা করছে. তাছাড়া এই প্রথম দেশে বিনা কারণে প্রাথমিক প্রয়োজনীয় জিনিস ও তার মধ্যে ছোট জেনারেটর ও হীটারের দাম বাড়তে শুরু করেছে, গাড়ীর তেলের দামও বাড়ছে.

    জাপানে আমদানী করা লাল মদ ও কড়া মদের চাহিদা বেড়েছে. এই জিনিস দিয়ে ঐতিহ্য অনুযায়ী মানুষের শরীরে তেজস্ক্রিয়তা জনিত ক্ষতি কমানোর চেষ্টা করা হয়ে থাকে. হাওয়ার অবস্থা ও খাবার ও জলের অবস্থা আপাততঃ বিকীরণের ফলে কোন রকমের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে না. কিন্তু বিপদ এখনও কমেছে বলা হয় নি, তার মধ্যে রাশিয়ার সুদূর প্রাচ্যও রয়েছে. তেজস্ক্রিয়তার পরীক্ষা করছে ৬টি বিমান ও ২৬টি সামুদ্রিক জাহাজ. এই বিষয়ে জাপান থেকে আসা সমস্ত মালপত্র, মানুষ ও খাবার জিনিস পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে. কোন অস্বাভাবিক কিছু এখনও পাওয়া যায় নি.