পশ্চিমা যৌথবাহিনী লিবিয়ার ভূখন্ডে ব্যাপক ক্ষেপোনাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে.ক্ষেপনাস্ত্র ও বিমান হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র,যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স.

শনিবার বিকেলে ও রাতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য তাদের যুদ্ধ জাহাজে থেকে ১১০টিরও অধিক টমাহক ক্রুজ মিসাইল লিবিয়ার সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করেছে.গোলাবর্ষন করা হয়েছে ফরাসি বিমান থেকে.রোববার শক্তিশালী ৩টি মার্কিন ক্ষেপনাস্ত্র লিবিয়ার প্রধান বিমানঘাঁটিতে ছোঁড়া হয়েছে.পশ্চিমা যৌথবাহিনীর হামলার পরই হতাহতের খবর পাওয়া যায়.লিবিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল জামাহিরিয়া জানিয়েছে যে,পশ্চিমা যৌথবাহিনীর হামলায় ৪৮ জন নিহত ও ১৫০ জন আহত হয়েছে.লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে.একইসাথে পশ্চিমা বাহিনী লিবিয়ার নৌপথ ব্লক করেছে.এই কাজে সহায়তার জন্য অন্তত ২০টিরও অধিক যুদ্ধ জাহাজ ও সাবমেরিন ব্যবহার করা হচ্ছে.

জাতিসংঘের অনুমোদন সাপেক্ষেই লিবিয়ায় পশ্চিমা যৌথবাহিনীর হামলা পরিচালিত হচ্ছে.জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ লিবিয়ার নেতা মুহাম্মর গাদ্দাফির মোকাবেলায় জাতিসংঘ ঘোষিত বিমান উড্ডয়ন নিষিদ্ধ এলাকায় হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়.পশ্চিমা যৌথবাহিনার এই অভিযানের বিষয়বস্তু নিয়ে রেডিও রাশিয়াকে জানিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিখ্যাত রুশি পর্যবেক্ষক আজাহার কুরতোব.তিনি বলছিলেন “বিমান উড্ডয়ন নিষিদ্ধ বিষয়টি হচ্ছে লিবিয়া কর্তৃপক্ষ ঐ আকাশ সীমা ব্যবহার করে বিমান হামলা চালাতে পারবে না, যেই হামলা হচ্ছিল মূলত গাদ্দাফি বিরোধী বিদ্রোহীদের উপর.যখন ঐ জাতিসংঘের রেজুলেশন গৃহিত হয় তখনই এর কিছু অংশে অপূর্ণতা ছিল এবং এই বিষয়টি ভোটাভুটির সময় বেশ কয়েকটি রাষ্ট্র গুরুত্বের সাথে নিয়েছিল.যদিও লিবিয়ায় আকাশ পথেই হামলা হচ্ছে না বরং স্থলপথেও হামলা চালানো হচ্ছে.বস্তুত যৌথবাহিনীরা একটি ক্ষেত্রে সহায়তা করছে এবং যা হচ্ছে তারা লিবিয়ার জন্য সংগ্রাম করছে”.

আইনি দিক থেকে বিষয়টি ঠিক নয়.যে বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে তা হল আন্তর্জাতিক আইন.একটি সতন্ত্র রাষ্ট্রের ভূখন্ডে বিদেশী আগ্রাসন.পর্যবেক্ষক আজাহার কুরতোব উত্তর আফ্রিকা তথা লিবিয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর কথা উল্লেখ করে বলছিলেন যে “অভ্যন্তরীণ জটিল রাজনৈতিক সমস্যাবলী সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে সমাধানের চেষ্টা করা যা দেশের সতন্ত্রকে বিনষ্ট করার শামিল.এই ধরনের পরিস্থিতি পরিবেশকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলবে.সময়ের পরিক্রমায় যৌথবাহিনী অন্য কোন রাষ্ট্রে যে হামলা করবে না তার কোন গ্যারান্টি এখানে নেই.কোন ধরনের রাজনীতি পশ্চিমাদের মনপূত হচ্ছে না নাকি কোন প্রাকৃতিক সম্পদের প্রতি তাদের মনোযোগ”.

রাশিয়া ও চীন পশ্চিমা যৌথবাহিনার সামরিক অভিযানের নিন্দা জানিয়েছে.উভয় দেশই আন্তর্জাতিক কর্মকান্ডে সামরিক শক্তি প্রয়োগের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান করেছে.চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের মূখপাত্র জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে জাতিসংঘের প্রস্তাবনাকে মেনে চলার ও আরব দেশের সতন্ত্র ও ভূখন্ডের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহবান জানিয়েছে.এদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মূখপাত্র আলেকসান্দ্রার লুকাশেবিচ বলেছেন,অতিসত্বর লিবিয়ায় সংকট সমাধানের জন্য এই অভিযান বন্ধ করা দরকার এবং লিবীয়দের মাঝে আলোচনায় শুরু করা উচিত.