জাপানে স্মরণকালের ইতিহাসে সবচেয়ে ধ্বংসাত্বক ভূমিকম্পর জন্য দায়ী থাকতে পারে চন্দ্রের অবস্থান ও সূর্যের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি.রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে এমনই মতামত জানালেন রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমির ভৌগলিক ইনস্টিটিউটের সহকারি পরিচালক আরকাদি তিশকোভ.

১১ মার্চ মধ্য ও উত্তর-পূর্ব জাপানে রিখটার স্কেলে ৮.৯ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে.ভূমিকম্পের উত্তপত্তিস্থল ছিল উত্তর-পূর্ব প্রান্তের অন্যতম দ্বীপ হানসুইউে.ভূমিকম্পের পরই ১০ মিটার উচ্চতার ঢেউয়ে উপকূলীয় অঞ্চল তছনছ হয়ে গেছে.এরপরই ২য় বার আবারও ভূমিকম্প আঘাত হানে.এর ফলে কয়েকশ মানুষ নিহত হয়েছে,শহরগুলোতে পর্যাপ্ত ক্ষতি হয়েছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোটাই অচল হয়ে পরেছে.এই ভূমিকম্পর জন্য দায়ী থাকতে পারে চন্দ্রের অবস্থান ও সূর্যের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি.এমনই মতামত জানালেন রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমির ভৌগলিক ইনস্টিটিউটের সহকারি পরিচালক আরকাদি তিশকোভ.তিনি বলেছেন “বিজ্ঞানে একটি সূত্রই আছে,পৃথিবীতে ভূমিকম্প-সংক্রান্ত ক্রিয়া-কলাপের সাথে সূর্যের কার্যক্রমের সরাসরি সংযোগ রয়েছে.সূর্য থেকে নির্গত প্রোটোনের তীব্রতা যা পৃথিবীর প্রাকৃতিক কার্যক্রমকে প্রভাবিত করে.এটি হচ্ছে প্রথম বিষয় এবং ২য়টি হচ্ছে,চন্দ্র ও পৃথিবী একই কক্ষপথে খুব কাছাকাছি অবস্থান করবে.এই বিষয়গুলি সূর্যকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে এবং ফলশ্রুতিতে সূর্য সমুদ্রে তীব্র ঢেউয়ের সৃষ্টি করে”.

বিশেষজ্ঞের ভাষায়,পৃথিবী থেকে চন্দ্র বর্তমানে ৩৫০ হাজার কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থান করছে.বিগত কয়েক দশকের মধ্যে এটি হচ্ছে সবচেয় নিকটবর্তী অবস্থান যা পৃথিবীর ভূত্বকের উপর এক বিশেষ প্রভাব ফেলছে.এছাড়া গত কয়েক বছর যাবত সূর্য প্রচন্ড উত্তপ্ত রয়েছে.সাম্প্রতিক সময় একের পর এক শক্তিশালী চৌম্বক আকর্ষন যার প্রভাব দেখতে পেয়েছে পৃথিবীতে বসবাসকারী প্রতিটি মানুষ.আরকাদি তিশকোভ বলেছেন ”যদিও এই যোগাযোগ হয়ত সর্বদাই ঘটবে না কিন্তু এর প্রভাব আমরা প্রায় এমনকি সর্বদাই দেখতে পাই এবং আগামী ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল যা আগ্নেয়গিরি ও ভূকম্প ঘটার সম্ভাব্য পরিধি”.

নতুন পূর্বাভাস শুধুমাত্র জাপানের জন্যই হুঁমকি নয়.এই আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে রাশিয়ার ভূখন্ডের সাখালিন,কামচাটকা ও কুরিল দ্বীপে.রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের অঞ্চলে সুনামি প্রথম আঘাত হেনেছে তবে তা তেমন শক্তিশালী ছিল না.এই অঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় সমুদ্রের পানির উচ্চতা ২ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে.তবে তাতে জানমালের কোন ক্ষয়ক্ষতি হয় নি.তবে তা সত্বেও আরকাদি তিশকোভ ধারনা করছেন,এই অঞ্চলে ভূমিকম্প আঘাত হানার বিপদজনক সম্ভাবনা রয়েছে.রাশিয়ার জরুরি সহায়তা মন্ত্রনালয় উদ্দারকারী দল তৈরী রেখেছে,নিয়মিতভাবে তথ্য সংগ্রহ করছে এবং ঐ অঞ্চলসমূহে বিশেষ ক্যাম্প বসানো হয়েছে.