জাপানে প্রাকৃতিক দূর্যোগের তৃত্বীয় দিনে ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি  পরিমান ও হতাহতের সংখ্যা লোকজনের কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠতে থাকে.শুধুমাত্র মিয়াগি শহরেই ভূমিকম্প ও সুনামিতে নিহতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে.

শুক্রবার শক্তিশালী ভূমিকম্প ও পরবর্তিতে সমুদ্রের পানি ১০ মিটার উচ্চতায় প্লাবিত হয়ে যে সুনামি সৃষ্টি করেছে তা জাপানের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রলঙ্ককারী প্রাকৃতিক দূর্যোগ বলে রেকর্ড করা হয়েছে.বিশেষজ্ঞরা গবেষনায় জানতে পেরেছেন যে,রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ৮.৯ ছিল না, তা ছিল ৯.তবে পারমানবিক শক্তিকেন্দ্রের বিস্ফোরণ যা পরিস্থিতিকে আরও বেসামাল করে তুলেছে.শনিবার‘ফুকুসিমা’নামের একটি পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে বিস্ফোরণের পর এর তেজস্ক্রিয়তা চারিদিকে ছাড়িয়ে পরে.রবিবার সংবাদে জানানো হয় যে,‘ফুকুসিমা’পারমানবিক কেন্দ্রে নতুন করে বিস্ফোরণের আশঙ্কা করা হচ্ছে.জাপানে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে দুর্ঘটণা প্রতিরোধ করতে রাশিয়া যে কোন ধরনের সাহায্য করতে প্রস্তুত রয়েছে.

রবিবার রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয় জানিয়েছে যে,জাপানে ভূমিকম্প ও সুনামির কারণে হতাহতদের তালিকায় কোন রুশি নাগরিক নেই.রাশিয়ার দুরপ্রাচ্য অঞ্চলে সুনামি আঘাত হানার সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিষয়ে নজরদারির জন্য জরুরি সহায়তা মন্ত্রনালয়ের বিশেষ টিম কাজ করছে.   

জাপানের নিকটবর্তী এই সাখালিন অঞ্চলের রাশিয়ার জরুরি সহায়তা মন্ত্রনালয়ের প্রতিনিধি আলেক্সান্দার ইভেলচেকি বলেছেন “জাপানে পারমানবিক কেন্দ্রে দূর্ঘটনার পর সাখালিন অঞ্চলের পারমানবিক শক্তি কেন্দ্রের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে.তবে এখানে পারমানবিক কেন্দ্রের তেজস্ক্রিয় প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রয়েছে.হানসিউ দ্বীপের  বাতাসের গতি প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে.তবে জাপানের ‘ফুকুসিমা’পারমানবিক কেন্দ্র থেকে নির্গত তেজস্ক্রিয়তা সাখালিন  অঞ্চলে বসবাসকারিদের ওপর কোন ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে না”.

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই জাপানকে সহযোগিতার প্রস্তাব আসছে.ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র,যুক্তরাজ্য,ফ্রান্স,চীন,নিউজিল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশ থেকে উদ্ধারকারী দল জাপানে পৌঁছেছে.জাপানে পাঠানোর জন্য রাশিয়ার ২০০ জন উদ্ধারকর্মীসহ চিকিত্সক,বিমান ও হেলিকপ্টার তৈরী আছে.‘ফুকুসিমা-১’পারমানবিক কেন্দ্রে বিস্ফোরণের পর জাপান অতিরিক্ত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের জন্য রাশিয়াকে অনুরোধ করেছে.উপ-প্রধানমন্ত্রী ইগর সেচিনার ভাষায়,রাশিয়া জাপানকে ১৫০ হাজার টন প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে প্রস্তুত রয়েছে.