মঙ্গলবারে রাশিয়ার বিপর্যয় নিরসন দপ্তরের বিশেষজ্ঞের দল যাঁরা জাপানে ত্রাণের কাজে যোগ দিতে গিয়েছেন, তাঁদের সংখ্যা সোমবারের তুলনায় বেড়ে প্রায় আড়াই গুণ বা ১৮০ জন হবে. সব মিলিয়ে উদ্ধার কর্মীর সংখ্যা ২০০ জনের বেশী হবে. বিদেশে কাজ করার জন্য এটি একটি অন্যতম বড় দল, যাঁরা ধ্বংস স্তূপের নীচ থেকে মানুষ উদ্ধারের কাজে গিয়েছেন.

প্রাথমিক ভাবে আসা ৮০ জনের দল এর মধ্যেই উদ্ধার কাজে নিরত বলে এই বিষয়ে রেডিও রাশিয়াকে জানিয়েছেন রাশিয়ার বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য দপ্তরের প্রধান ইরিনা আন্দ্রিয়ানভা, তিনি বলেছেন:

 "রাশিয়ার ত্রাণ কর্মীদের প্রাথমিক দল সেন্দাই শহরের কাছে কাজ করতে শুরু করেছে. ত্রাণ কর্মীরা তাঁদের ঘাঁটি তৈরী করে ফেলেছেন ও বর্তমানে সেই জায়গায় খোঁজ- নিচ্ছেন. তাঁরা ঠিক করে নিচ্ছেন, কোন জায়গা থেকে ত্রাণের কাজ শুরু করা যেতে পারে. জাপানের প্রশাসন তাঁদের বিমান বন্দরের কাছের জায়গা আলাদা করে দিয়েছে. আর রাশিয়ার কর্মীদের ঘাঁটি ফেলা হয়েছে শহরের সীমানা থেকে উত্তরে চার কিলোমিটার দূরে. শহরে যথেষ্ট ভয়াবহ ধ্বংস হয়েছে. বিশেষ ভাবে শহর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে প্রবল সুনামি ঢেউ এর ধাক্কায়, কারণ এটা হনসিউ দ্বীপের ঠিক উত্তর পূর্বের জায়গা".

মস্কো ও সুদূর প্রাচ্যের দলের কাছে রয়েছে তিনটি ত্রাণ ও উদ্ধারের গাড়ী, খোঁজ করার যন্ত্রপাতি, দুই সপ্তাহ ধরে স্বয়ং সম্পূর্ণ ভাবে চলার মতো তাঁদের কাছে থাকছে সমস্ত দরকারি জিনিস: পানীয় জলের ভাণ্ডার, খাদ্য দ্রব্য, ওষুধ পত্র, যোগাযোগের যন্ত্রপাতি, ডিজেল চালিত বিদ্যুত কেন্দ্র, যার শক্তি দিয়ে ত্রাণ ও উদ্ধারের যন্ত্রপাতি চালানো সম্ভব হবে.

মঙ্গলবারে জাপানে রাশিয়া থেকে আরও এক সার যন্ত্রপাতি পাঠানো হচ্ছে, যার মধ্যে বাড়ী, ঘর, কারখানা ধ্বংস হওয়ার পরে তার নীচ থেকে উদ্ধার করার কাজ করা সম্ভব হয় ও তার সঙ্গে রাসায়নিক ও পারমানবিক দূষণ নিরুপণের যন্ত্র পাতিও থাকছে. জাপানের অনুরোধে রসঅ্যাটম সংস্থা "ফুকুসিমা – ১" পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের আগুণ ধরে যাওয়া ও বিস্ফোরণে ধ্বংস হওয়া রিয়্যাক্টর গুলিকে বিপদ মুক্ত করার পরামর্শ দেওয়ার জন্য দল পাঠিয়েছে.

জাপানের পুলিশ আজ ছয় হাজার লোক মৃত ও নিখোঁজ বলে খবর দিয়েছে. এর আগে জানানো হয়েছিল যে, শুধুমাত্র মিয়াগি প্রশাসনিক এলাকাতেই নিহতের সংখ্যা দশ হাজার হতে পারে. সব মিলিয়ে জাপানের প্রাকৃতিক বিপর্যয়গ্রস্থ এলাকা থেকে চার লক্ষ ছেচল্লিশ হাজারেরও বেশী লোক ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন. অংশতঃ "ফুকুসিমা -১" পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের ২০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বের এলাকা থেকে সমস্ত লোকজনকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে. আর তিরিশ কিলোমিটার পর্যন্ত বিপজ্জনক জায়গায় বর্তমানে এক লক্ষ চল্লিশ হাজার লোক রয়েছেন.

এই পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে নতুন বিস্ফোরণ হওয়ার পরে মঙ্গলবারে রাশিয়ার সুদূর প্রাচ্যে প্রতি ঘন্টায় পারমানবিক বিকীরণের পরিস্থিতি পরিমাপ করে দেখা হচ্ছে. বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক রয়েছে, কোন রকমের স্বাস্থ্য হানীর আশঙ্কা নেই. এই রকম পরিস্থিতি জাপানের বিপর্যস্ত কেন্দ্র থেকে ৯১৩ কিলোমিটার দূরে নাখোদকা অঞ্চলেও, আর রাশিয়া কুনাশির দ্বীপ, যা ফুকুসিমা থেকে মাত্র ৮০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, য়েখানেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক. যান্ত্রিক ভাবে দেখা গিয়েছে যে, পারমানবিক বিকীরণ বর্তমানে স্বাভাবিকের চেয়ে দেড় থেকে তিন গুণ কম. প্রসঙ্গতঃ কামচাত্কা, সাখালিন, প্রিমোরস্ক ও খাবারভস্ক এলাকার একশটিরও বেশী নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে বর্তমানে কোন রকমের সূচকই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী হয় নি. আগামী তিন দিন সুদূর প্রাচ্যে হাওয়ার গতি একই দিকে থাকবে – রাশিয়া থেকে তা জাপান ও প্রশান্ত মহাসাগরের দিকেই যাচ্ছে.