সোমবারে রাশিয়ার ৭৫ জন বিশেষজ্ঞ জাপানে ত্রাণের কাজে যোগ দিতে চলেছেন. মস্কো ও খাবারভস্ক থেকে দুটি বিপর্যয় নিরসন দপ্তরের দল ইল – ৭৬ ও মি – ২৬ হেলিকপ্টারে চড়ে ভূমিকম্পে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাতে পৌঁছে যাচ্ছেন. এই বিষয়ে রেডিও রাশিয়াকে জানিয়েছেন রাশিয়ার বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য দপ্তরের প্রধান ইরিনা আন্দ্রিয়ানভা, তিনি বলেছেন:

 "রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির নির্দেশে বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয় জাপানে ভূমিকম্প বিধ্বস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণের জন্য কর্মী পাঠাচ্ছেন. রবিবারে ত্রাণ কর্মী পাঠানোর জন্য আমাদের কাছে জাপানের তরফ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে. আর রাশিয়া তৈরী রয়েছে এই ধরনের সাহায্য করার জন্য. আমাদের উদ্ধার কর্মীরা কাজ করবেন দুই সপ্তাহ ধরে স্বয়ং সম্পূর্ণ ভাবে. এর জন্য তাঁদের কাছে থাকছে সমস্ত দরকারি জিনিস: পানীয় জলের ভাণ্ডার, খাদ্য দ্রব্য, ডিজেল চালিত বিদ্যুত কেন্দ্র, যার শক্তি দিয়ে ত্রাণ ও উদ্ধারের যন্ত্রপাতি চালানো সম্ভব হবে".

রাশিয়ার উদ্ধার কর্মীদের দল গুলির কাছে খোঁজ করার উপযুক্ত সমস্ত যন্ত্রই রয়েছে, হাইড্রলিক যন্ত্র, কংক্রীট ফাটিয়ে ফেলার মত যন্ত্র সব কিছুই, এই কথা উল্লেখ করে সুদূর প্রাচ্যের আঞ্চলিক বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয় দপ্তরের উপপ্রধান লেফটেন্যান্ট ইগর দেমচিশিন বলেছেন:

"আমাদের ত্রাণ কর্মীদের জন্য এই কাজ কঠিন নয়. হারিয়ে যাওয়া, ধ্বংস স্তূপের নীচে চাপা পড়ে থাকা আহত লোকেদের সেখান থেকে উদ্ধার করা, প্রাথমিক শুশ্রূষা করা. তারপরে – এই সমস্ত লোকেদের জাপানের সরকারি লোকেদের হাতে তুলে দেওয়া হাসপাতালে পাঠানোর জন্য".

শুধুমাত্র আপাত দৃষ্টিতে করা হিসাব অনুযায়ী জাপানের এই বিধ্বংসী ভূমিকম্পে মারা গিয়েছেন ও নিখোঁজ দুই হাজারেরও বেশী লোক. দেশের সরকার স্বীকার করেছে যে, এই সংখ্যাও বাড়বে. রাশিয়ার ত্রাণ কর্মীরা বিশ্বাস করেন যে, ভেঙে পড়া বাড়ীর নীচ থেকে জীবন্ত লোকেদের উদ্ধার করার জন্য আরও চার পাঁচ দিন সময় রয়েছে. আজ যাঁরা জাপানে যাচ্ছেন উদ্ধার কাজে সাহায্যের জন্য, তাঁদের অভিজ্ঞতার ঝুলিতে রয়েছে বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় উদ্ধারের কাজ, তা যেমন ভূমিকম্পের পরে, তেমনই সুনামি হয়ে যাওয়ার পরেও. সদ্য বিগত সময়ে যে সমস্ত জায়গায় প্রাকৃতিক বিপর্যয় হয়েছিল, তার মধ্যে রয়েছে – ২০০৪ সালে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া, ২০০৫ সালে পাকিস্তান, ২০০৮ সালে দক্ষিণ চিন, ২০১০ সালে হাইতি.

রাশিয়া জাপানকে বাড়তি জ্বালানী দিয়েও সাহায্য করতে চেয়েছে. এই অনুরোধ এসেছে জাপানের কাছ থেকেই. এখানে প্রাথমিক ভাবে এল পি জি রয়েছে, যা সাখালিন থেকে পাঠানো হচ্ছে. সোমবার সেখান থেকে "গ্র্যান্ড মেরেয়া" নামে জাহাজ ১ লক্ষ কিউবিক মিটার গ্যাস নিয়ে রওয়ানা দিচ্ছে. একই সঙ্গে রেড ক্রস সংস্থার তরফ থেকেও সাহায্য পাঠানো হচ্ছে.

রাশিয়া এর আগেও বহুবার দেশের বাইরে বিধ্বংসী ভূমিকম্প, সুনামি ইত্যাদির পরবর্তী ফল থেকে উদ্ধারের কাছে সাহায্য করেছে, তাই জাপানের এই দুর্দিনে প্রথম সাহায্য করতে এগিয়ে আসা দেশ গুলির মতই সাড়া দিয়েছে. আজ জাপানকে সাহায্য করতে বিশ্বের ৬৯ টি দেশের থেকে উদ্ধার কারীরা এগিয়ে গিয়েছেন. ধ্বংস হয়ে যাওয়া জায়গাতে এখনই কাজ করছেন অস্ট্রেলিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, নিউজিল্যান্ড, গ্রেট ব্রিটেন, চিন ও দক্ষিণ কোরিয়ার দল.

0রবিবার সন্ধ্যায় ভ্লাদিভস্তক বন্দর থেকে জাপানের দিকে ত্রাণ করার গাধাবোট রওয়ানা দিয়েছে সুনামির ফলে অগভীর জলে আটকে পড়া জাহাজের রুশ নাবিকদের উদ্ধারের জন্য. ১৫জন নাবিকের মধ্যে ১৩জনকে জাপানী এক মাছ ধরার ট্রলারে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে. আশা করা হচ্ছে, তাঁরা রাশিয়ার পাঠানো গাধাবোটে উঠে পড়বেন, কারণ বন্দরে যাওয়া এখন সম্ভব নয়. দুইজন নাবিক বর্তমানে স্বাস্থ্য উদ্ধার কেন্দ্রে রয়েছেন.