মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ সামরিক বাহিনী ক্ষমতা পেয়েছে মধ্য এশিয়ার দেশ গুলিতে সন্ত্রাস বিরোধী অপারেশনের সময়ে ঢুকে পড়তে. আমেরিকার এই বাহিনীর লোকেরা কিরগিজিয়া, তাজিকিস্থান, তুর্কমেনিয়া ও উজবেকিস্তানে আফগানিস্থান থেকে সন্ত্রাসবাদীদের তাড়া করে ঢুকে তাদের মারতে পারে. এই খবর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে এক উত্স জানিয়েছেন. রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, এই ধরনের অপারেশন করা উচিত্ খুবই সাবধান হয়ে ও যাতে একেই অশান্ত এই অঞ্চলের পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল না হয়.

    আমেরিকার সামরিক দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে যে, আমেরিকার বিশেষ সামরিক বাহিনী প্রায়ই যারা আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে অন্য দেশে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করে সেই ধরনের সশস্ত্র যোদ্ধাদের তাড়া করে অন্য দেশের ভিতরে ঢুকে পড়ে. এরপর থেকে এই ধরনের অপারেশন করা হবে মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সামরিক ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর সহায়তা নিয়ে একসঙ্গে ও তা হবে প্রত্যেক বার আলাদা করে. এক্ষেত্রে দেশ গুলিতে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর সর্বদা উপস্থিতির কোন প্রয়োজন নেই. এই বিষয়ে সাফল্যের উদাহরণ দিতে গিয়ে আমেরিকার সরকার উল্লেখ করেছে ২০১০ সালে তাজিকিস্থানে আফগানিস্তান থেকে ঢুকে পড়তে চাওয়া ঐস্লামিক চরমপন্থীদের ধ্বংস করা বিষয়ে সম্মিলিত প্রয়াসের. এই ধরনের অপারেশন নিয়মিত পাকিস্তানে চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে করা হচ্ছে. কিন্তু এই ধরনের আক্রমণকে কখনোই পরিস্কার বলা যেতে পারে না, কারণ প্রায় ক্ষেত্রেই এই ধরনের সামরিক যুদ্ধে নিরীহ মানুষের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়, যা স্থানীয় জনতার পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট বিক্ষোভের কারণ হয়.

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর সম্ভাব্য ব্যবহার প্রাক্তন সোভিয়েত দেশের সদস্য দেশ গুলিতে করা, রাশিয়ার উদ্বেগের কারণ না হয়ে যেতে পারে না, বলে উল্লেখ করেছেন সামাজিক রাজনৈতিক অনুসন্ধান কেন্দ্রের ডিরেক্টর ভ্লাদিমির ইভসিয়েভ, তিনি এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

    "এই অঞ্চল খুবই অস্থিতিশীল. কিরগিজিয়াতে ঘটে যাওয়া ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে যে, এই দেশ নির্দিষ্ট এক পরিস্থিতিতে কয়েকটি ভাগে ভাগ হয়ে যেতে পারে. তাজিকিস্থানে পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে এই দেশে তাজিক আভ্যন্তরীণ বিরোধের বিষয়ে তালিবান আন্দোলনের প্রভাবে. উজবেকিস্তানে সমস্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে ইসলাম কারিমভের প্রশাসনের দ্বারা. কিন্তু তাঁর পরে এই দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে এই গ্যারান্টি  কেউ দিতে পারে না. তুর্কমেনিয়াতে পরিস্থিতি সহজ নয়, যাদের আফগান সীমান্তে যথেষ্ট অগ্নিগর্ভ অবস্থা. এই পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর প্রয়োগ পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে দিতে পারে ও রাশিয়ার জন্য স্ট্র্যাটেজিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে তা হওয়া উদ্বেগ জনক. প্রসঙ্গতঃ সম্ভাবনা আছে বলেই সেখানে শক্তি প্রয়োগ করা হবে, তা এখনও বলা হচ্ছে না. যে কোন অবস্থাতেই রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উচিত্ এই প্রসঙ্গে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা সংরক্ষণের বিষয়ে নিজেদের কাজকর্ম পারস্পরিক সমর্থনে করা".

    বোঝাই যাচ্ছে যে, সম্ভাব্য আলাদা অপারেশন করাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই অঞ্চল সংক্রান্ত সামগ্রিক স্ট্র্যাটেজি বা পরিকল্পনার মধ্য থেকেই দেখা ঠিক হবে. মধ্য এশিয়াকে কয়েকদিন আগেই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে বলা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা, যার মাধ্যমে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হয়: এই অঞ্চল ন্যাটো জোটের সৈন্য বাহিনীর রসদ যোগানের জন্য প্রধান এলাকা, যারা বর্তমানে আফগানিস্তানে রয়েছে. কিন্তু আমেরিকার সরকার প্রায়ই মধ্য এশিয়ার দেশ গুলির আভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয়ে মূল্যায়ণ করা শুরু করেছে. যেমন, আমেরিকার প্রশাসনের ভাল লাগছে না তাজিকিস্থান ও উজবেকিস্তানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সংবাদ মাধ্যমের উপরে নিয়ন্ত্রণ. এই বিষয়ে ও অঞ্চলের অন্যান্য বিষয়েও প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা চলছে ইন্টারনেটের মাধ্যমে. আমেরিকার সামরিক বাহিনী পরিকল্পনা করছে যার মাধ্যমে এই অঞ্চলের সামাজিক সাইট গুলিতে গোপনে মত বদল করানো যাবে, যেখানে তারা বহু শত লোককে হাজির করছে, তাদের "প্রয়োজনীয়" মতে যারা বক্তব্য লিখছে সাইটে. জানা আছে যে, ইন্টারনেটই নিকট প্রাচ্যে প্রবল জন বিক্ষোভের সময়ে অনুঘটকের কাজ করেছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করছে যে, তাদের জন্য এই ধরনের কাজের মূল কারণ হল – "সত্যের পক্ষে থাকা". প্রসঙ্গতঃ, আমেরিকার সত্য সম্বন্ধে ধারণা প্রায়ই যে সকলের সম্মতি ক্রমে গৃহীত ধারণার ব্যতিক্রমী হয়. তা তো জানাই আছে, তার মধ্যে আন্তর্জাতিক ভাবে গৃহীত আইনও পড়ে.

    সর্ব শেষে, আমেরিকার প্রভাবশালী বিশেষজ্ঞরা মধ্য এশিয়ার দেশ গুলির সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে এক সারি প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন, যাতে এই অঞ্চলে নতুন স্ট্র্যাটেজি তৈরী করার চেষ্টার বিষয়ে বলা হয়েছে. অংশতঃ, তাতে বলা হয়েছে যে, আফগানিস্তান থেকে আমেরিকার সৈন্য প্রত্যাহারের পরেও এখানে তাদের উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে. অবশ্যই নিজেদের উপস্থিতির প্রসঙ্গে মোদ্দা কথা আমেরিকা ঘোষণা করেছে মধ্য এশিয়ার দেশ গুলির স্বাধীনতা রক্ষা ও সেখানে গণতন্ত্রের প্রসার বিষয়ে. কিন্তু তা হবে সদা জাগ্রত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরই কড়া নজরদারিতে.