"ফুকুসিমা -১" পারমানবিক কেন্দ্রে বিধ্বংসী ভূমিকম্প ও তা থেকে উত্পন্ন জলোচ্ছাসে প্রথম, তৃতীয় ও দ্বিতীয় রিয়্যাক্টরের ঠাণ্ডা করার ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে গিয়েছে বিস্ফোরণে.

    জাপানের বিশেষজ্ঞরা চেষ্টা করছেন রিয়্যাক্টরের তাপমাত্রাকে চলতে পারে এমন মাত্রায় কমিয়ে আনার. এই কাজ করার জন্য বেশ কয়েকটি উপায় রয়েছে, তার মধ্যে মাটিতে বসানো পাম্প অথবা হেলিকপ্টার থেকে জল ফেলা যেতেই পারে. ঠাণ্ডা করা দরকার খুব তাড়াতাড়ি, কারণ তা না হলে তাপ নির্গমনের উপযুক্ত পদার্থ গুলি অংশতঃ ভাবে গলে যেতে পারে.

    রিয়্যাক্টর বন্ধ হয়েছে ভূমিকম্পের সময়ে আপনা হতেই স্বয়ংক্রিয় ভাবে. কিন্তু এমনকি বন্ধ হয়ে যাওয়া রিয়্যাক্টর থেকেও বাড়তি তাপ বেরোতেই থাকে. আর যদি সেই তাপকে বের করে না দেওয়া যায়, তবে সব কিছুই আগুনে জ্বলে যেতে পারে ও গলে যেতে পারে. তাপকে কোথাও একটা পাঠানো দরকার. যখন রিয়্যাক্টর থেমে রয়েছে, তখনও তাপ নির্গত হওয়া বন্ধ হয় না: তাপ বেরোনো বন্ধ হতে থাকে, কিন্তু তা খুবই আস্তে আর সময়ের সঙ্গে.

    দুঃখের বিষয় হল জাপানের এই কেন্দ্রের তথাকথিত ফাঁদ নেই, যা বর্তমানের রিয়্যাক্টরে থাকে. "ফুকুসিমা" কেন্দ্রের রিয়্যাক্টর গুলি তৈরী হয়েছে ৪০ বছর আগে, আর বিশেষ এই ফাঁদ মাত্র কয়েক বছর আগে ভেবে বার করা হয়েছে, এটা রাশিয়ার নতুন প্রযুক্তি. সুতরাং যদি রিয়্যাক্টরের খোলস গরমে ভাঙতে শুরু করে ও তার বদ্ধ অবস্থা নষ্ট হয়ে যায়, তবে তা থেকে তার পাশে তেজস্ক্রিয়তা বাড়তেই থাকবে. কিন্তু এই প্রসঙ্গে, যদি "ফুকুসিমা" তে তাপ নির্গমনের ব্যবস্থাকে ঠিক করা না যায়, তাহলেও চেরনোবিলের মত বিস্ফোরণ এখানে ঘটবে না.

    চেরনোবিলের বিস্ফোরণ – এটা অন্য ধরনের দূর্ঘটনা. এটা যখন অনিয়ন্ত্রিত শৃঙ্খল বিক্রিয়ায় মুহূর্ত মধ্যে বা খুবই কম সময়ের মধ্যে শক্তি বহু গুণে বেড়ে যায় ও তাকে কোথাও একটা মুক্তি পেতেই হয়, তখন ঘটতে পারে. ফলে সমস্ত ধ্বংস হয়ে গিয়ে আবহাওয়াতে তেজস্ক্রিয় বিকীরণ ছড়িয়ে পড়ে. এখানে অন্য একটি প্রক্রিয়া চলে: এটাকে বলা যেতে পারে ধীরে গলে যাওয়া, ধীরে তাপ সংগৃহীত হওয়া, যা কোথাও একটা বের করে দেওয়া দরকার.

    একটা ফুটন্ত কেটলির সঙ্গে তুলনা করা চলতে পারে, আমরা যদি তার বাইরে ঠাণ্ডা জল ঢালতে থাকি, তবে তা ঠাণ্ডা হতে থাকবে. প্রায় এই রকমের কাজই এখন "ফুকুসিমা" রিয়্যাক্টর গুলির জন্য করতে হবে. আর জল ঢালতে হবে রিয়্যাক্টরের যথা সম্ভব কাছে, অর্থাত্ রিয়্যাক্টর ও তার প্রতিরক্ষা বর্ম্মের মধ্যে.

    অনেক জল দরকার, আর কোথা থেকে তা পাওয়া যেতে পারে? সমুদ্রের জলে বহু রকমের লবণ রয়েছে, সেগুলি তাপ বিকীরণ করে এমন পদার্থের সঙ্গে রাসায়নিক প্রক্রিয়া করতে পারে, ফলে খোলস গলে যেতে পারে, আর তা খুব খারাপ. ভাল হত পরিশোধিত জল ব্যবহার করতে পারলে, কিন্তু তা এখন জাপানের এই পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে কোথাও পাওয়ার উপায় নেই. আর এটাই ঠাণ্ডা করার জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়েছে.