গ্রেট ব্রিটেন গাদ্দাফির বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেতৃত্ব দিতে পারে. বিগত কিছু কাল ধরে শুধু অর্থনৈতিক সমস্যা নিয়ে ব্যস্ত ডেভিড ক্যামেরন ঠিক করেছেন সামরিক পরিকল্পনা কারির ভূমিকায় নিজেকে পরখ করে দেখতে. ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী নিকট প্রাচ্যের পরিস্থিতি সম্পর্কে গভীর জ্ঞানের পরিচয় দিয়ে খুবই জোরের সঙ্গে লিবিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারী করতে বলেছেন – এমনকি সামরিক অনুপ্রবেশ করতেও উত্সাহ দিচ্ছেন. লন্ডন থেকে বিশদ বর্ণনা করছেন – এলেনা বালায়েভা.

 ব্রিটেনের সংবাদ মাধ্যম বর্তমানে ক্যামেরনের নাম দিয়েছেন ব্লেয়ারের উত্তরাধিকারী, তারা বর্তমানের সংরক্ষণশীল দলের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে তাঁর পূর্বসূরি লেবার পার্টির প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর অনুকরণ লক্ষ্য করতে পেরেছেন. এক সময়ে ব্লেয়ার অকম্পিত ভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করেছিলেন ইরাকে সেনা দল পাঠানোর বিষয়ে. এখন ক্যামেরন তৈরী হয়েছেন লিবিয়ার স্বৈরতন্ত্রী শাসকের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নেতৃত্ব দিতে.

প্রভাব শালী সংবাদপত্র "ফাইনান্সিয়াল টাইমস" উল্লেখ করেছে যে, ক্যামেরনের এই যুযুধান রূপে পরিবর্তন দেখে দেশের সেরা স্ট্র্যাটেজি নির্মাতারা নিজেরাই উদ্বিগ্ন. কারণ একমাত্র তাঁর প্রস্তাবেই দেশের সরকার গত বছরে সামরিক ক্ষেত্রে খরচ কমিয়েছিল ও আফগানিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় সীমা নিতে বাধ্য হয়েছিল. এখন প্রধানমন্ত্রী পারলে প্রত্যেক দিনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ফোনে কথা বলছেন ও তাঁকে গাদ্দাফির বাকি অংশ ধ্বংস করার বিষয়ে একসাথে সক্রিয় হওয়ার জন্য জোর দিচ্ছেন. তাঁরই সমর্থনে ইউরোপীয় সংঘের বর্তমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রী – ব্রিটেনের ব্যারনেস লেডি অ্যাস্টন – ন্যাটো জোটের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করছেন লিবিয়ার বায়ু সীমা উড়ান মুক্ত করানোর সম্ভাবনা নিয়ে.

তা ডেভিড ক্যামেরনের হলটা কি? সাংবাদিকদের মতে, তিনি ভয় পেয়েছেন যে, গাদ্দাফি যদি আবার লিবিয়ার শাসনে বহাল হতে পারে, তবে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসের রাজনীতিতেই ফিরে আসবে, কিন্তু এবারে আসবে আরও বড় মাপের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে. তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী মনে করেছেন যে, বর্তমানে তাঁর সঙ্গে জোট বাঁধার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নেতারাও আছেন. সে শুধু বারাক ওবামাই নন, বরং নিকোল্যা সারকোজি ও. বৃহস্পতিবারে শেষের জনও "যুযুধান ঈগল পাখী" তে পরিনত হয়েছেন. তিনি হঠাত্ করেই (তার মধ্যে ইউরোপীয় সংঘের নেতৃত্বও রয়েছেন) লিবিয়ার বিরোধী পক্ষের আইন সম্মত হওয়ার বিষয়ে স্বীকৃতী  ঘোষণা করে বসেছেন এবং আরও যোগ করেছেন যে তৈরী আছেন গাদ্দাফির সেনা বাহিনীর উপরে প্রয়োজনে নির্দিষ্ট জায়গায় আলাদা করে আঘাত হানার ব্যাপারে.

সারকোজির নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ইউরোপীয় সংঘের নেতৃত্ব ঘোষণা করেছেন যে, এটা "প্যারিসের সার্বভৌম অবস্থান" – আর ইউরোপীয় সংঘ আইনত এই বিষয়ে কোন রকমের সম্পর্ক রাখে না. একই সময়ে বিভিন্ন দেশের সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেছেন যে, আন্তর্জাতিক সামরিক অনুপ্রবেশ বোধহয় লিবিয়া আর এড়াতে পারল না. ত্রিপোলির আকাশ পথ বন্ধ করে দেওয়ার জন্য সব কিছুই তৈরী, এই কথা উল্লেখ করে ভূ রাজনৈতিক সমস্যা সংক্রান্ত একাডেমীর ভাইস প্রেসিডেন্ট লিওনিদ ইভাশভ বলেছেন:

"বিমান বাহী যুদ্ধ জাহাজ "এন্টারপ্রাইজ" এর মধ্যেই সেখানে পৌঁছতে চলেছে, আরও যুদ্ধ জাহাজের দল ও বিমান বিরোধী ব্যবস্থা সহ ভাসমান বন্দর লিবিয়ার সমুদ্র উপকূলের দিকে এসে গিয়েছে. আর, অবশ্যই এই সমস্ত কিছু এমনকি কোন রকমের স্থল পথে অনুপ্রবেশ ছাড়াই গাদ্দাফির রেডিও অবস্থান নির্ণয় ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিতে পারে, সমস্ত বিমান বন্দরকে অকেজো আর উড়ান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দফা রফা করে দিতে সক্ষম".

জেনারেলের এই মতের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত হয়ে জার্মানীর সামরিক বাহিনীর প্রাক্তন সাব লেফটেন্যান্ট ইউরগেন রোজে বলেছেন:

"স্রেফ প্রযুক্তিগত ভাবে এই ধরনের সামরিক কাজ করা যেতেই পারে. এর আগেও ইরাকের উত্তরে ও দক্ষিণে তথাকথিত উড়ান বিহীণ এলাকায় এই রকমের কাজ করা হয়েছিল. যদি গাদ্দাফির যুদ্ধ বিমান ও বোমারু বিমান গুলি আকাশে ওড়ার চেষ্টা করে, তবে তাদের নামিয়ে দেওয়া হবে ও তার জন্য নিজেদের উপরে বিমান বিরোধী শক্তির আলাদা করে কোন বিপদ ডাকতে হবে না. অথবা, তার থেকেও বেশী ফলপ্রসূ হতে পারে বিমান বন্দর গুলির উপরে আঘাত হানলে, বিমান বন্দরেই দাঁড়িয়ে থাকা যুদ্ধ বিমান বিনা বাধাতেই ধ্বংস হয়ে যাবে. লিবিয়ার সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা সীমাবদ্ধ, তাত্ত্বিক ভাবে তারা ও তাদের পুরনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কোনই সুযোগ নেই এর বিরুদ্ধে কিছু করার মতো".

বহু বিশেষজ্ঞের মতেই সামরিক ভাবে লিবিয়ার উপরে আকাশ বিমান চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেওয়া কঠিন নয়. কিন্তু এক্ষেত্রে সমাধান হতে পারছে না শুধু রাজনৈতিক বিষয় টুকুই. সেটা ন্যাটো জোট ও ইউরোপীয় সংঘে সন্দেহ নেই যে, বিচার করে দেখা হচ্ছে. ন্যাটো জোট থেকে বলা হয়েছে যে, রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সহমত সিদ্ধান্ত না পেলে এই ধরনের কাজ করা হতে পারে না ও তা করার ইচ্ছাও নেই. এমনিতেই এই জোটের বর্তমানের বিশ্বে অবস্থান যথেষ্ট নড়বড়ে, তার উপরে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাছ থেকে হাত খোলা পাওয়ার আসাও কম, বহু দেশই ও তার মধ্যে স্থায়ী সদস্য দেশও রয়েছে, যারা এই ধারণার বিরুদ্ধে আপাততঃ মত প্রকাশ করেছে.