পাকিস্তানের লাহোর শহরের আদালত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সি আই এ সংস্থার গুপ্তচর রাইমন্ড ডেভিসের উপর থেকে জোড়া পাকিস্তানী খুনের চার্জ তুলে নিয়ে তাকে জেল থেকে ছেড়ে দিয়েছে. আমেরিকা বাসী তত্ক্ষণাত পাকিস্তান ছেড়ে চলে গিয়েছে. বিযয়টি বিশদ করে লিখেছেন গিওর্গি ভানেত্সভ.

পাকিস্তানের সংবাদপত্রে যা লেখা হয়েছে, তা হল ডেভিস ও তার পক্ষের আইন জীবিরা শিরিয়াত আইন অনুযায়ী "রক্তের দাম" দেওয়ার পথই বেছে নিয়েছেন. এই আইন অনুযায়ী নিহতের পরিবার অর্থের বদলে তাঁদের পরবর্তী সমস্ত রকমের অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেয়. ডেভিসের মুক্তি আমেরিকার জন্য ২, ৩৪ মিলিয়ন ডলার দামে হয়েছে. ২৭ শে জানুয়ারী ২০১১ সালে ডেভিসের হাতে নিহত দুই পাকিস্তানীর পরিবারকে এই পরিমান অর্থই দেওয়া হয়েছে.

উল্লেখ যোগ্য হল, সঙ্গে সঙ্গেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মুখ্য পররাষ্ট্র সচিব শ্রীমতী হিলারি ক্লিন্টন ঘোষণা করে বসেছেন যে, নিহতদের নিকট জনকে অর্থ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয় নি. কিন্তু শ্রীমতী ক্লিন্টন এই অর্থের উত্স সম্পর্কে কোন রকমের মন্তব্য করা থেকে খুবই কড়া ভাবে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন. তিনি এমনকি নিহতদের পরিবারকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বসবাসের উপযুক্ত পরিচয় পত্র দেওয়া বা নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটন শহরে বাড়ী কেনার সম্বন্ধে বের হওয়া খবরও সমর্থন করে কিছু বলেন নি. একই সঙ্গে ভারতের সংবাদপত্র "দৈনিক ভাস্কর" জানিয়েছে যে, এই পরিবারের লোকেরা ইতিমধ্যেই চুপিসাড়ে পাকিস্তান ছেড়ে চলে গিয়েছে স্থানীয় ঐস্লামিক চরমপন্থীদের ভয়ে.

ডেভিস সংক্রান্ত এই ঘটনা আরও বেশী করে পাকিস্তান ও আমেরিকার সম্পর্কের মধ্যে ঘুণ ধরিয়ে দিয়েছে. ফলে দুই পক্ষই ফেব্রুয়ারী মাসের শেষে পরিকল্পিত আফগানিস্থান, পাকিস্তান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ত্রৈদেশীয় বৈঠক থেকে বিরত থেকেছে, যা পরে দুই দেশের রাষ্ট্রপতি হামিদ কারজাই ও বারাক ওবামার সাক্ষাত্কারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে গিয়েছে. একই সময়ে এক বা অন্য কোন পক্ষেরই রাজনৈতিক প্রশাসন এই সঙ্কট গভীর হোক তা চায় নি, বিশেষত এশিয়াতে একটি সন্ত্রাস বিরোধী অপারেশনের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের আগ – আফগানিস্থান থেকে মার্কিন সৈন্যদলের প্রত্যাহার, যেখানে ইসলামাবাদ একটি জরুরী ভূমিকা নিয়েছে.

কিন্তু সব হয়েছে উল্টো. লাহোর আদালতের আমেরিকার নাগরিককে ছেড়ে দেওয়ার রায়ে দেশে প্রবল বিক্ষোভ শুরু হয়েছে. ঐস্লামিক দল গুলি ও তার মধ্যে "পাকিস্তানের তালিবান আন্দোলন" আমেরিকার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের হুমকি দিয়ে ঘোষণা করেছে; দেশের জনতা সরকারকে ওয়াশিংটনের হয়ে তাদের স্বার্থ রক্ষা করার ও দেশের স্বার্থ না দেখার জন্য অভিযুক্ত করেছে. এই বিক্ষোভ আরও বাড়তে পারে ও বলা মুশকিল এর ইতি কি হতে পারে. কিন্তু আরও অন্য একটি বিপদও রয়েছে: হোয়াইট হাউসের প্রবল চাপের কাছে নতি স্বীকার করে পাকিস্তানের সরকার রাইমন্ড ডেভিসকে ছেড়ে দেওয়াতে, পাকিস্তানের বর্তমানের রাজনৈতিক প্রশাসনের সঙ্গে দেশের সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে দূরত্বের রেখা বাড়তেই পারে, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার পাকিস্তান সম্বন্ধে বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষক নাতালিয়া জামারোয়েভা বলেছেন:

"এই উত্তেজনা বেশ কয়েকটি দিকে বাড়তে পারে. এটা জনতার বিক্ষোভ, মিছিল ইত্যাদি আবার পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে সামরিক নেতৃত্বের বিবাদ তুঙ্গে উঠতে পারে, কারণ সামরিক নেতৃত্বের আর পছন্দ নয় পেন্টাগনের চাপে কাজ করার, তারা এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছে. পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর লোকেরাই সেই সমস্ত সামরিক কাজকর্মের বিরুদ্ধে কথা বলছে, যেগুলি তাদের মতে দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে. আর দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব আরও বেশী করে হোয়াইট হাউসের পিছনে চলতে চেয়েছে".

0 এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যেতে পারত যে, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বের শক্ত অবস্থানের উপরে ভিত্তি করেই পাকিস্তান উত্তর ওয়াজিরস্থানে আফগান তালিব হাক্কানির দলকে সামরিক অপারেশন করে মারতে চায় নি. এটা খুব অল্প কয়েকটি ঘটনার একটি, যেখানে পাকিস্তান নিজের জায়গাতেই থাকতে পরেছে, আর ওয়াশিংটনের পিছনে চলে নি. পাকিস্তানের সেনা বাহিনীর সঙ্গে হাক্কানির দলের বিশেষ সম্পর্ক পাকিস্তানের সেনা বাহিনীকে আশা করতে সাহায্য করেছে যে, আমেরিকার সেনা বাহিনী চলে যাওয়ার পর আফগানিস্থানে পাকিস্তানের স্বার্থ রক্ষা করতে তারা কাজ করবে.