রাষ্ট্রসংঘ লিবিয়ার উপরে উড়ান বন্ধ বলে ঘোষণা করেছে, এটা গাদ্দাফির সেনা বাহিনীর বিমানের জন্যই করা হয়েছে, নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য দেশের ৫ প্রতিনিধি দেশ এই সিদ্ধান্তের প্রকল্প নিয়ে ভোটের সময়ে বিরত থেকেছেন. গৃহীত সিদ্ধান্তে লিবিয়ার জমিতে নানা লক্ষ্যে আঘাত হানা যেতে পারে, তার মধ্যে ট্যাঙ্ক ও সাঁজোয়া গাড়ীর বাহিনী, পদাতিক বাহিনীর দলের উপরেও. এই শুক্রবারেই লিবিয়ার সামরিক বাহিনীর অবস্থানের উপরে আঘাত হানা সম্ভব হতে পারে. মস্কো সাবধান করে দিয়েছে – এর ফলে বিশাল সামরিক অনুপ্রবেশ হতে পারে.

রাষ্ট্রসংঘের নতুন সিদ্ধান্তে লিবিয়ার আকাশ পথে এই দেশের সামরিক বিমান ওড়া বন্ধ করা হয়েছে, যাতে বিরোধী পক্ষের যোদ্ধা অধিকৃত অঞ্চলে বোমা বর্ষণ না করা যায়. এর জন্য রাষ্ট্রসংঘ ব্যবস্থা করেছে সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক সমাজের তরফ থেকে যুদ্ধের. কিন্তু বলেছে যে – পদাতিক বাহিনী ব্যবহার করা চলবে না. এই বিষয়ে ভোট যে সকলে একমত হয়ে দেবে না, তা শুরুতেই বোঝা গিয়েছিল. রাশিয়া, চিন, জার্মানী, ভারত ও ব্রাজিল ভোট দান থেকে বিরত থেকেছে. রাষ্ট্রসংঘে রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি ভিতালি চুরকিন ব্যাখ্যা করে বলেছেন:

"দুঃখের বিষয় হল এই দলিল তৈরী করার সময়ে রাষ্ট্রসংঘের ঐতিহ্য মেনে কাজ করা হয় নি. এই ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদের রাশিয়া ও অন্যান্য সদস্য দেশের পক্ষ থেকে করা আইন সঙ্গত ও একেবারে নির্দিষ্ট প্রশ্নের কোন উত্তর দেওয়া হয় নি. আর তা হল: কি করে উড়ান বন্ধ এলাকা রক্ষা করা হবে, শক্তি প্রয়োগের নিয়ম ও অধিকার কতদূর পর্যন্ত রয়েছে. এই দলিলে এমন কিছু যোগ করা হয়েছে, যার ফলে বিশাল আকারে সামরিক অনুপ্রবেশ করা যেতে পারে".

এই দলিলের বয়ান নিয়ে আলোচনার সময়ে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য দেশ গুলির কয়েকটির পক্ষ থেকে তাঁদের দিক থেকে এই ধরনের ইচ্ছা নেই বলে জানানো হয়েছে. রাশিয়া তা নিজের জানার জন্য মনে রেখেছে. তা স্বত্ত্বেও ভিতালি চুরকিন মনে করেছেন যে সকলকে সাবধান করে দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে, যারা লিবিয়ার প্রশ্নে শক্তি প্রয়োগের বিষয়ে মত্ত হয়ে বর্তমানে আছে, তাই তিনি বলেছেন:

"সেই সমস্ত পক্ষের উপরে বাইরে থেকে প্রয়োজনের বেশী শক্তি প্রয়োগের ফলে যে এড়ানো অসম্ভব মানবিক বিপর্যয় হতে চলেছে, তার দায়িত্ব পড়বেই. আর যদি তা হয়, তবে শুধু এই দেশের সাধারন মানুষই ক্ষতিগ্রস্থ হবেন না, সমস্ত উত্তর আফ্রিকা ও নিকট প্রাচ্য অঞ্চলে শান্তি প্রয়াস ও নিরাপত্তা নষ্ট হবে. এই ধরনের পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার পথ পরিত্যাগ করা উচিত".

একই সঙ্গে মস্কো রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তে লিবিয়াতে অবিলম্বে গুলি চালনা বন্ধ করার ও শান্তি প্রিয় জনগনের উপরে শক্তি প্রয়োগ বন্ধ করার দাবীকে অভিনন্দন জানিয়েছে. তাই চুরকিন বলেছেন:

"আমরা পরম্পরা মেনে ও দৃঢ় ভাবেই ঘোষণা করে চলেছি সাধারন মানুষকে রক্ষা করার জন্য. একমাত্র এই ভিত্তি মূলক নীতিতে আস্থা রেখেইও সামগ্রিক মানবিক মূল্যবোধের কথা ভেবেই, রাশিয়া এই সিদ্ধান্তে ভেটো প্রয়োগ করে নি. কিন্তু আমরা দৃঢ় বিশ্বাস করি যে, লিবিয়াতে শান্তিপ্রিয় সাধারন মানুষের নিরাপত্তাকে বজায় রাখতে হলেও দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরী করতে হলে – অবিলম্বে গুলি বর্ষণ বন্ধ করা দরকার".

এর আগে নেওয়া সিদ্ধান্তের সঙ্গে যোগ করে আরও একটি আঘাত হানা হচ্ছে – লিবিয়ার সমস্ত খনিজ তোল কোম্পানী ও এই দেশের রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সমস্ত অর্থ বিদেশী ব্যাঙ্কে চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে. মুহম্মর গাদ্দাফি আর এই অর্থ ব্যবহার করতে পারবেন না.

এই শুক্রবারেই মুহম্মর গাদ্দাফির অনুগত সেনাদলের জন্য দেশের আকাশ উড়ান বন্ধ বলে পরিনত করার কাজ শুরু হতে পারে. তাতে সম্ভবতঃ অংশ নেবে, ফ্রান্স, গ্রেট ব্রিটেন, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমীর শাহী. তাদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছে কানাডা ও নরওয়ে. ইতালির তরফ থেকে দেশের সামরিক ঘাঁটি গুলিকে সম্ভাব্য শক্তি প্রয়োগের জন্য ব্যবহার করতে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে. আর আপাততঃ লিবিয়ার সেনা বাহিনী আকাশ থেকে বিরোধী পক্ষের উপরে আঘাত হানার কাজ চালু রেখেছে. যখন নিউইয়র্কে লিবিয়ার প্রতি নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আলোচনা চলছিল, তখন বিরোধী পক্ষ অধিকৃত বেনগাজি শহরে তিনটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ শুনতে পাওয়া গিয়েছে. তার উত্তরে বিরোধী পক্ষ থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা কামান দাগা হয়েছে বহুবার. এর আগে লিবিয়ার যুদ্ধ বিমান বেনগাজি শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে বিমানবন্দরে রকেট আঘাত করেছিল.