জাপানে রাশিয়ার বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয়ের কর্মীদের সংখ্যা বেড়েছে. প্রথম দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন রাশিয়ার "লিডার" নামের এক বিশেষ ঝুঁকি সংক্রান্ত কাজের দলের ৫০ জন কর্মী ও সুদূর প্রাচ্যের খোঁজ করার দপ্তরের ২৫ জন. যেখানে সবচেয়ে বেশী ক্ষতি হয়েছে, সেই সেন্দাই শহরের কাছে, রাশিয়ার ত্রাণ কর্মীরা ধ্বংস স্তূপের তলা থেকে খুঁজে দেখে তা পরিস্কার করার কাজে ব্যস্ত. এই কাজ জটিল হয়ে দাঁড়াচ্ছে আরও এই কারণে যে সুনামির পরে বহু জায়গা এখনও জল মগ্ন. শেষ অবধি পাওয়া সরকারি তথ্য অনুযায়ী এই ৯ অঙ্কের ভূমিকম্পে ও তার পরবর্তী প্রবল জলোচ্ছাসে মৃতের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়েছে.

রাশিয়ার ত্রাণ কর্মীরা ইতিমধ্যেই ১০ বর্গ কিলোমিটার জায়গা অনুসন্ধান করে দেখেছেন. সেন্দাই শহরে দুঃখের বিষয় হল কোন জীবিত লোককে খুঁজে পাওয়া যায় নি, এই কথা "রেডিও রাশিয়া" কে রাশিয়ার বিপর্যয় নিরসন দপ্তরের প্রতিনিধি আন্দ্রেই পাকুলভ উল্লেখ করে বলেছেন:

"জন বসতি সুনামিতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে. সমস্ত বাড়ী ঘর দেখা হচ্ছে, কিন্তু দুঃখের বিষয় হল আপাততঃ শুধু মৃত দেরই খুঁজে পাওয়া গিয়েছে.প্রতি দিনের সঙ্গেই জীবিত লোক খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা কমছে".

একই সময়ে জাপানে উড়ে যাওয়ার জন্য তৈরী হচ্ছে রাশিয়া থেকে আরও দুটি বিপর্যয় নিরসন দপ্তরের বিমান. ইল – ৭৬ ব্লাগোভেশেনস্ক ও খাবারভস্ক থেকে যাবে, তাদের সঙ্গে রয়েছে কম্বল, খাবার জল আর জ্বালানী. জাপানীদের সাহায্য শুধু "বিপদ তারণ" দপ্তরের তরফ থেকেই করা হচ্ছে না. রাশিয়ার সুদূর প্রাচ্যের বহু মানুষই তাঁদের বাড়ী ঘরে ক্ষতিগ্রস্থ দের থাকতে দিতে চেয়েছেন. প্রিমোরস্ক ও খাবারভস্ক অঞ্চলে নতুন করে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে, যাতে অর্থ পাঠানো যেতে পারে, আর রেড ক্রস সোসাইটির আঞ্চলিক শাখা গুলি ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য জিনিস পত্র সাহায্য জড় করছেন.

ক্ষতিগ্রস্থ পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র গুলিতে পরিস্থিতি আগের মতই জটিল. আমেরিকার বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ণ অনুযায়ী "ফুকুসিমা – ১" পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের রিয়্যাক্টর গুলি ঠাণ্ডা করার ব্যবস্থায় আগুণ ধরে যেতে পারে, এই মন্তব্যের সাথে একমত জাপানের প্রশাসনও. তার পর নতুন করে পরিবেশে তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে যেতে পারে. দূর্ঘটনা গ্রস্থ রিয়্যাক্টর গুলিকে ঠাণ্ডা করার চেষ্টা করা হচ্ছে, হেলিকপ্টার থেকে জল ঢেলে. এ ছাড়া বৃহস্পতিবারে জাপানীরা ঠাণ্ডা করার ব্যবস্থায় বিদ্যুত সরবরাহ চালু করার চেষ্টা শুরু করেছে, আশা আছে পাম্প চালু করা যাবে. আপাততঃ জল তোলা হচ্ছে জলের কামান ব্যবহার করে, যা সাধারণতঃ মিছিল ভাঙ্গার কাজে লাগানো হয়ে থাকে.

জল ঢালার পরে কেন্দ্রের উপরে বিকীরণ কিছুটা কমেছে, এই কেন্দ্রের চালক কোম্পানী টেপকো থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী বৃহস্পতিবারে "ফুকুসিমা -১" কেন্দ্রের ৯০ মিটার উঁচুতে যন্ত্রে দেখতে পাওয়া গিয়েছে তেজস্ক্রিয়তা ঘন্টায় ৮৭ মিলিজিভের্ত – সাধারন ভাবে এক বছরে এই সূচক হওয়ার কথা বছরে ১ মিলিজিভের্ত. একই সময়ে বাস্তব অবস্থা বিশেষজ্ঞদের পক্ষে পর্যালোচনা করা আরও অসম্ভব হয়ে উঠছে, কারণ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে খুবই কম. এই কথা "রেডিও রাশিয়াকে" দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন রাশিয়ার বিখ্যাত বিজ্ঞানী ও পরিবেশ বিশারদ আলেক্সেই ইয়াবলকভ:

"আমরা শুনেছি, যে ভাবে জাপানের প্রধানমন্ত্রী এই চালক কোম্পানীর উপরে রাগ করে লন্ডভন্ড করেছেন, তাদের প্রশ্ন করেছেন তাঁকে কেন এই সব ঘটনার সম্বন্ধে তথ্য জানতে হচ্ছে সংবাদ মাধ্যম থেকে? জাপানের ঐতিহ্য অনুযায়ী সব বন্ধ করে রাখার অভ্যাসের সাথে আরও যোগ হয়েছে এখন সত্যিকারের তথ্যের অভাব. আর পরিস্থিতি প্রতি তিন চার ঘন্টায় পাল্টে যাচ্ছে".

ফুকুসিমা- ১ কেন্দ্রের পরিস্থিতি যে জটিল তা স্বীকার করেছেন আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার ডিরেক্টর ইউকিও আমানো. তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সব এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে, কিছু বলা এখনও সময়ের আগেই হয়ে যাবে. পারমানবিক সংস্থার প্রধান নিজে তাঁর মাতৃভূমিতে ফিরে আসছেন, যাতে স্বয়ং পরিস্থিতি বুঝতে পারেন.

এই পরিস্থিতির মূল্যায়ণ করে রাশিয়ার বিখ্যাত ও প্রধান পারমানবিক শক্তি অনুসন্ধান কেন্দ্র "কুরচাতভ ইনস্টিটিউটের" উপ প্রধান ইয়ারোস্লাভ শ্ত্রমবাখ ঘোষণা করেছেন যে, পরিস্থিতি খুবই কঠিন. কিন্তু তিনি বিশ্বাস করেন যে, কোন রকমের বিপর্যয় হওয়ার সম্ভাবনা নেই. শ্ত্রমবাখ মনে করেন যে, পাঁচটি রিয়্যাক্টরের গলে যাওয়া আটকানো হয়ত যাবে না. কিন্তু এমনকি সেই অবস্থাতেও নিজে থেকে পারমানবিক প্রক্রিয়া ঘটবে না.