মুহম্মর গাদ্দাফির প্রশাসন ও বিরুদ্ধ পক্ষের যোদ্ধাদের মধ্যে লড়াই শুধু যুদ্ধ ক্ষেত্রেই হচ্ছে না, সংবাদ মাধ্যমেও তা চলছে. প্রত্যেক পক্ষই দেশের পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের মত প্রচার করছে: সরকার বলছে একটি মূল শহর এজ জাউইয়া দখল করেছে, আর বিরোধী পক্ষ বলছে যে, গাদ্দাফি মিথ্যা কথা বলছে. আর রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ তৈরী হচ্ছে লিবিয়ার প্রশাসনের বিরুদ্ধে নতুন সিদ্ধান্তের প্রকল্প বিচার করে দেখতে.

    লিবিয়ার সরকারি টেলিভিশন সংস্থা প্রচার করছে যে, সরকারি সৈন্যদের বিজয় রথ এগিয়ে চলেছে. ত্রিপোলি থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী দেশের পূর্ব দিকের রাজধানী ও বিরোধী পক্ষের ঘাঁটি বেনগাজি শহরে বোমা বর্ষণ ও কামানের গোলা বর্ষণ বুধবারেই শুরু হতে পারে. বিরোধী পক্ষ রটাচ্ছে যে, সরকার ভুল খবর দিচ্ছে আর ঘোষণা করেছে যে, "লিবিয়া আর কখনোই গাদ্দাফির শাসনে ফিরে যাবে না".

একই সময়ে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে লেবাননের প্রতিনিধি দলের তৈরী করা ও ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের সহায়তায় তৈরী সিদ্ধান্তের প্রকল্প পেশ করা হয়েছে. তাতে বলা হয়েছে যে, লিবিয়ার প্রতি খুব কড়া অস্ত্র সরবরাহ মুলতুবি করা ও "আকাশ পথে উড়ান বন্ধ" করতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক. একই সময়ে বহু কূটনীতি বিদ মনে করেন যে, এই দলিলের বয়ান আগে নেওয়া আরব লীগের দেশ গুলির সিদ্ধান্তের পরিপন্থী. আর রাশিয়ার প্রতিনিধি দল, নিরাপত্তা পরিষদে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়ে সেই ধারণার উপরেই নির্ভর করবেন, যা আরব দেশ গুলি নিজেরাই তৈরী করেছেন, এই কথা বিশেষ করে উল্লেখ করে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছেন:

"আরব দেশ সমূহের লীগের সদস্য দেশ গুলি যে কোন রকমের বিদেশী হস্তক্ষেপ, বিশেষত সামরিক অনুপ্রবেশ লিবিয়ার বিষয়ে করতে দিতে চায় না. আমাদের দরকার হল আরও বেশী করে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার যে, আমাদের আরব বন্ধুরা কি করতে প্রস্তাব দিতে চাইছেন. তারপরে আমরা এই প্রস্তাব পর্যালোচনা করব".

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আপাততঃ গাদ্দাফির সঙ্গে অর্থনৈতিক ভাবে সংগ্রাম করছে. ওয়াশিংটন লিবিয়ার বহু সম্পত্তি আটক করেছে, যার অর্থ মূল্য ৩২ বিলিয়ন ডলার. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাব করেছে এই অর্থ বিরুদ্ধ পক্ষের সাহায্যের জন্য খরচ করার ও রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তকে কার্যকরী করার জন্য খরচ করার (অবশ্যই যদি সেই রকমের কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়). এখানে লক্ষ্য করার মতো হল, এই প্রথম ওয়াশিংটন কোমল সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলছে, যখন গাদ্দাফির বিরুদ্ধে সমস্ত কড়া ব্যবস্থার কথা বলছে লন্ডন ও প্যারিস. এই কথা "রেডিও রাশিয়াকে" দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে উল্লেখ করেছেন তুলনীয় ভাবে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসন্ধান কেন্দ্রের ডিরেক্টর বরিস শ্মেলেভ:

"আমেরিকার জেনেরালেরা রাষ্ট্রপতির কাছে ব্যাখ্যা করেছেন যে, লিবিয়ার বিরুদ্ধে যে কোন রকমের ব্যবস্থা নেওয়ার মানেই হল যুদ্ধ. আর ইরাক ও আফগানিস্থানের পরে তৃতীয় যুদ্ধ করার সামর্থ্য বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেই. তাই ওয়াশিংটন ন্যাটোতে নিজেদের সহযোগী দের ব্যবহার করেছে. তা ছাড়া লিবিয়ার বিরুদ্ধে যে কোন রকমের শক্তি প্রয়োগ সমস্ত ঐস্লামিক দুনিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করবে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন করতেই তৈরী নয়".

লন্ডন ও প্যারিসের সক্রিয়তার কারণ সম্পর্কে যা বলা যেতে পারে, তা বিশেষজ্ঞের মতে বোঝা সহজ: তাদের প্রয়োজন প্রথমতঃ লিবিয়ার খনিজ তেল. এক সময়ে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের কোম্পানীগুলি লিবিয়ার খনিজ তেল ও গ্যাস উত্পাদনের বিষয়ে যথেষ্ট সুযোগ পায় নি. আর বর্তমানে তারা দেখতে পেয়েছে গাদ্দাফি প্রশাসনকে পাল্টে তাদের সঙ্গে কথা বলতে তৈরী এমন প্রশাসনকে সেখানে বসানোর. গাদ্দাফি নিজে ঘোষণা করছেন যে, পশ্চিমের দেশ গুলিকে আর লিবিয়া থেকে খনিজ তেল পেতে হবে না. লিবিয়ার বিপ্লবের নেতা এর একমাত্র ব্যতিক্রম হিসাবে দেখেছেন জার্মানীকে. ভবিষ্যতে গাদ্দাফি চুক্তি করতে তৈরী আছেন শুধু রাশিয়া, চিন ও ভারতের কোম্পানীদের সাথে. আর একই সঙ্গে ইউরোপের দেশ গুলিকে সাবধান করে দিয়ে বলছেন যে, যদি লিবিয়াতে চরমপন্থীরা ক্ষমতায় আসে, তবে সমগ্র ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে মাত্সান্যায় শুরু হবে, আর ইউরোপে উপস্থিত হবে আফ্রিকা থেকে বহু লক্ষ শরনার্থী.

    বুধবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তের বয়ান নিয়ে আলোচনা হবে. যদি মস্কো তার সহকর্মী দেশ গুলির সঙ্গে পরামর্শ করে দেখতেও চায়, তবে বেইজিং কিন্তু এই বিষয়ে এখনই খুব নির্দিষ্ট করে বলে দিয়েছে: তারা কোন রকমের সিদ্ধান্ত আলোচনা করতেই রাজী নয়, যেখানে লিবিয়ার আভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিশ্ব সমাজের কোন রকমের অনুপ্রবেশ অনুমোদন করা হবে.