এই রবিবারে একদল সন্ত্রাসবাদী যোদ্ধা স্বয়ংক্রিয় বন্দুক থেকে এক যাত্রী বোঝাই বাসে গুলি চালিয়ে দেশের উত্তর পশ্চিম অঞ্চলের হাঙ্গা নামের জায়গায় অনেক লোক মেরেছে. আটজন যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা গিয়েছেন ও আরও সাতজন আহত. পরে হাসপাতালে আহত দের মধ্যে আরও দুই জনের মৃত্যু হয়. করাচী শহরে তার একদিন আগে রাস্তায় পুস্তুন ও মুহাজিরদের মধ্যে সংঘর্ষে আরও দশ জন মারা যায়. পাকিস্তানের আভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে উঠেছে. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    ঐস্লামিক চরমপন্থীরা আরও পরিস্থিতিকে অগ্নিগর্ভ করে তুলছে. এই বিষয়ে আরও মনে করিয়ে দিচ্ছে কয়েক দিন আগে পাকিস্তানের পাঞ্জাব রাজ্যের রাজ্যপাল সালমান তসির ও জাতীয় সংখ্যালঘু দপ্তরের মন্ত্রী শাহবাজ ভাত্তি হত্যা. তাঁদের মারা হয়েছে, কারণ তাঁরা দুজনেই আল্লার নামে বাজে কথা বলার শাস্তিকে লঘু করতে বলেছিলেন, অর্থাত্ তার জন্য মৃত্যু দণ্ড আইন থেকে তুলে দিতে বলেছিলেন. শেষের এই ঘটনা গুলি থেকে আর তার মধ্যে হাঙ্গা বাস যাত্রী খুনের ঘটনাও রয়েছে, স্পষ্ট দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, দেশে চরম পন্থী উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে. ধারণা করা হয়েছে যে, এই হামলা করে থাকবে "লস্কর ও জাঙ্গির" যোদ্ধারা, দেশের এক বড় সুন্নী চরমপন্থী দলের লোকেরা. তাদের সদস্যরা ঘোষণা করেছে যে, শিয়া মুসলমানেরা মুসলমান নয় ও তাদের বিরুদ্ধে ক্রমাগত সন্ত্রাসবাদী হানা দিয়ে চলেছে. "লস্কর এ জাঙ্গির" যোদ্ধারা "তালিবান আন্দোলনের" সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ভাবে জড়িত ও এক সময়ে তাদের ঘাঁটিতেই প্রশিক্ষণ নিয়েছে.

    করাচী শহরে রাস্তায় সংঘর্ষ ঘটেছিল জাতি বিদ্বেষ জনিত কারণে. সেটা শুরু করেছিল দুটি স্থানীয় দল – "ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি", যারা পুস্তুন প্রজাতির লোকেদের স্বার্থ দেখে থাকে আর "মুতাহিদা কৌমি মুভমেন্ট", যারা ভারত থেকে চলে আসা লোকেদের এক করেছে.

পাকিস্তানের সমাজের চরমপন্থী হয়ে যাওয়া চালু রয়েছে যেমন ধর্মীয় তেমনই প্রজাতি গত বিভেদের কারণে. এই তীক্ষ্ণ হয়ে ওঠা বিরোধ দেশকে সম্পূর্ণ ভাবে ভারসাম্য হীণ করে দিতেই পারে. এই প্রসঙ্গে প্রক্রিয়া গুলির উপরে প্রভাব অবশ্যই ফেলেছে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, এই কথা মনে করেছেন রাজনীতিবিদ আঝদার কুরতভ.

তিনি বলেছেন: "ঐস্লামিক বিশ্বে সার্বিক ভারসাম্য হীনতা বর্তমানে বেড়েই চলেছে. নিকট প্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকাতে যে সমস্ত ঘটনা ঘটছে তা বিশ্বের বহু মুসলিম সমাজে প্রভাব ফেলেছে. তার মধ্যে পাকিস্তান রয়েছে, যেখানে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক দৈন্য এই পরিস্থিতিকে আরও ঘোরালো করে তুলেছে".

সত্যই পাকিস্তানে খাবার ও গাড়ীর তেলের দাম বাড়ছে, মূল্য বৃদ্ধি ক্রমাগত বেড়ে চলেছে, দেশের সামাজিক সমস্যা গুলি সমাধান হওয়ার আশা দেখা যায় না. বিগত দুই বছরে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক দেনা বেড়ে হয়েছে শতকরা ৪৬ ভাগ ও বর্তমানে তা প্রায় ১০৫ বিলিয়ন ডলার.

ক্রমবর্ধমান সমস্যা গুলিকে চরমপন্থী ঐস্লামিক যোদ্ধারা নিজেদের স্বার্থে দেশের ভারসাম্য নষ্ট করতে ব্যবহার করছে, তারা জাতি, ধর্মীয় নানা ধরনের বিরোধের আগুণ লাগাচ্ছে. সবচেয়ে নিরাশা বাদী ঘটনাচক্রে এর ফলে রাষ্ট্র ধ্বংস হয়ে যেতেও পারে.