রাশিয়া ও ভারত বর্তমানে আলোচনা করছে ভারতে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ৪০০০ কোটি ডলার সম্ভাব্য ঋণ দেওয়া নিয়ে. মঙ্গলবারে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন. তিনি আরও যোগ করেছেন যে, রাশিয়া ভারতকে ইতিমধ্যেই ২, ৬ হাজার কোটি ডলার ঋণ দিয়েছে. বিষয়টিকে বিশদ করেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

কোন লোকের মনে হতেও পারে যে, জাপানে বিধ্বংসী ভূমিকম্প ও প্রবল সুনামির ফলে বিপর্যস্ত "ফুকুসিমা- ১" পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের বিস্ফোরণের পরে কেউ আবার নতুন পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র তৈরীর কথা কি করে ভাবতে পারে. অবশ্যই ঝুঁকি রয়েছে, তা সবসময়েই ছিল, কিন্তু তা নেওয়ার মানেও আছে. তা না হলে, চিন, ভারত, তুরস্ক, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম ও অন্যান্য বহু দেশের পক্ষে, যাদের কাছে প্রয়োজন অনুপাতে হাইড্রো কার্বন যৌগের ভাণ্ডার নেই, তারা কি করবে? পারমানবিক শক্তি এই ক্ষেত্রে একমাত্র সমস্যা সমাধানের পথ হতে পারে. বর্তমানের প্রযুক্তি প্রত্যেক দিনের সাথেই আরও উন্নত হচ্ছে ও নিরাপদ হচ্ছে, পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের দূর্ঘটনা ঘটার ঝুঁকিও তাই সবচেয়ে কম করা সম্ভব হচ্ছে. এই দিকেই রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন লক্ষ্য করে বলেছেন:

"জাপানের পারমানবিক কেন্দ্রের রিয়্যাক্টর গুলি আসলে চল্লিশ বছরের পুরনো প্রযুক্তি দিয়ে তৈরী. আজকের দিনে বিশ্বে এর থেকে অনেক ভাল রিয়্যাক্টর রয়েছে. প্রমাণ করে দেখানো সম্ভব হয়েছে যে, পারমানবিক শক্তি খুবই বিপদ হীণ হতে পারে. বর্তমানের পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র, প্রতিরক্ষা করার বিভিন্ন রকমের মাধ্যম দিয়ে তৈরী করা হয়ে থাকে, যার ফলে জাপানের মত করে ঘটনা ঘটার, সমস্ত পথই বন্ধ করা সম্ভব".

বর্তমানের বিশ্বে বিভিন্ন পর্যায়ে তৈরী হতে চলেছে ৬২টি পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র. আরও প্রায় তিনশটি রিয়্যাক্টর তৈরী করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে. রাশিয়া, ভারত, চিন ও অন্যান্য দেশে এখন নির্মাণ ও আধুনিকীকরণের জন্য বিশাল সমস্ত প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে. রাশিয়া ভারত, ভিয়েতনাম, তুরস্ক ও বুলগারিয়াতে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণে সহায়তা করছে. এখনও বোঝা যাচ্ছে না, এই পরিকল্পনা গুলি কতটা পরিবর্তন করা হতে পারে. কিন্তু বিশ্বে এই ক্ষেত্রে নেতৃত্বদানকারী দেশ রাশিয়া ও চিন স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, তারা জাপানে বিস্ফোরণ স্বত্ত্বেও নতুন প্রজন্মের পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ থেকে বিরত হবে না.

খুব শীঘ্রই রাশিয়ার প্রযুক্তি সাহায্যে তৈরী ভারতের দক্ষিণে কুদানকুলাম কেন্দ্রে দুটি রিয়্যাক্টর কাজ করতে শুরু করবে, প্রতিটি ১০০০ মেগাওয়াট শক্তি উত্পাদনে সক্ষম. এই দুটি ভারতে আগামী পাঁচ সাত বছরে দুই দেশের মধ্যে পরিকল্পিত আগামী ১৬টি রিয়্যাক্টরের মধ্যে প্রথম দুটি হতে চলেছে. নতুন পারমানবিক কেন্দ্রগুলিতে সবচেয়ে আধুনিক যন্ত্রপাতি লাগানো হচ্ছে, যা ভরসা যোগ্য ভাবে তাদের কাজ নিরাপদ করবে. অংশতঃ, কুদানকুলামের প্রথম দুটি রিয়্যাক্টর, যে গুলির বর্তমানে উত্তাপ সহনশীলতার পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে, সেগুলি হাল্কা হাইড্রোজেন ব্যবহার প্রযুক্তির রিয়্যাক্টর ভিভিএআর- ১০০০ ধরনের, যা তৃতীয় প্রজন্মের রিয়্যাক্টর বলে মেনে নেওয়া হয়েছে এবং তার নিরাপত্তার ব্যবস্থা খুবই সর্বাধুনিক, এই প্রসঙ্গে রাশিয়ার রসঅ্যাটম সংস্থার প্রধান সের্গেই কিরিয়েঙ্কো বলেছেন:

"কুদানকুলামে যে প্রকল্প অনুযায়ী তৈরী করা হচ্ছে, তা নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে এক অন্যতম বিরল প্রকল্প. এত বেশী সংখ্যায় সক্রিয় ও প্রতিক্রিয়াশীল নিরাপত্তা ব্যবস্থা এর আগে বিশ্বের আর কোনও পারমানবিক বিদ্যত কেন্দ্রে ব্যবহার করা হয় নি. নতুন পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে সর্বাধুনিক ও সবচেয়ে ভাল যন্ত্র লাগানো হয়েছে, যা এই গুলির কাজের সময়ে নিরাপত্তা বিষয়ে সবচেয়ে ভরসা করার উপযুক্ত".

ভারতীয় পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র গুলির বাড়তি নিরাপত্তার জন্য যা করা হয়েছে, তা হল এই গুলি সম্ভাব্য ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলের কেন্দ্র থেকে বহু দূরে, আর তাদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্ত বিষয় মুম্বাই শহরে তৈরী বিশেষ কেন্দ্র থেকে উপগ্রহ যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে সদা সক্রিয় অবস্থায় নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে.