জাপানের লোকেরা ও দেশে কর্মরত উদ্ধার কর্মীরা এক মিনিট মৌন নীরবতা পালন করে এক সপ্তাহ আগে বিধ্বংসী ভূমিকম্প ও তার ফলে উত্পন্ন জলোচ্ছাসে (সুনামি) নিহত নাগরিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন. শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় ছিল ঠিক এক সপ্তাহ আগে ৯ অঙ্কের শক্তি সম্পন্ন ভূমিকম্প শুরু হওয়ার সময়.

    "ফুকুসিমা – ১" পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের পরিস্থিতি কিন্তু জটিল থেকেই গিয়েছে. জাপানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মীরা তৃতীয় পারমানবিক রিয়্যাক্টর ঠাণ্ডা করার জন্য জরুরী ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ শেষ করেছেন. এখানে সাতটি সাঁজোয়া গাড়ী থেকে এই রিয়্যাক্টরের বাড়ীটির ভেঙে যাওয়া অংশ দিয়ে দ্রুত ও একের পর এক করে জলের কামান দাগা হয়েছে. সব মিলিয়ে প্রায় পঞ্চাশ টন জল ঢালা হয়েছে. এই কাজের আগে সামরিক হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়েছিল. জাপানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী এই কাজ নির্দিষ্ট ফল দিয়েছে. এই পারমানবিক কেন্দ্রের কাছে বিকীরণের পরিমান কিছুটা কমে গিয়েছে. কিন্তু "ফুকুসিমা- ১" কেন্দ্র পরিচালক টোকিওর টেপকো কোম্পানীর মতে – এই লক্ষণ স্থিতিশীল নয় ও সতর্কতা আরও বৃদ্ধি করতে হবে. তার উপরে দ্বিতীয় রিয়্যাক্টরে চাপ কম করার জন্য নির্দিষ্ট জলাধারে বাষ্প নির্গমণ লক্ষ্য করা গিয়েছে. সুতরাং এই পরিস্থিতি জটিল হয়েছে আরও এই কারণে যে, কেন্দ্রের ছয়টি রিয়্যাক্টরই বর্তমানে দূর্ঘটনা গ্রস্থ হয়ে পড়েছে.

    সামরিক বাহিনীকে সাহায্য করা জন্য টোকিওর সবচেয়ে ভাল দমকল কর্মীদের মধ্য থেকে ৩০টি দল পাঠানো হয়েছে. আশা আছে যে, শনিবারে প্রথম ও তৃতীয় দুটি সমস্যা সঙ্কূল ব্লকে জল সরবরাহের কাজ শুরু করা যাবে. তাদের কাছে বিদ্যুত পরিবাহী তার নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে. সবই করা হচ্ছে, যাতে পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়. আর এর পরে "ফুকুসিমা- ১", সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে চেরনোবিল পারমানবিক কেন্দ্রের মতই ভবিষ্যত পাবে. জাপানের পারমানবিক নিরাপত্তা সংস্থা ঘোষণা করেছে ক্ষতিগ্রস্থ রিয়্যাক্টর গুলির উপরে প্রাথমিক ভাবে বালি দিয়ে ভর্তি করে কংক্রীটের ঢাকনা দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত. কিন্তু চেরনোবিল পারমানবিক কেন্দ্রে বন্ধ করা হয়েছিল একটি রিয়্যাক্টর আর এখানে কম করে হলে একসাথে চারটি. আর অন্য কোন পথও নেই, বলে মনে করে রাশিয়ার সবুজ ক্রস পারমানবিক নিরাপত্তা প্রকল্পের ডিরেক্টর ভ্লাদিমির কুজনেত্সভ বলেছেন:

    "এটি একমাত্র প্রমাণিত পথ. কারণ অন্য কোন উপায় আপাততঃ কেউ বার করতে পারে নি. এক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে গ্রহণ যোগ্য উপায়. কিন্তু এই সব কখন করা শুরু হবে? এই সব কাজ শুরু করা উচিত একমাত্র তখনই, যখন সমস্ত প্রক্রিয়া অল্প বিস্তর স্থিতিশীল হয়ে যাবে আর কম করে হলেও বোঝা যাবে, যে আর কিছু এর পরে হতে পারে না".

    পরিচালক টেপকো কোম্পানীও এই ঢাকনা তৈরীর সম্ভাবনাকে বাদ দেয় নি. এই কাজ করতে, এমনকি জাপানী নিয়মানুবর্তীতা অনুযায়ী কাজ হবে ভাবলেও কয়েক মাস চলে যাবে. বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভবিষ্যতে "ফুকুসিমা - ১" পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র আবার নতুন করে তৈরী করা সম্ভবতঃ আর হবে না. জাপানের শক্তি সরবরাহের জন্য "ফুকুসিমা – ১" চিরকালের জন্যই হারিয়ে গেল, এই কথা উল্লেখ করে কুরচাতভ ইনস্টিটিউটের উপ প্রধান ইয়ারোস্লাভ শ্ত্রমবাখ বলেছেন:

    "শুরু হওয়া প্রক্রিয়া গুলিকে থামানো খুবই কঠিন. আর তাই এর প্রতি শান্ত হয়ে চিন্তা করাই ভাল – এই কেন্দ্র প্রযুক্তি গত ভাবে হারিয়ে গিয়েছে. বর্তমানে এটা বিরাট এক এলাকা, যেখান থেকে দূর্ঘটনার ফলে উত্পন্ন দূষণ ও ধ্বংস সরাতে হবে. কিন্তু এটা বাকী অংশের তুলনায় বিরাট কোন ক্ষতি নয়. শুধু জলোচ্ছাসেই জাপানে বহু কারখানা, কাজের জায়গা, বাড়ী ঘর ধ্বংস হয়ে গিয়েছে, মারা গিয়েছেন বহু সহস্র লোক".

    অবশ্যই "ফুকুসিমা – ১" পারমানবিক কেন্দ্রে পরিস্থিতি কঠিন, কিন্তু তা সেখানের কর্মীরা নিয়ন্ত্রণ করতে চেষ্টা করছেন. এই রকম মনে করেছেন আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার ভাইস জেনেরাল ডিরেক্টর আলেকজান্ডার বীচকভ. তাই কোন রকম ভিত্তি নেই জনগনকে পারমানবিক বিস্ফোরণের ভয় দেখানোর. তা স্বত্ত্বেও এই সংস্থার প্রধান নেতৃত্ব ফুকুসিমা কেন্দ্রে পর্যবেক্ষক পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যাতে তাঁরা সেখানে তেজস্ক্রিয় বিকীরণের পরিমান নির্ণয় করতে পারেন. একই সময়ে এই সংস্থা জাপানের সরকারকে "ফুকুসিমা – ১" কেন্দ্র সম্বন্ধে আরও বেশী তথ্য জানাতে অনুরোধ করেছে. জাপানের প্রধানমন্ত্রী নাওতো কান এর সঙ্গে দেখা করার পরে আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার জেনেরাল ডিরেক্টর ইউকিও আমানো এই ঘোষণা করেছেন.

    রাশিয়া জাপানের পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের জটিল অবস্থার জন্য দেশের সুদূর প্রাচ্যে তেজস্ক্রিয়তা নিরুপণের কাজ আরও সক্রিয় করেছে. এই বিষয়ে তথ্য আসছে ৩২টি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ দপ্তর থেকে. এছাড়া জাপান ও আখোত সাগরে জলে বিকীরণের মাপও নেওয়া হচ্ছে. বর্তমানে রাশিয়ার পূর্ব দিকে তেজস্ক্রিয় বিকীরণের মান সম্ভাব্য মানের চেয়ে বেশী নয়.