পরিবেশবিদরা ও রাশিয়ার জরুরি সহায়তা মন্ত্রনালয় জানিয়েছে যে,জাপানের সীমান্তবর্তী রাশিয়ার ভূখন্ড তেজস্ক্রিয়তার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্ত রয়েছে.একই সাথে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে,রাশিয়ার কামচাটকা,সাখালিন ও ভ্লাদিভাস্তকে  সামুদ্রিক মাছে তেজস্ক্রিয়তা ক্ষতিকারক প্রভাব পরবে না.উল্লেখ্য,রাশিয়ার এই এলাকাসমূহ থেকে শতকরা ৮০ ভাগ দেশীয় মত্স ,ইকরা ও ক্রাবা অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ করা হয়.অন্যদিকে দূরপ্রাচ্যের সামুদ্রিক বাধাঁকপি থেকে সালাত উত্পন্নকারীদের মাঝে অনুরুপ হুঁমকি দেখা যাচ্ছে.

অবশ্য রাশিয়ার প্রিমোরে সামুদ্রিক মাছে তেজস্ক্রিয়তার ঝুঁকিপূর্ণ কোন প্রভাব  নেই.বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে, স্থানীয় মত্সজাতীয় খাদ্যসামগ্রীতে তেজস্ক্রিয়তার কোন প্রভাব আপাতত নেই.এ্যাডমিরাল আলেকসান্দ্রার মাক্সিমোভ বলেছেন যে,সমুদ্রের পানিতে পারমানবিক শক্তিকেন্দ্র থেকে নির্গত তেজস্ক্রিয়তার যুঁকি ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে.তিনি উল্লেখ করেছেন যে,জাপানে তেজস্ক্রিয়তা নির্গমনের হার থেকেও ৮০’র দশকে প্রিমোরে অনেক বেশি তেজস্ক্রিয় নির্গত হয়েছিল.কিন্তু তখনও সামুদ্রিক খাদ্যদ্রব্যের ওপর কোন বিরুপ প্রভাব ফেলে নি.মাক্সিমোভের মতে,ফুকুসিমার ঐ তেজস্ক্রিয়তা নির্গমনের পরও মাছ ও সামুদ্রিক খাদ্যদ্রব্য নিরাপদ রয়েছে.তিনি বলেন,মাছ শুধুমাত্র তেজস্ক্রিয়তা পূর্ন এলাকা ছেড়ে অন্যত্র সরে যায় না এমনকি পরিষ্কার পানিতেও তারা স্থান পরিবর্তন করে.

তবে সামগ্রিকভাবে ঝুঁকির বিষয়টি হচ্ছে,ভ্লাদিভস্তকের আকাশ মেঘে ডেকে গিয়েছে এবং বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে,এর বিরুপ প্রভাবের সম্ভাবনা খুবই কম.তেজস্ক্রিয়ের কার্যকরী উত্স তা স্বভাবতই পানিতে তলিয়ে যাবে.বলছিলেন রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর সমুদ্র ও জৈব ইন্সটিটিউটের উর্ধতন বৈজ্ঞানীক কর্মকর্তা আলেকসান্দ্রার সাকোলোভস্কী.তিনি আস্থার সাথেই জানিয়েছেন ”সর্বোচ্চ এই তেজস্ক্রিয়তা হচ্ছে আয়োডিন-১৩১.যা খুবই সংক্রিয় ও দ্রুত তা ছড়িয়ে পরে.তবে,এর কার্যক্ষমতা সর্বোচ্চ ৮ দিন বজায় থাকে.সুতরাং,আমাদের ভূখন্ড পর্যন্ত তা আসবে না.এছাড়া দীর্ঘস্থায়ী তেজস্ক্রিয় নিউক্লিও যা একত্রিত হবে না.আমাদের ভয়ের কোন কারণ নেই.পানিতে এর কার্যকারিতা থুবই দুর্বল হয়ে পরবে”.

জীব বিজ্ঞানে ডক্টরেট ডিগ্রীধারী সাকোলোভস্কী একই সাথে উল্লেখ করেছেন যে,জাপানের বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছের খুব অল্প সংখ্যকই আমাদের সীমানায় প্রবেশ করবে.অধিকাংশ লোকজনের কাছে এই খাদ্রসামগ্রী তেমন গুরুত্ব নেই.সাকোলোভস্কী বলছিলেন ”তবে গ্রীষ্মকালে জাপান থেকে রাশিয়ায় সামুদ্রিক মাছ হিসাবে আনচাউস ও সারদিনা আসার সম্ভাবনা রয়েছে.কিন্তু,আমাদেরই রয়েছে নিজস্ব স্থানীয় মাছ.তাই,সুনির্দিষ্টভাবে আমাদের ভয়ের কোন কারণ নেই”.

0যদিও বর্তমানে সমুদ্র থেকে উত্পন্ন খাদ্রসামগ্রীতে কোন ঝুঁকি থাকছে না তার পরও বিশেষজ্ঞরা রাশিয়ার প্রিমোর উপকূলীয় এলাকায় সামুদ্রিক খাদ্যসামগ্রীর প্রস্তুতপ্রনালী কাজে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন.