রাশিয়ার আলেকজান্ডার সামোকুতিয়ায়েভ, আন্দ্রেই বরিসেঙ্কো ও নাসার রোন্যাল্ড গারান সইউজ মহাকাশ যানে চড়ে ৩০ শে মার্চ আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন. গাগারীনের প্রথম উড়ানের রজত জয়ন্তী বর্ষে মহাকাশ যাত্রার জন্য আন্তর্বিভাগীয় পরিষদ এঁদের মহাকাশ স্টেশনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন. ১৭ই মার্চ ওঁরা বৈকানুর যাবেন নিজেদের বদলী দুই রুশ ও আরও একজন মার্কিন মহাকাশচারীকে সঙ্গে নিয়ে. কোন দল ১৭১ দিন ব্যাপী এই মহাকাশ সফরে যাবে, সেটা প্রধান না বদলী, তার সিদ্ধান্ত যাত্রা শুরু এক দিন আগে শেষ পর্যন্ত নেবে সরকারি পরিষদ.

এই রজত জয়ন্তী উড়ানের দিকে সারা বিশ্বে আগ্রহ হয়েছে. গাগারীন নামাঙ্কিত এই মহাকাশ যানের উড়ানের দিনে বৈকানুরে বহু রুশ ও বিদেশী অতিথি আমন্ত্রিত. সেখানে ফরাসী গায়ানা থেকে ১২ বছরের সেই ছেলেটিও থাকবে, যে এই মহাকাশ যানের প্রতীকটি এঁকেছে. মহাকাশচারীদের মধ্যে একমাত্র রোন্যাল্ড গারান এর আগে শাটল চড়ে মহাকাশ সফর করেছেন, রুশ মহাকাশচারীদের এটা প্রথম সফর, আর তা ঠিক করা হয়েছে ইচ্ছে করেই, এই কথা বলেছেন রসকসমস সংস্থার প্রধান আনাতোলি পের্মিনভ, তিনি ব্যাখ্যা করে বলেছেন:

"এই উড়ানে আলেকজান্ডার সামোকুতিয়ায়েভ ও আন্দ্রেই বরিসেঙ্কো প্রথম মহাকাশের সঙ্গে পরিচয় করবেন. সেই সমস্ত ছেলেরা, যাঁরা প্রথমবার মহাকাশ যাত্রায় যান, তাঁদের পুরুষকার ও লক্ষ্য সাধনের উদ্দেশ্য থাকে বৈশিষ্ট্য পূর্ণ. অনেক কাজ যা করতে হবে, তা আগেই জানা. সেখানে তিনটি মালবাহী যান ও দুটি শাটল পৌঁছবে. মহাকাশ স্টেশন আরও বড় হবে, এর আগের শাটল একটি নতুন মডিউল নিয়ে এসেছে, আমরা এখন কাজ করছি, আমাদের ল্যাবরেটরী মডিউলের উপরে, যা ২০১২ সালে আশা করছি জুড়ে দেওয়ার".

জয়ন্তী বলে মহাকাশচারীদের উপরে বাড়তি চাপ থাকবে. আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকে সরাসরি টেলিভিশনে খবর পাঠাতে হবে, যেখানে টেলিভিশন ক্যামেরা চালক ও পরিচালকের দায়িত্ব বর্তাবে, বহু অভিনন্দন গ্রহণও করতে হবে. জয়ন্তীর দিন ১২ই এপ্রিল, মহাকাশচারীরা পোস্টম্যানের দায়িত্ব নেবেন ও মহাকাশ স্টেশনে বসে পাঠানো চিঠির খামের উপরে আঁটা স্ট্যাম্পে এই দিনের জন্য বানানো বিশেষ সীল মারবেন. এছাড়া নিজেদের ছাত্রদের বানানো ছোট উপগ্রহ "রেডিওস্কাফ" কক্ষপথে পৌঁছে দিতে হবে. মহাকাশের নানা ধরনের ছোট বড় জড় বস্তু ছাড়াও এই উপগ্রহ থেকে বিশ্বের সতেরোটি ভাষায় মহাকাশ থেকে উত্সবের অভিনন্দন পাঠানো হবে ও দেশের মহাকাশ গবেষণার পথিকৃত কনস্তানতিন শিয়ালকোভস্কি ও সের্গেই করোলিয়ভের কন্ঠস্বর প্রচারিত হবে. যাঁদের আলট্রা শর্ট ওয়েভ রেডিও আছে, তাঁরা এই অনুষ্ঠান শুনতে পারবেন. এই রেডিওস্কাফ উপগ্রহের পরীক্ষা মূলক উড়ান ইউনেস্কো সংস্থার পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে. আপনা হতেই জয়ন্তী বর্ষের অনুষ্ঠান ইন্টারনেট ডায়েরীতেও থাকবে, যা ঐতিহ্য মেনেই মহাকাশচারীরা লিখে থাকেন. এই ডায়েরী দেখতে পাওয়া যাবে রসকসমস সংস্থার সাইটে.

আসা করা হয়েছে, যে "গাগারীন" আগে থেকে নির্ধারিত সময়েই পাঠানো সম্ভব হবে- আবহাওয়ার পূর্বাভাষ আপাততঃ ভালই. কিন্তু তার আগে যাঁরা মহাকাশে কাজ সেরে ফিরে আসছেন, তাঁদের আগে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনতে হবে, তাই রসকসমস সংস্থার প্রধান উল্লেখ করেছেন:

"তাঁরা উদ্বিগ্ন, প্রায়ই অসময়ে, বিশেষত রাতে আমাকে সরাসরি ফোন করছেন, আমি তাঁদের সঙ্গে মনের জোর দেওয়ার জন্য কথা বলি. আপনাদেরও যদি মহাকাশে কোন কারণে বিরক্ত লাগে আপনাদের কাজ করার সময়ে, আমাকে সরাসরি ফোন করবেন, আমি আপনাদের মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা করে দেব. আমার হাস্য রসের বোধ ঠিকঠাক".

পৃথিবীর কথা মহাকাশচারীদের সব সময়ে মনে পড়িয়ে দেবে নিয়ে যাওয়া বাড়ীর লোকেদের ছবি ও ছোটখাট জিনিস, যা তাঁরা সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন. তার একটা হল – ছোট্ট তুলো ভর্তি কুকুর, এক মহাকাশচারীকে তাঁর মেয়ের দেওয়া উপহার. এই কুকুর মহাকাশযানের কেবিনে যে ভাবে ভেসে বেড়াবে, তার থেকেই বোঝা যাবে যানটি কক্ষপথে পৌঁছেছে কিনা.

জয়ন্তী বর্ষের মহাকাশ অভিযাত্রীরা বিশ্বে মহাকাশ সম্বন্ধে দ্রুত আগ্রহ বৃদ্ধির সময়েই যাচ্ছেন. প্রতিদিনই রসকসমস সংস্থা চিলি, আর্জেন্টিনা, আফ্রিকার নানা দেশ, থাইল্যান্ড ইত্যাদি থেকে রকেট প্রযুক্তি ও মহাকাশচারী পাঠানোর প্রস্তাব পাচ্ছেন. আমাদের এত মহাকাশচারীই নেই – কৌতুক করে বলেছেন আনাতোলি পের্মিনভ. তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, রাশিয়াতে এই বছরকে মহাকাশ বর্ষ হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে, তাই বলেছেন:

"১২ই এপ্রিল দেশের সমস্ত স্কুলেই মহাকাশ প্রসঙ্গে ক্লাস হবে. আমি নিজেও কোন একটা স্কুলে যাবো. রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, দেশের সমস্ত নেতারাই এই দিনের অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন. পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সারা বছর ধরেই নানা অনুষ্ঠান করা হবে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লোকেরা ঠিক করেছেন তাঁদের মস্কো শহরের দূতাবাসে গাগারীনের প্রথম মহাকাশ ভ্রমণ উপলক্ষে এক অতিথি বরণ অনুষ্ঠান করার".

আনাতোলি পের্মিনভ খুশী হয়ে বলেছেন যে, আমরা ঠাণ্ডা যুদ্ধের সময়ের ধরাবাঁধা সম্পর্কের বাইরে বেরোতে পেরেছি, এটা আনন্দের বিষয়, যতই অল্প বয়সী সাংবাদিকেরা আমাদের তাতে জড়াতে চান না কেন. বিভিন্ন ধরনের কাজ মহাকাশে করা সম্ভব যত না বিভিন্ন দেশের আলাদা ভাবে, তার থেকে অনেক বেশী করা যেতে পারে একসাথে করলে. আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের অভিজ্ঞতা এই কথাই সমর্থন করে. সেই পথেই চলা দরকার.